ছোট গল্প :”ভালোবাসার শেষ কোথায়”

(দুষ্টি কলম” টা আমাকে ছাড় দেয় না, কেন যে আমার সারাদিন লিখতে ইচ্ছে হয়, সেটা আমি নিজেও বুঝিনা, যখন দেখি পেটে বোমা মারলেও একিট শব্ধ বেরিয়ে আসার কোন যোগ্যতা নাই, তখন বুঝি, আসলে আমাকে দিয়ে কিছুই হবেনা শুধু অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া…।)
                                                                      …………………………………….খোন্দকার জিল্লুর রহমান।
                           
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-

ঝপাৎ করেই রাস্তায় যমে থাকা কাদাপানি ছিটিয়ে প্রাইভেট গাড়িটা পাশ কেটে চলে গেল। বাজার শেষ করে অবচেতন মনে ফুটপাত দিয়ে হেটে আসার সময় মনে মনে তৈরি করা একটা স্মিৃতি চোখের সামনে ফুটে উঠে, তারই পরিকল্পনা করতে করতে হেটে আসার পথে ছিটানো কাদাটা শৈল্পিক মনের কল্পনাটাকে নয়, যেন চাকায় নিজের শরিরটাকেই পিষে দিয়ে গেল মুহুর্তেই। মনে মনে নিজের প্রতি নিজের রাগটা যেন অধিকতর বেড়ে গেল। নিয়ম হল পথচারি, কাদাপানি ও কর্দমাক্ত রোডে স্লো করে গাডি চালাতে হয়। বুঝলাম নুন্যতম শিক্ষা ও ট্রেনিং ছাড়া ড্রাইভিং এমনই এবং এদের মত ড্রাইভারদেরকে যারা লাইসেন্স প্রদান করে তাদের নিকঠ দেশপ্রেমের মুল্যায়ন কতটুকু আর মানুষের জীবনের মুল্যায়নই বা কতটুকু? ট্রেনিং এর ই বা কি দরকার, যেখানে দেশের একজন দায়ীত্তশীল মন্ত্রী বলেছিলেন, গরু ছাগল,গাধা আর মানুষ চিনতে পারলেই লাইসেন্স দেওয়া যায়, সেখানে আমার মত একজন সাধারন নাগরিকের এসব কষ্টে কার কি আসে যায়। রাগে ক্ষোবে গাড়ির চাকায় ছিটানো কাদাপানিটা সহ বাজারের ব্যাগটা নিয়ে বাসায় ফিরলেন, দরজা নক করতেই ছোট মেয়ে দরজা খুলেই বাবার এই অবস্তা দেখে মুখের হাঁসিটা সামলে রাখতে পারলনা, পিক করে হেঁসে দিল বাবা তোমার এ অবস্থা করল কে.. ! মেয়ের আর্চয্য রকম হাসিতে অত সময় পুষে রাখা রাগ আর বিরক্তি ভাবটাকে মেঘ কেটে যাওয়া স্বচ্ছ নিল আকাশের মত পরিস্কার করে নিজেও একটু মুচকি হেসে গার্মাক্ত শরীর ও কাদা জড়ানো পোশাকে বাজারের ব্যাগটা হাতে করে ড্রয়িং রুম বেড রুেম পেরিয়ে কিচেনের তাকের সাথে রেখে ওয়াশরুমে ডুকে গেলেন রকিব সাহেব (সব ছদ্ধনাম ব্যাবহার করা হয়েছে)। কাদা ও ময়লাযুক্ত পরিদেয় বস্ত্র পরিবর্তন করতে করতেই দেখলেন আদরের ছোট মেয়ে লুঙ্গি এবং গামছা নিয়ে ওয়াশরুমের দরজার সামনে হাজির, নেও বাবা এ তোমার লুঙ্গি ও গামছা, একেবারে গা গোসল সেরে বেরিয়ে আস। ছোট মেয়ের বুদ্ধিমাত্তা ও কাজ কর্মের সফলতায় বাবা ছোট মেয়ের প্রতি একটু দুর্বলই থাকতেন। বড় মেয়ের প্রতি দুর্বলতাটা একটু অন্যরকম, জীবনের সফলতা ও স্বার্থকতার জন্য বাবা তার সমস্ত চেষ্টা আর ত্যাগকে একসাথ করে একটা স্তরে পৌঁছে দিয়েও নিজের মনের কাছে নিজেকে অপরাধি অপরাধি বলে মনে করেন রকিব সাহেব। মা মারা যাওয়ার পর থেকে মেয়েরা যাতে মা হারানোর কষ্টটা না বুঝে সে জন্য নিজের মনের সকল কষ্ট যাতনা নিজের ভিতরে রেখে কাউকে বুঝতে না দিয়ে একসাথে মায়ের ভুমিকা ও বাবার ভুমিকা পালন করে যাচ্ছেন। মেয়েদের জীবনের গতি যাতে কোনরকম বিপথে না যায় সেজন্য মায়ের জীবদ্ধসা পর্যন্ত বাবা মা দু জনেই এবং পরে বাবা এককভাবে মেয়েদের প্রতি নিবিড় চেষ্টা চালিয়ে গিয়েও নিজের প্রতি নিজেকে সফল মানুষ হিসাবে ভাবতে পারতেছেন না। মনের ভিতর একটা চাপা কষ্ট সবসময় লেগেই আছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মোটেও বুঝার কোন উপায় নেই।


প্রচুর আর্থিক সামর্থের কারণে স্ত্রীর চিকিৎসাটা রকিব সাহেব নিজের মনমত করতে না পারলেও মেয়েদের শিক্ষা ও সফল নারি হিসাবে জীবন গড়ে দেয়ার ব্যাপারে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করতে কোনরকম সঙ্কোচ বোধ করেন নাই, একই ভাবে মাও জীবিত থাকতে নিজের প্রতি কোনরকম খেয়াল না করে মেয়েদের জীবনের অগ্রগতিতেই নিয়োজিত ছিলেন। প্রৌড় বয়সের দ্বারপ্রান্তে এসে নিজের সুপ্ত ভালোবাসার একান্ত আপনজনকে হারিয়ে রকিব সাহেব সাময়িক হতাসা ও জীবনের কাছে পরাজয়ের সময়টা কাটিয়েই জীবনের আরেকটা স্তরে উপনিত হন, এবং অবচেতন মনে হেমন্তের গানের একটা লাইন গুনগুনিয়ে বলেন তুমি আজ ক ত দুরে তুমি আজ কত দুরে..। নিজের জীবনের মুল্যায়নটা কমে গেলেও মেয়েদের জীবনের সব পরিকল্পনা এবং সঠিক সময়ের সঠিক মুল্যবোধটা যাতে বিফলেনা যায় তার সবটুকুই কাজে লাগিয়েছেন। এতকিছুর পরও চাওয়া পাওয়ার ব্যাবধানে নিজের কাছে নিজে হেরে গেলেন রকিব সাহেব। তাই প্রত্যাসা ও প্রাপ্তির ফলাফলটা যদিও কখনো কখনো বড় মেয়ের প্রতি দেখানো হয় কিন্তু ভিতরে ভিতরে মেয়ের প্রতি অত্যধিক দুর্বল ছিলেন রকিব সাহেব, সেই দুর্বলতাকে চেপে রেখে মেয়ে ও তার আওলাদকে ঠিকই বুকের এক কোনে ঠাই দিয়েছেন, আর মনে মনে শৃষ্ঠিকর্তার নিকট পরিয়াদ করেন নিজের জন্য হলেও তুমি তাদেরকে সুখি রাখ। পারেনতো মেয়ে এবং তার আওলাদকে নিজের পছন্দ করা ছেলেসহ নিজের কাছে রাখতেন। কিন্তু বাস্তব অবস্তায় এটা সম্ভব নয়।
অনেক কষ্ট হৃদয়ে চেপে রেখেও বড় মেয়ের মত ছোট মেয়েকেও তার পরিকল্পিত লক্ষমাত্রায় পৌঁছে দেয়ার পুর্ব পর্যন্ত রকিব সাহেব একটুও বিচলিত হতে চাননা, কারণ মেয়েদের সুখের মাঝেই নিজের সুখ খুজতে চান রকিব সাহেব। সেই সাথে বাবাকে ভাল রাখার জন্য বাবার পছন্দের নতুন কাউকে সঙ্গেনিয়ে ভগ্ন পরিবারের সকলে মিলে একসাথে সুন্দর পারিবারিক জীবনে থ্কতে চান মেয়েরা। যেমন ঘরপোড়া গরু সিঁধুরে চাঁদ দেখলে ভয় পায়,তেমন রকিব সাহেবেরও একটা মানসিক ভীতি যে বেশী সুখ খুজতে গিয়ে যেন আবার জীবনে অশান্তি নেমে না আসে। প্রকৃত বাস্তবতা হল এডজাষ্টমেন্ট সবসময় ভালো কিন্তু রিএডজাষ্টমেন্ট করাটা একটু বেস কঠিন কাজই বঠে। একটা প্রবাদ আছে,“বর্গা গরু দিয়ে হালচাষ করে তৃপ্ত হওয়া যায়না, শুধু ঠেকার কাজ চালানো যায় এটাই সত্য” রকিব সাহেবেরও তাই। আসলে মানুষের মন কখনযে কি হয় কিছুই বলা যায়না, কখনো কখনো একটা কথাতেই মানুষ মানুষের জন্য জান দিতেও প্রস্তুত হয় আবার কখনো এক কথাতেই মানুষ সারা জীবনের জন্য বিগ্রীয়ে যায়। নিতান্তই বড় বিচিত্র মানুষের মন আর তারচেয়েও বিচীত্র আল্লাহর শৃষ্ট এই পৃথিবীটা। যে কোন পরিস্থিতিতে যেকোন পেিবশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার অসম্ভব মেধা ও গুন সম্পন্ন একজন পরাক্রমশালী ভালো মানুষ হিসাবে রকিব সাহেব কাঙ্খিত ভালোবাসার নিকট বার বার হেরে গিয়ে নিজেই আক্ষেপ করে বলেন ভয় হয় জীবনের বাকি কটা দিন একটু সুখে কাটিয়ে মরতে পারব কি না ? (নিজের প্রতিচ্ছবি)

লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন