“জন দৃষ্টি এড়াতে ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালক পর্দার অন্তরালে”।


‘নজরুল-খালেক গংদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাই যথেষ্ঠ নয়,ন্যায় বিচারের স্বার্থে গ্রেফতার ও আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো জরুরী’
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লুটপাটের ঘটনায় ৭ জন সাবেক পরিচালকের আদালতের রিটের কারনে সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক উভয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় বীমাখাতে যে তোড়পাড় সৃষ্টি হয়, তা এখন ফারইষ্টের গ্রাহকদের নিকট টক অফ দ্যা ডেতে পরিনত হয়েছে। পুরু জীবন বীমা খাতের দৃষ্টি এখন ফারইষ্ট লাইফের দিকে। ফারইষ্টের নজরুল-খালেক গংদের লুটপাটের কালোছায়া সারাদেশের এবং সকল জীবন বীমা কোম্পানীগুলোর এবং মাননিয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ৪১এ উন্নত রাষ্ট্রের সমস্ত অর্জনকে ধুলিস্বাৎ করে দিয়ে জীবন বীমা খাতে যে কালো মেঘের সৃষ্টি হয়েছে তা প্রত্যেকটি জীবন বীমা গ্রাহককে একদিকে যেমন আতঙ্কিত করে তুলেছে অন্নদিকে দেশের জীবন বীমা খাতকে চরম হুমকির মুখে দাড় করিয়েছে।
সম্প্রতি নজরুল- খালেকের লুটপাটের ঘটনা এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনলাইন এবং বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ায় ফাইষ্টের শত মত বীমা-গ্রাহক পত্রিকা অফিসে ফোন করতে শুরু করে এবং তাদের ক্ষোভের কথা জানায়, অনলাইন এবং দৈনিকে প্রকাশিত নিউজটির কথা জানতে পেরে গ্রাহকদের দৃষ্টি এড়াতে নিজেদের রক্ষার জন্য এখন দুজনেই পর্দার অন্তরালে চলে যায়। যার কারনে জনস্বীকৃত এই লুটেরা ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এখন অফিসে পর্যন্ত যাওয়া আসাও বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ সুত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম এখন বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ এর লাইট হাউজের অফিসেও সীমিত পরিসরে যাতায়াত করেন।
জানা গেছে, গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে কয়েকহাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর স্পেশাল অডিট রিপের্টের সুত্র ধরে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের হাজার হাজার বীমা গ্রাহককে খাদের কিনারায় রেখে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে, সেই সাথে ফারইস্ট লাইফের নজরুল-খালেক গংদের দুনীতির দ্বায় বহন করতে গিয়ে কোম্পানিটির বহুলোককে চাকুরি হারাতে হয়।
গ্রাহকের পাওনা পৌনে ৮শ’ কোটি টাকা রেখে প্রায় শূন্যের কোঠায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের সম্পদ, সম্প্রতি এমনই একটি সংবাদ প্রকাশিত একাদিক অনলাইনসহ বহু বাংলা এবং ইংরেজি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাতে, যেখানে বীমা গ্রাহকদের দাবী পরিশোধে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুসারে বীমা গ্রাহকদের কাছে তাদের প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা দায় রয়েছে, যা দাবী নিষ্পত্তির মাধ্যমে গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হবে।
এখন পুরু বীমা সেক্টরের অভিভাবক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। কারন আইডিআরএ বীমা সেক্টরের চিহ্নিত লুটেরা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে তাদেরকে রক্ষা করে চলেছে বলে অভিযোগ আছে। এটা প্রমানিত যে, ফারইস্ট লাইফের বড় লুটপাটের সময় অর্থাৎ ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আইডিআর এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ। বিএসইসি এর স্পেশাল অডিটে দেখাযায় (আদালতে দাখিলকৃত প্রমান অনুযায়ী) এ সময়ে কোম্পানিটিতে ন্যায় গতভাবে ২,১৬৫ কোটি টাকার দুনীতি প্রমানিত হয়েছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফারইস্ট টাওয়ার, ৩৫ তোপখানা রোডের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ফারইস্টের চাকুরিহারা কর্মকর্তা এবং মেয়াদ পুর্তীর বীমার দাবী যারা পাচ্ছেনা, এসব ভুক্তভোগীরা তাদের পাওনা আদায়ের জন্য অফিসে আসলে সিকিউরিটি কতৃক বাধা দেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী সাংবাদিক দেখে তাদের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবী জানিয়ে বলেন, নজরুল-খালেককে শুধু দেশ ত্যাগে নিষেদাজ্ঞা নয়, সেই সাথে তাদের ও তাদের পরিবারের অবৈধভাবে অর্জিত দেশ- বিদেশে সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ শেয়ার-ডিবেঞ্চার, বন্ড ইত্যাদি বিক্রয় ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং জনদৃষ্টি এড়িয়ে যাতে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে ও জনস্বার্থে নজরুল-খালেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় দাড় করানো অপরিহার্য্য। তাই সকলের দৃষ্টি এখন কাগুজেবাঘ খ্যাত ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) এর দিকে না তাকিয়ে বীমাখাত উন্নয়নের রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আদালতের দিকে।
পরিশেষে বলতে হয়, এর ব্যত্যয় ঘটলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সাথে সাথে দেশের ১৮ কোটি লোকের নিকট জাষ্টিজ ডিলেই ইজ জাষ্টিজ ডিনাই (Justice Delay is Justice Denied) বলে যে প্রবাদ আছে তা প্রমানিত হবে।