
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
ডেল্টা লাইফের প্রথম প্রশাসক সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত,মাস্ক ক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলায় তাকে এই শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ২৩ মে ২০২২ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক এ আদেশ দেন।হিসাবটি যেন রক্ষকই ভক্ষকের ভুমিকায়, অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডেল্টা লাইফের ডিএমডি মনজুরে মাওলা, ইভিপি কামরুল হক এবং এম হাফিজুর রহমান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার আইনজীবি মো. রমজান আলী সরদার (রানা) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
জানা যায়, ডেল্টা লাইফ ২০২১ সালের মে মাসে লাজিম মিডিয়া থেকে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক কেনে। প্রতিটি ৫০ টাকা করে এই মাস্কের মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।যখন মাস্ক কেনা হয়, তখন ডেল্টা লাইফে প্রশাসক হিসেবে ছিলেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র সাবেক সদস্য সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা।
সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে মাস্ক কেনার জন্য নির্দেশে দেন বলে মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন ডেল্টা লাইফের পরিচালক জেয়াদ রহমান। সুলতান উল-আবেদীন মোল্লার সঙ্গে ডেল্টা লাইফের ডিএমডি মনজুরে মাওলা, ইভিপি কামরুল হক এবং এম হাফিজুর রহমান খান এ কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ করেন ডেল্টা লাইফের এই পরিচালক।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রথমে ঘুষ হিসাবে দুই কোটি টাকা দাবি করেন। পরিচালনা পর্ষদ অপারগতা প্রকাশ করায় পরে ১ কোটি টাকা এবং শেষপর্যন্ত ৫০ হাজার টাকায় নেমে আসেন। কিন্ত্তু এই দাবী আদায় করতে না পেরে ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লাকে ডেল্টা লাইফের প্রশাসক নিয়োগ দেন আইডিআরএ ।
আর্জিতে বলা হয়, সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা প্রশাসকের দায়িত্ব নেয়ার পর তার নির্দেশে ওই বছরের ৪ মে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ২ লাখ ১৫ হাজার পিস মাস্ক ৫০ টাকা হিসেবে ক্রয় করার জন্য ডেল্টা লাইফের কর্মকর্তা মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলা নোট প্রস্তুত করেন। কোম্পানির ক্রয়, সংগ্রহ এবং পেমেন্ট পদ্ধতি লঙ্ঘন করে ওই দিনই বিনা টেন্ডারে পলিসিহোল্ডার এবং কোম্পানির স্বার্থবিরোধী নোট সাবমিট এবং অনুমোদন করা হয়। পরদিন ৫ মে লাজিম মিডিয়ার কাছ থেকে কোটেশন গ্রহণ করে কার্যাদেশ দেয়া হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলার অনুমোদনে ২ লাখ ১৫ হাজার মাস্ক ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। যার প্রতিটির মূল্য ধরা হয় ৫০ টাকা, যা ওই সময়ের বাজার মূল্য অপেক্ষা আড়াইগুন বেশি। লাজিম মিডিয়াকে কার্যাদেশ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়। আসামিরা অনৈতিক উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এতে কোম্পানির পলিসিহোল্ডার এবং শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি করে নিজেরা লাভবান হয়েছেন।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’কে নির্দেশ দেন। পিবিআই তদন্ত করে সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা, মো. কামরুল হক এবং মো. মনজুরে মাওলার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৪০৮/৪২০/৩৪ ধারায় অপরাধ সত্য প্রমাণিত হয়েছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।












