দাবী পরিশোধে নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্সে কোম্পানিগুলোর আনুপাতিক হার

অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ : দেশের ৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দাবী পরিশোধে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। এ সময়ে মোট উত্থাপিত দাবীর মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ পরিশোধ করেছে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলো। অথচ বিগত বছরে একই সময়ে এই কোম্পানিগুলোর দাবী পরিশোধের হার ছিল ৩২ শতাংশ। তবে এ অবস্থার মধ্যেও জনতা ইন্স্যুরেন্স সবোর্চ্চ ৮৫.৮১ শতাংশ দাবী পরিশোধ করেছে। এ সময়ে সর্বনিম্ন দাবী পরিশোধের হার ০.১২ শতাংশ।
এ বছরে প্রথম তিন মাসে নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর অনিষ্পন্ন বীমা দাবির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪ শত ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ২৯৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
৪৬টি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির পাঠানো অনিরীক্ষিত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষন করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পযর্ন্ত তিন মাসে (প্রথম প্রান্তিক)) মোট অনিষ্পন্ন বীমা দাবি ৩ হাজার ৪৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সময়ে এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ২৯৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। গত বছর একই সময়ে দাবী পরিশোধের হার ছিল ৩২ শতাংশ।
আইডিআরএ’র তথ্যমতে, প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি বীমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে জনতা ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটি এ সময়ে উত্থাপিত বীমা দাবীর মধ্যে ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা বীমা দাবী নিষ্পত্তি করে। নিষ্পত্তির হার ৮৫.৮১ শতাংশ।
বাংলাদেশ সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ৭৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। তবে এ প্রতিষ্ঠানের নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ৩.৭৯ শতাংশ। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৯.৪৭ শতাংশ। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৪৬.৪৪ শতাংশ।
প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ২০ কোটি ৭৯ লাখ পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ১১.৭৯ শতাংশ। রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ১৪ কোটি ৬২ লাখ পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ১২.৪৬ শতাংশ। এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৪৯.৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ১০ কোটি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ২১.১৯ শতাংশ। ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ১০ কোটি ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৮১.১৬ শতাংশ।
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ২৫.৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৫৫.২৯ শতাংশ। রূপালী ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৫৫.৬১ শতাংশ। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৮.৪৬ শতাংশ। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৩৩.৫০ শতাংশ।
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৩.১৬ শতাংশ। ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৬৭.১৭ শতাংশ। তাকাফুল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৬১.০৫ শতাংশ। ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৩৩.২১ শতাংশ। ইসলামি ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ১১ শতাংশ। নিটল ইন্স্যুরেন্স ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৬০.০৪ শতাংশ।
অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স ৭২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। যার সিষ্পত্তির হার ৩০.০৬ শতাংশ। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৪০.০৪ শতাংশ। সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৪১.৪৪ শতাংশ। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ২৭.৬৩ শতাংশ। প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ৮.৮২ শতাংশ। এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। নিষ্পত্তির হার ১১.৩২ শতাংশ।
সবচেয়ে কম দাবি নিষ্পত্তি করেছে ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, শিকদার ইন্স্যুরেন্স ও সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ঢাকা ইন্স্যুরেন্স মাত্র ১.৫৯ শতাংশ দাবী নিষ্পত্তি করেছে। এ ছাড়া শিকদার ইন্স্যুরেন্স ০.১২ শতাংশ এবং সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ০.১৬ শতাংশ দাবী নিষ্পত্তি করেছে।












