হাসিনার বেঁচে থাকার মানে, প্রতিদিন মৃত্যুর আতঙ্ক

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডের রায় হয়েছে। এটা সারা বিশ্বের নিকট আইনিভাবে স্বীকৃত এবং প্রমানিত। যারা এখনো আওয়ামি লীগের এবং হাসিনা-স্বপ্নে বিভোর, প্রকৃতভাবে তারা চায় আওয়ামি লীগ খুব তাড়াতাড়ি বিলিন হোক এবং হাসিনাকে ফাঁসির ঋজুতে না ঝুলানো পর্যন্ত তাদের এই নির্লজ্জ, জ্ঞানহীন বেহায়াপনার শেষ হবে না। কিন্তু হাসিনা পালিয়ে আছে হিন্দুস্তানে (ভারতে), আর তার কর্মীরা মার খাচ্ছে দেশের সকল স্থানে। এখন তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা নিয়ে এখন নানা আলোচনার জন্ম। একদিকে ভারত হাসিনাকে দিচ্ছে না, অপরদিকে তার চোরাগুপ্তা কথাবার্তাও চলছে। আসলে হাসিনার এসব প্রলাপ বা কথাবার্তা ভয়ের কারনে। কারন মানুষ ভয়ের কারনেই অন্ধকারে চিৎকার করে গান গায়।
পনের মাস আগে যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৫ মাস পর আজ সে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী।
যারা ভাবছেন পলাতক হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায় গুরুত্বপূর্ণ না। হাসিনা ভারতের কোলে বসে আছে, দেশে নাই, উপস্থিত নাই মানে ফাঁসি দিতে পারবে না। এ ধারনা করা স্বাভাবিক, তবে এ ধারনা যারা করছেন, আপনাদের ধারনা এবং ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল । এই রায়ের সবচেয়ে তাৎপর্য এবং গুরুত্তপুর্ণ দিক হল, এটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় যেটা বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তদন্তে হাসিনার খুন এবং মানবতা বিরোধী অপরাদে অপরাধী, যা সারা বিশ্ব স্বীকৃত। অর্থ্যাৎ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের নিকট ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি বলে পরিচিত। ভারত হাসিনাকে যতরকম সহায়তা দিক না কেন, তার এখন খোলামেলা চলাচল সম্পুর্ণ অনিরাপদ এবং ঝুকিপুর্ণ। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তার দিন ততই পুরিয়ে আসছে। হাসিনার আন্তর্জাতিক অপরাধের যে কয়েকটি রায় হয়েছে। তা কার্যকর করা নিয়েই এখন সর্ব মহলে আলোচিত। এই রায়ের বিশেষ বিশেষ কিছু তাৎপর্য হল ঃ
প্রথমত, এমুহুর্তে ভারতে বসে হাসিনা কোন অবস্থাতেই এই রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে পারবে না! অর্থ্যাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে হলে আসামীকে নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে গ্রেফতারের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করতে হবে, যার কোন অপসন তার কাছে নাই এবং এর সময়সীমা ৩০ দিন, এরপর আপিল করার সকল সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত, ভারত কখনো হাসিনাকে ফেরত দিবে বলে মনে হয় না। যে কোনভাবে দেশে আনা সম্ভব হলে কিংবা সে স্বীয় ইচ্ছায় দেশে আসলেই রাতারাতি ফাঁসি কার্যকর করতেও আইনি কোনো বাঁধা থাকবে না। আসামী নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে রায়ের বিপক্ষে আপিল করতে না পারলে সে আর আপিল করার কোন সুযোগ পাবে না।যেমন: ২০২০ সালে শেখ মুজিব হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী কলকাতা ফেরত ক্যাপ্টেন মাজেদকে যেভাবে গ্রেফতার করে রাতারাতি ফাঁসি কার্যকর করেছিলো ঠিক তেমনটাই হাসিনার ক্ষেত্রে হওয়াও অস্বাভাবিক কোন ব্যপার নয়! সবচেয়ে বড় কথা হইলো হাসিনা এখন আন্তর্জাতিক ভাবে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ফেরারি আসামি। হাসিনা ইচ্ছে করলেই বর্তমানে ভারত কিংবা অন্য কোন দেশে ওপেনলি চলাচল করতে পারতে পারার কোনই সুযোগ নাই। তারমানে হাসিনা যতোদিন বেঁচে থাকবে বন্দী এবং আতঙ্কিত জীবনই পার করতে হবে অর্থ্যাৎ তাকে লোকচক্ষুর অন্তরালেই থাকতে হবে।
অপরদিকে অলরেডি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ভারত সহজেই মেনে নিলেও তারা বলেও দিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের পাশে ভারত সবসময় থাকবে। হয়তো হাসিনারে গোপন করে রাখবে নয়তো ফেরত কিংবা অন্য দেশে গোপনে পাঠিয়ে দিতে চেষ্টা চালাবে। এখন বাকি আছে জাতিসংঘ আর ইন্টারপোলের বিবৃতি। যে কোন ভাবে যদি ইন্টারপোল গ্রেফতারি পরোয়ানার অনুকুলে রেড এলার্ট জারি করে, তাহলে হাসিনাকে পৃথিবীর আর কোন দেশে আশ্রয় দিবে না বা দেয়া কোন সুযোগ থাকবে না এবং শেষ পর্যন্ত তাকে ভারতে পালিয়ে থেকেই জ্বলে পুড়ে কষ্ট নিয়ে মরতে হবে। যেখানে গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর চারদিন পুর্বেও হাসিনা দম্ভকরে বলেছিল, শেখ হাসিনা পালায় না। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, একথা বলার তিন দিনের মাথায় তাকে পদ-পদবি ছেড়ে পালিয়ে বাঁচতে হল, তার আর ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার খায়েস পুরন হল না। অথচ মানুষ সবকিছু করে জীবনের শেষ সময়ে সামান্য সুখে থাকার জন্য। সেই সুখটাও হাসিনার কপালে লেখে নাই।
এদিকে মাত্র ওঈঞ প্রেস রিলিজ দিলো, দন্ডপ্রাপ্ত আসামির কোন বক্তব্য, কথা, লেখা প্রচার করা বা সরাসরি সম্প্রচার বাংলাদেশে দন্ডনীয় অপরাধ। তারমানে হাসিনার কোন কথা বাংলাদেশের পত্রিকাতে ছাপানো হবে না। ভিডিও কোন মিডিয়া প্রচার করবে না। আস্তে আস্তে দেখবেন, দেশে বিদেশে কতো নিষেধাজ্ঞা দিবে। যেটা ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলা থেকেও জঘন্যতম কষ্টদায়ক। এর ফলে সামনে আওয়ামিলীগের রাজনীতিসহ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ ক্রমান্ময়ে নি:শেষ হওয়ার দোর গোড়ায়। সবচেয়ে বড় কথা হইলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের মধ্য দিয়ে অফিসিয়ালি হাসিনা এবং আওয়ামিলীগের পায়ের তলার মাটি সরে গেলো!!! তারমানে হাসিনার বেঁচে থাকা হল প্রতিদিন মৃত্যুর আতঙ্ক।
এদিকে বিশ্লেষন করতে গেলে দেখা যায়, হাসিনা ভারতে পালিয়ে আছেন, ভারত তাকে দিচ্ছে না, দেবে না, রায় দৃষ্টে ফাঁসি দেয়া যাচ্ছে না-তার মানে তিনি আপাতত জানে বেঁচে গেছেন? কিন্তু তার রাজনৈতিক মৃত্যু এরইমধ্যে হয়েই গেছে। বেঁচে রয়েছে ভীত সন্ত্রস্ত দেহটা। এই বেঁচে থাকা তিনি বা তার দলের কাছে লজ্জার না গৌরবের? তবে, জাতি হিসেবে এটা দুর্ভাগ্যের যে এই মাটিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে বলে। আবার গৌরবের এ কারণে যে, এ মাটির মানুষই সেই অপরাধী চক্রকে দেশ ছাড়া করেছে। পালানো বা দেশ ছাড়ার পর অপরাধকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব বর্তে জাতির ওপর।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ছিচকে চুরি বা যেনতেন হত্যা কিংবা নির্যাতনের নয়। এগুলোর বেশিরভাগই মানবতাবিরোধী অপরাধ। তা কেবল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ই নয়, টানা জবরদস্তিমূলক শাসনামলের পুরোটা সময় গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ জঘন্য নানা অপরাধ তিনি করেছেন। কিছু করেছেন নিজে, কিছু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, বাকিগুলো সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে। পরিকল্পিত নির্যাতন, বিনাশ, গায়েবি মামলার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বাইরে লুট-চুরি-চামারিসহ দেশবিরোধী, সমাজবিরোধী হেন অপকর্ম নেই যা না করেছেন। আশঙ্কা ছিল তা চলবেই, চলতেই থাকবে, কমপক্ষে হলেও ২০৪১ সাল বা তার স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত। বাস্তবতা হলো, একটু দেরিতে হলেও এর পরিণতিতে তাকে দেশ ছেড়ে প্রাণ বাঁচাতে হয়েছে। এ গণ-অভ্যুত্থান এক অভাবনীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে পৃথিবীর ইতিহাসে। কোনো রকম মারণাস্ত্র ছাড়া রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে শুধু নৈতিক শক্তিকে পুঁজি করে নেমে যাওয়া মানুষ সেই ইতিহাসের জন্মদাতা।
এখন প্রশ্ন, ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে দিচ্ছে বা দিবে বলে মনেহয় না, তাইলে এই রায় কি শেষ পর্যন্ত রায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে? না কি তাকে দেশে এনে রায় কার্যকর করা যাবে। ভারত তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আশ্রয়- প্রশ্রয় ও নিরাপত্তা দেবে। সেখানে থেকে সামনের দিনগুলোতেও উসকানি দিয়েই যাবেন তিনি। যেমনটি রায় ঘোষণার আগের দিনও গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে মারাত্মক হুমকি দিয়েছেন। সামনে আরো দেবেন। গন্ডগোল পাকাবেন। তবে হাসিনার বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। কারন জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্ব মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো কোনো অপরাধে কারও অনুপস্থিতিতে বিচার আন্তর্জাতিক মানদন্ডের বরখেলাপ হিসেবে দেখে তারা। আবার জাতিসংঘের তদন্ত রিপোর্টেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে উচ্চমাত্রায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্ণনা আছে। যেসব অপরাধের সিদ্ধান্ত, নেতৃত্ব, পরিচালনা এবং সমন্বয়ের ক্ষেত্রে হাসিনাই প্রধান ব্যক্তি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০-র মতো ছাত্র-জনতা হত্যার তথ্য এসেছে। ৩০ হাজারের মতো মানুষ আহত; যাঁদের অনেকেই চোখ হারিয়েছেন, হাত-পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব আহত-নিহতের পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষোভ রয়েছে আওয়ামী লীগ তথা হাসিনার ওপর। গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতের এ দাগ মুছে যাবে, এটা মনে করারও কারণ নেই। কিছু বিদেশি, আওয়ামী লীগ বা দলটির অন্ধ হিতাকাঙ্খী যে যা-ই বলুক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায় খুবই অর্থবহ এবং গুরুত্বপুর্ণ। তারা যতই অবৈধ রায়ই বলুন তা বদলাতে হলে তাদেরকে ক্ষমতায় আসতে হবে, এগুলি তাদের শিক্ষা এবং জ্ঞানের অপুর্ণতা। এসব জ্ঞানান্ধ এবং দলকানা লোকগুলি জানে না, নৈতিক এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় হাসিনার মৃত্যু হয়েছে, সেই সাথে দল হিসেবে আন্তর্জাতিক আদালতে আওয়ামী লীগের বিচার হওয়ার কথা প্রাধান্যতায় আছে, যার প্রমান হিসেবে দলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ পলাতক বা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে কারাগারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কোন পথে সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। কিন্তু দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব অনমনীয়, তাঁদের মধ্যে অনুশোচনা নেই। তাই বলে বাংলাদেশে ফিরে এসে শেখ হাসিনা আবার মায়াকান্না করে আবেদন গড়বেন, দল চালাবেন, আপাতত সেই লক্ষণ নেই। পারবেন অডিও-ভিডিওতে পরাজিত চেহারা দেখাতে। ভ্যাংচি দিয়ে নানা উসকানি ছড়াতে। তিনিসহ সেই সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতরা কোনোভাবে তাঁদের দায় স্বীকারে যাবেন না।
হাসিনার ফাঁসির রায়ে বা ফাঁসির দন্ড কার্যকর হলেও ২০২৪ এর আন্দোলনে যে মায়ের বুক খালি করেছে এবং যে বাবার সন্তানকে কেড়েনিয়েছে তাদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় এবং পূরণ হবে না কোন দিনও। তবু সান্ত¡না হাসিনার ফাঁসির দন্ডের রায়ে দেশে অন্তত ন্যায় বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মূল হুকুমদাতা হিসেবে হাসিনা আসাদুজ্জামান খান কামালের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে মাঠপর্যায়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো আরো অনেকে ছিলেন। হাসিনার বিচারের রায়ের মাধ্যমে আবু সাঈদ-মুগ্ধদের বিচারের পথে একটা ধাপ পার হয়েছে। বহু শহীদ পরিবার এখনো বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে যারা হাসিনা আমলের আতঙ্কের ছিল বিরুদ্ধ মত দমনের হাসিনা নামক হাতিয়ার গোটা সমাজকে একটা দমবন্ধ করা অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। হাসিনা পালানো পরবর্তী সময়ে গুমবিষয়ক কমিশনের নেতৃত্বে অনেক রোমহর্ষ নির্যাতনের বর্ণনা সামনে এসেছে। নানা সংশয়ের পরও বিচার শুরু হয়েছে গুমে জড়িত ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাসহ অন্যদের। এ বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যম দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই হত্যার মামলার নামে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখার বাস্তবতার কথা মনে রাখা প্রয়োজন। অজ্ঞাতনামা আসামির নামে আওয়ামী আমলে আওয়ামী লীগের যে মামলা বাণিজ্য চলেছে, জুলাইপরবর্তীতে দেশের মানুষ তা থেকে মুক্তি পায়নি, শুধু নির্যাতকদের পরিচয় পাল্টেছে মাত্র। জুলাই শহীদ পরিবারগুলি ন্যায়বিচার প্রার্থী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনার মৃত্যুদন্ডের রায়ের পর আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের গুটিকয়েক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী যে মনোভাব দেখাচ্ছেন মনে হয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া তাদের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন পলাতক সরকারের জ্ঞ্যান ্ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদেশে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে স্থগিত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ সবার সামনে, কিন্তু দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের কারোরই অনুশোচনা নেই।
তবে ভারতের কুটকৌশল বুঝার মত কোন জ্ঞ্যানশক্তি আওয়ামী সমর্থিত কারো আছে বলে মনে হয় না। কারন ভারত জানে, হাসিনাকে ফেরত দিতে গেলে এটাই হবে সারা বিশ্বের নিকট ভারতের শেষ পরাজয়, এবং হাসিনাকে নিয়ে রাজনীতির বহু খেলাই ভারত খেলেছে এবার এ খেলার ফাঁদে বাংলাদেশের আরো একটা বড় দলকে সংযোযিত করতে পেরেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বেরিয়ে আসছে।
ভারতের এসব পরিকল্পিত কর্মসূচিতে দলটির নেতা-কর্মীদের সক্রিয় রাখতে হাসিনাও অনলাইনে বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেছেন, যদিও আন্তর্জাতিক আইনে আছে, মানবতাবিরোধী অপরাদ বা যুদ্ধাপরাধে কোন ব্যক্তি যে কোন দন্ডে দন্ডিত হলে দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বিশ্বের কোন দেশ আশ্রয় দিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে হাসিনা আগেই পালিয়েছিল। দলটির শুদ্ধতার কথা বললেও তারা তা স্বীকার করে না। তবে এটা সত্য, ভারত হাসিনাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে শেষ মুহর্ত পর্যন্ত শেষ চেষ্টা করে যাবে, শেষ পর্যন্ত সফল হতে না পারলে ভারত নিজের দেশেই হাসিনাকে গোপনে নিঃশেষ করে দেবে। যেমনটা করেছিল সিকিমকে ভারতের সাথে অর্ন্তভুক্তির জন্য লেন্দুপ দর্জির সাথে। সিকিমের রাজা লেন্দুপ দর্জির চরম পরাজয় এবং মৃত্যুর করুন ইতিহাস এদেশের সকলেরই জানা আছে, একমাত্র আওয়ামী বোদ্ধারা ছাড়া।
এখন প্রশ্ন, আওয়ামী লীগ পুনরায় আসতে পারবে কি-না প্রশ্ন। তবে, আসতে হলে, হয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে, না হয় জাতির নিকট করজোরে ক্ষমা চেয়ে। হয়তো এর কোনটাই তাদের আর সম্ভব নয় এবং ছাত্র জনতাও তা হতে দিবে না। এদিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত রায়ের বিষয়টি অবগত আছে ভারত। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভুক্তি ও স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ সুরক্ষায় ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সব অংশীজনের সাথে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে নয়াদিল্লি।
অথচ দলীয় প্রধানসহ পলাতক সরকারের কেন্দ্রীয় বহু নেতা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। পালাতে না পারা অনেকেই এখন কারাগারে। কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি কাউকে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। পলাতক নেতাররাও আছে আতঙ্কে। বিশেষ করে ভারতে থাকা নেতারা দলীয় সরকারের পতন ও দলের বর্তমান অবস্থার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছেন। বর্তমান খারাপ সময়ে নানা উস্কানির ফলে নিজেদের মধ্যে বিতর্কিত নেতাদের গ্রুপও তৈরি হয়েছে, দলীয় এসব আওয়ামী লীগের নেতারা হাসিনার মৃত্যু এবং দল নিশ্চিহ্ন না হওয়া পর্যন্ত অন্ধত্বই থেকে যাবে…..