
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :-
‘‘রুরাল টু গ্লোবাল ই-কমার্স পলিসি কনফারেন্স ২০২১’’ এর প্রথম সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক বলেন, এফ-কমার্স এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এর অংশগ্রহণ ক্রমেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্তত ৪ লক্ষ নতুন উদ্যোক্তা এফ-কমার্সের সাথে যুক্ত আছেন, তাদের জন্য এবং স্টার্ট আপ বিজনেস এর সাথে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ৪% সুদে সল্প ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে।
রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১ ভার্চুয়াল আয়োজনে তিনি বলেন, অনলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচারে রেগুলেশনের সাথে ডিরেগুলেশনের ব্যাপারটিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে যাতে করে নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। গ্লোবাল ই-কমার্সের প্ল্যাটফর্মে ১৬ টি ডমিনো ইফেক্ট ইস্যুকে লক্ষ্য রেখে সমাধান খুজে বের করতে হবে। এভাবেই বাংলাদেশ গ্লোবালি তার অবস্থান শক্ত করতে সমর্থ হবে। তিনি করোনাকালীন ই-ক্যাবের কর্মসূচীর প্রশংসা করেন এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
সকাল ১১ টায় পলিসি কনফারেন্স এর প্রথম সেশন উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী জনাব তাজুল ইসলাম এমপি। কী নোট উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হাফিজুর রহমান।
ই-ক্যাবের পলিসি কনফারেন্সে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড জাফর উদ্দীন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল কমার্স পলিসি বাস্তবায়নের কাজ করছে এজন্য ডিজিটাল কমার্স সেলও গঠন করা হয়েছে। ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশনা ২০২১’’ চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। আমরা সোস্যাল মিডিয়া কমার্স উদ্যোক্তাদের অন্তভূক্তি করার বিষয়টা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বিগত বছর করোনার শুরু থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
বিএফটিআই এর প্রধান নির্বাহী ওবায়দুল আযম বলেন, সোসাল মিডিয়া ভিত্তিক উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স এর বিকল্প হিসেবে একটি রেজিস্ট্রেশন প্রসেসে নিয়ে আসলে ক্রেতার আস্থা বাড়বে এবং এই বিশাল উদ্যোক্তা গোষ্ঠিকে সহযোগিতার করার রাস্তা বের করা যাবে। বেকারত্ব দূরীকরণে ই-কমার্সের পাশাপাশি এফ-কমার্স বড় ভুমিকা পালন করছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডেপুটি গর্ভনর ফারাহ মোঃ নাসের বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ক্রো সুবিধা বাস্তবায়িত হলে অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে ক্রেতাদের নিরাপত্তা বাঁধ তৈরী হবে। এবং ক্রসবর্ডার ই-কমার্সের পেমেন্ট সংক্রান্ত যে জটিলতা রয়েছে তাও একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হবে বলে তিনি জানান।
মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সাইয়েদ মোহাম্মদ কামাল, অনলাইন লেনদেন ক্ষেত্রে বিগত বছরে যে প্রবৃদ্ধি এসেছে তা ধরে রাখা দরকার। কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য আর্থিক লেনদনের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা নিশ্চিত করলে এই পরিস্থিতি আরো উন্নতি হবে।
বেসিস এর সভাপতি সৈয়দ আলমাছ কবীর বলেন, ই-কমার্সের ব্যপ্তি যেভাবে বাড়ছে এখনি একটি সুষ্ঠু নিয়মের মাধ্যমে আনা উচিত। এবং এখানে ‘‘ব্যাড আপেল’’ থাকলে তা সরিয়ে ভোক্তার আস্থা অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে কর্ম পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে অন্যান্য অতিথির মধ্যে আলোচনায় এটুআই এর পলিসি এডভাইজার আনীর চৌধুরী, বিল্ড এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট প্রফেসর বিএম মাইনুল হাসান এবং ধামাকা শপ এর এমডি জসিমুদ্দীন চিশতিসহ আরো অনেকে।
সকাল ১১ টায় পলিসি কনফারেন্স এর প্রথম সেশন উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কী নোট উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হাফিজুর রহমান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের অন্যতম উপায় হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। একথা সবসময়ের জন্য সত্যি। বর্তমান সময়ে শুধু যোগাযোগ আর নয় এখন তথ্য প্রযুক্তির মাধমে যে যোগাযোগ হয় সেটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমরা খাদ্য থেকে শুরু করে বিলাসীপণ্য সবকিছুতে আমরা ই-কমার্সের প্রতি ঝুঁকছি। প্রথমে স্বল্প পরিসরে হলেও বর্তমানে এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরী হয়েছে। আর আজকের এই ডিজিটাল জীবন যাত্রার উন্নতির জন্য ই-ক্যাব ও প্রাইভেট সেক্টর যেমনি কাজ করছে। তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং ভিশন ২০২১ এর সুফল।
মূল বক্তব্যে ডব্লিওটিও সেল এর মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইন্টারনেট খরচ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। বিশ্বে ই-কমার্সে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭ তম। একটি আন্তজাতিক সংস্থার সূত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন গত বছর বাংলাদেশে ই-কমার্স লেনদেন হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাশা করলেও বাস্তবে এটা আরো বেশী হবে। বাংলাদেশের ১.৩% লোক ই-কমার্সে কেনাকাটা করে।
ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সবিচ ড. জাফর উদ্দীন| অন্যান্য অতিথির মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিএফটিআই এর প্রধান নির্বাহী জনাব ওবায়দুল আযম, বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডেপুটি গর্ভনর ফারাহ মোঃ নাসের, মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সাইয়েদ মোহাম্মদ কামাল, বেসিস এর সভাপতি সৈয়দ আলমাছ কবীর, এফএনএফ এর কান্ট্রি ম্যানেজার ড. নাজমুল হোসাইন, এটুআই এর পলিসি এডভাইজার আনীর চৌধুরী, বিল্ড এর সিইও ফেরদৌস আরা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট প্রফেসর বিএম মাইনুল হাসান এবং ধামাকা শপ এর এমডি জনাব জসিমুদ্দীন চিশতি।










