

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের চেয়ার কলঙ্কমুক্ত হবে কবে তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া হয়তো কেউ বলতে পারবে কি না, আমার জানা নেই। বীমাখাত নিয়ে দেশের সরকার তথা অর্থমন্ত্রনালয়সহ দায়ীত্বশীল কারো কোন মাথা ব্যাথা আছে বলে পরিলক্ষিত হয়নাই। অবস্থা দেখে মনে হয় যেনো “এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই।” বারবার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয় আবার চেয়ারের মানুষগুলিও পরিবর্তন হয় শুধু-কিন্তু মানুষগুলির স্বভাব তথা গুনগত মানের কোন পরিবর্তন হয়না, অর্থ্যাৎ যে যায় লঙ্কা, সে হয় রাবন। আচ্ছা, রাবন আর কতদিন হবে? এর কি আর কোনদিন পরিবর্তন হবেনা? আমরা কি আর কোনদিন মানুষ হবো না? ধুর-ছাই, কি বলতে যেনো কি বলি, আমরা কি এখন মানুষ না? হাঁ মানুষ তবে ‘মান’ এবং ‘হুশ’ ছাড়া। মানুষ শব্দের তাৎপর্যিক অর্থ তো বিশাল আকারের। আর মানুষ হয়েই বা লাভ কি? মান-সম্মান আর ন্যায়নীতিবোধ নিয়ে বাঁচতে গেলে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আর সম্পদতো অর্জন করা যায় না। বর্তমান সময়ে সাধারনত মানুষকে অতীতের মত মান সম্মান নিয়ে এখন কাউকে কথা বলতে তেমন একটা শোনা যায় না। যার টাকা আছে, সম্মান এখন তার হাতের মুঠোয়, যা টাকা দিয়ে ক্রয় করেই অর্জন করতে হয়, হোক অর্থ সম্পদ বৈধ বা অবৈধ, তাতে কি।
এবার আসি চেয়ারের কথায়, কেউ কেউ চেয়ারকে অলঙ্কিত করেন আবার কেউ কেউ চেয়ারকে কলঙ্কিত করেন । পার্থক্যটাতো তেমন একটা বেশি না, স্বরবর্ণ আর ব্যজ্ঞনবর্ণের খেলা, স্বরবর্ণের প্রথম অক্ষর ‘অ’ এর জায়গায় শুধু ব্যজ্ঞনবর্ণের প্রথম অক্ষর ‘ক’ বসিয়ে দিলেই হয়, বেশ হয়ে গেল, ৫২ তে অনেক রক্ত দিয়েইতো আমরা এই ভাষা অর্জন করেছি। এই ভাষার মানতো রক্ষা করতে হবে।এখানে অ আর ক এর পার্থক্য। একটা স্বরবর্ণের জায়গায় একটা ব্যঞ্জনবর্ণ লাগিয়ে দিলাম, তাতে কি? সবইতো আমাদের। চেয়ারের জায়গায়তো চেয়ার রয়েই গেল। আসলে যত দোষ, নন্দ ঘোষ। আমরা সবই করতে পারি, শুধু এই নন্দঘোষকে আজও তাড়াতে পারিনাই অতীত থেকে আজ পর্যন্ত এবং ভবিষ্যতেও পারব কিনা জানি না…!!!

আমরা কি চেয়ারের পরিবর্তন আনতে পারিনা? চেয়ার যেখানে সমস্থ নষ্টের এবং অপকর্মের মুল উৎপত্তিস্থল, এই চেয়ার এবং চেয়ারের পাওয়ারইতো যত চোর, গুন্ডা, বদমাইশ, কর্মকর্তা, কর্মচারি, অফিসার, সচিব, আমলা, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রীসহ দেশের আইন সৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর চেয়ার এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের চেয়ারও এর থেকে বাদ যায় নাই। তাইলে এই চেয়ারই কি সর্বক্ষেত্রে সর্ব রকম অপকর্মের মুল কারিগর? যদি হয়েই থাকে তবে আমরা আমাদের দেশে কোন চেয়ার রাখতে চাই না বা চেয়ার থাকবেনা বলে চেয়ারবিহীন দেশ ঘোষনা করতে পারিনা কেন? চেয়ার যতসব অপকর্মের মুলউৎস বলেইতো সম্প্রতি আমাদের দেশের একটা অবৈধ স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রীয় পলিসি তৈরিকারী শিক্ষিত সর্বোচ্চ চেয়ারধারী ব্যক্তিসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিগন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও দেশের কৃষক, শ্রমিক, মুজুর, দেশের সুশীল সমাজ, কবি, লেখক, সাহিত্যিক সমাজের যারা চেয়ারের চিন্তা না করে চেয়াবিহীন কাজ করে দেশকে মর্যাদার আসনে টিকিয়ে রেখেছে, তারাতো পালিয়ে যায়নি, কোন অপকর্মে লিপ্ত হয়নি, এমনকি বিদেশে অর্থপাচারসহ দেশ থেকে কোন অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে আমরা দেখতে পাই,“যতবড় পদ ততবড় অপকর্ম, ততবড় দুর্নীতি।” আর আমাদের সচিব/আমলারাই এসবের মুল উৎপাদনকারী এবং উৎস। ভিডিও লিঙ্কসংযুক্ত : https://www.facebook.com/shere/v/1BiRA3fthp/

সম্প্রতি দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সরকারের আমলে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত চার জন সদস্য এক যোগে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক বিভাগ সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের চেয়ারকেও কলঙ্কিত করে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী নিজেও কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে বাধ্যতামূলক পদত্যাগ করিয়ে (অর্থ্যাৎ যাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বোচ্চ চেয়ার থেকে সরিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আওতাধিন সাধারন বীমার চেয়ারে বসিয়ে দেয়া এক কথায় অর্ধচন্দ্র দিয়ে চেয়ার থেকে জলচকিতে বসিয়ে দেয়া) এর বিপরীতে এ পদের জন্য দুই বৎসর অবসরে থাকা নতুন করে বীমাশিল্পে অভিনব জ্ঞানের উদ্ভাবক সিনিয়র সচিব ড. এম আসলাম আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় ড. এম আসলাম আলম ব্যাংক ও আর্থিক সেক্টরে অনেক দিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে বিধায় তাঁর কার্যক্রম শক্তিশালী করার জন্য বীমা শিল্পে দক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রশিক্ষিত এবং বীমা শিক্ষায় ভাল জ্ঞান সম্পন্ন যোগ্য লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলে ধরা গেলেও পলাতক সরকারকে সুবিধা করে দেওয়া ও সুবিধাভোগী এবং হাল সময়ের এসব উল্লেখিত খাতের সমালোচিত (চাকুরী রক্ষার কারনে সামনা সামনি কেউ কিছু বলেনা) ব্যক্তি হিসেবে ড. আসলাম আলমের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বীমা শিল্পে বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সত্যিকার অর্থে একটি কার্যক্রম টিম গঠন করা সম্ভব বলে মনেকরা হলেও নিকট অতীতে যারা বীমা শিল্পে দীর্ঘ দিনের জমে থাকা আবর্জনা বানিয়ে সুযোগ সন্ধান করেছিল, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বীমা শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার ফাঁকাবুলি ছেড়ে বীমা শিল্পকে নিজেদের স্বার্থের বলিদান করে রেখেছিলেন, এসব তথ্য পাওয়ার পর তারাই এখন বলাবলি করতে শোনা যায়, ‘যার কারনে বীমা শিল্পে আজকের এই বেহাল দশা, ড. এম আসলাম আলম এর থেকে ব্যতিক্রম নয় বলে সুশীল সমাজসহ বীমাখাতের অনেকের নিকট এটা একেবারে খোলামেলা এবং পরিস্কার। এটা নিকট অতিতে পালিয়ে যাওয়া সরকারের আমলা থাকাকালিন সময়ের দিনের ভোট রাতে কেটে নেওয়া, জমি ও ফ্লাট ক্রয় এবং বরাদ্দের কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদকের তদন্তজালে আটকানো থেকে অলৌকিক সুবিধাভোগী যে কয়েকজনের নাম বেরিয়ে আসছে, ড. আসলাম আলম তাদের ভিতরের অন্যতম একজন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত যার তথ্য এবং ভিডিও চিত্রসহ অর্থনীতির ৩০ দিন এর অনুসন্ধানী টিমের হাতে সংগ্রহিত রয়েছে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় ….
তিন (৩) পর্বের ধারাবাহিকের আজ ২২ জুলাই ২০২৫ রবিবার প্রকাশিত হল ১ম পর্ব
চলবে…
জমি ও ফ্লাট বরাদ্দের কেলেঙ্কারি, দুদকের তদন্তজালে আবদ্ধতা, বীমা কোম্পনীর এমডি/সিইও নিয়োগ অপসারন, কোম্পানীগুলিকে শাস্তি ও বড় অঙ্কের জরিমানা নিয়ে ২য় এবং ৩য় পর্বের দিকে চোখ রাখুন অর্থনীতির ৩০ দিন বিডিডটকম অনলাইন এবং ম্যাগাজিনের পাতায়…












