অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং পেশা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বহুদিন ধরে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ জন্য নিরলস কাজ করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় দ্য লাইব্রেরিয়ান টাইমসের কথা। সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্য লাইব্রেরিয়ান টাইমস যৌথভাবে এ পেশাসংশ্লিষ্টদের উন্নয়নে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারটির শিরোনাম ছিল ‘কোলাবোরেশন অ্যান্ড নলেজ শেয়ারিং: এনরিচিং এলআইএস এডুকেশন, রিসার্চ অ্যান্ড প্রফেশনস ইন বাংলাদেশ’। ২৭ জুন ২০১৮, রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এ আলোচনা সভাটি। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের প্রথম সাপ্তাহিক বুলেটিন দ্য লাইব্রেরিয়ান টাইমস।
সেমিনারের শুরুতে দ্য লাইব্রেরিয়ান টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক প্রদীপ রায় অস্ট্রেলিয়া থেকে অনলাইনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
দুটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনারটি। প্রথম অংশের শিরোনাম ছিল ‘লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স এডুকেশন: দি ইউএসএ পারস্পেকটিভ’। এ সেশনটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ডোমিনিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইনফরমেশন স্টাডিজের প্রভাষক ড. হাসান জামির। এতে তিনি গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষণপদ্ধতি, গবেষণা, গ্রন্থাগারসেবা, প্রফেশনাল অ্যাফিলিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রে গ্রন্থাগার পেশার কর্মবিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। মূলত ওই দেশটিতে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও অর্থায়ন সুযোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। উপস্থাপনা শেষে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন ড. হাসান জামির।
দ্বিতীয় সেশনটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম। ‘পোটেনশিয়াল সাউথ এশিয়া (এসএ) চ্যাপটার ইন এএসআইএসঅ্যান্ডটি: হোপ ফর এলআইএস কমিউনিটিজ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি। ড. আনোয়ার তার প্রবন্ধে পেশাগত উন্নয়নে দি ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশন ফর দি ইনফরমেশন এজের (এএসআইএসঅ্যান্ডটি) ভূমিকাসহ প্রকাশনা, গবেষণা, নেটওয়ার্কিং প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত শ্রোতাদের এ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হওয়ার উপকারিতা, বিশ্বের নামকরা গবেষকদের সঙ্গে কীভাবে নেটওয়ার্কিং করা সম্ভব, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া, চ্যাপটার রোল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার বৃত্তি পাওয়ার উপায় প্রভৃতি বিষয়ে সম্যক ধারণা দেন ড. আনোয়ার।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকপূর্ব শিক্ষাবিষয়ক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. নাসিরউদ্দিন মিতুল সেমিনারটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে যোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছে। গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পেশায় আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইনফরমেশন স্টাডিজ অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টের চেয়ারপারসন ড. দিলারা বেগম তার বক্তব্যে বাংলাদেশে গ্রন্থাগার পেশার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান।
সেমিনারে বাংলাদেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞানের অনেক শিক্ষার্থী, গবেষক, পেশাজীবী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে অনলাইনে সরাসরি কয়েকজন গ্রন্থাগারবিজ্ঞানী এতে অংশ নেন। উপস্থিত শ্রোতাদের অনেকে নানা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ড. হাসান জামিরের শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতা জানতে পারেন। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশের তথ্যবিজ্ঞান পেশাজীবীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় সেমিনারটি।












