
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
দীর্ঘ সময় প্রতিক্ষার পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)’র দুই সদস্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক বিভাগ। আইন অনুযায়ী সংস্থাটির শীর্ষ পদে একজন চেয়ারম্যান এবং একজন করে প্রশাসন, আইন, লাইফ ও নন-লাইফবিষয়ক চারজন সদস্য থাকার নিয়ম থাকলেও সুর্দর্ঘ পাঁচ বছর পর নন-লাইফ ও প্রয় দেড় বছর পর লাইফে একজন করে সদস্য নিয়োগ দিয়ে সরকার অবশেষে সেই কোটা পূরণ করেছে। প্রশাসন ও আইনবিষয়ক সদস্যের পদ অবশ্য শূন্য ছিল না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২৩জুন ২০২২ বৃহস্পতিবার মো. নজরুল ইসলাম এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত কে এবং লাইফ সদস্য হিসেবে পদ্মা ইসলামী লাইফে ২০১৬ সালে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) একবার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ অনুমোদন করেও ঋণখেলাপি থাকার কারণে পরে প্রত্যাহার করে নেয়া কামরুল হাসানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আগামি তিন বছরের জন্য। তবে তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার একই দিনে লাইফ সদস্য নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নতুন করে ভাবছে বলেও জানা গেছে।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান পদ থেকে সদ্য পদত্যাগি ড,এম মোশাররফ হোসেন পদত্যাগ করার পর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১৫ জুন নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে সাবেক সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক বিভাগ । সংস্থাটিতে আইনবিষয়ক সদস্য হিসেবে বর্তমানে আছেন সাবেক জেলা জজ মো. দলিল উদ্দিন ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মইনুল ইসলাম। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে বহু বছর পর সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সব পদ পূরণ হচ্ছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত বছরের ২৩ নভেম্বর আইডিআরএর নন-লাইফ ও লাইফ সদস্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বয়সের শর্ত দেওয়া হয় সর্বোচ্চ ৬০ বছর। অথচ আইনে বলা আছে, ৬৭ বছর বয়সী যে কেউ এ দুই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পদ দুটিতে নিয়োগ দিতে পরে আরও দুবার বিজ্ঞপ্তি দেয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। একবার বয়স ৬২ পর্যন্ত বাড়ায়, আরেকবার বাড়ায় ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত। তিন দফায় ৪২ জন আবেদন কারির আবেদন জমা পড়েছে বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
নতুন নন-লাইফ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম এক্সপ্রেস ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি প্রভাতী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ১৯৮৯ সালে রূপালী ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।
মো. নজরুল ইসলামের সাথে তার মোবাইল ফোনে জোগােযাগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি প্রজ্ঞাপনটি হাতে পেয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে যোগ দেবেন বলে জানান।’ এবং লাইফ সদস্য কামরুল হাসান এর আগে প্রটেক্টিভ লাইফ ইনস্যুরেন্স, বেঙ্গল ইসলামী লাইফ (সাবেক এনআরবি লাইফ) ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সে কাজ করেছেন। পদ্মা ইসলামী লাইফে ২০১৬ সালে একবার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ অনুমোদন করেও ঋণখেলাপি থাকার কারণে পরে প্রত্যাহার করে নেয় আইডিআরএ। এটা জানার পরও আইডিআরএ’র লাইফ সদস্য হিসেবে কামর হাসানের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি কতটুকু যুক্তিযুক্তক হলো তাহাই এখন দেখার বিষয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হাসান বিএনপির কিচুকিছু শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে জানা যায় এবং এই সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি—গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসায় কামরুল হাসানের নিয়ো প্রজ্ঞাপন বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তাঁর নিয়োগ বাতিল করে নতুন কারও নামে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। এখানে একটা বিষয় সুস্পষ্ট যে, কামরুল হাসান যোগ্যতা ও যাচাই বাচাইএর ভিত্বিতে আসার পরও যদি দলীয় বিবেচনায় তাঁর নিয়োগ বাতিল করা হয় তাহলে বুঝা যাবে, এখানে অতি উৎসাহি এবং দলকানা লোকেদের নিকট সরকার পরাজিত ও দল নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানিয় লোকেদের সাথে, অর্থ্যাৎ উভয়ের সাথে উভয়ের এবং বিভিন্ন দলের লোকেদের সাথে সম্পর্ক থাকতেই পারে, এক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘ সফলতা, উন্নয়ন, নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ না হওয়া এবং প্রশাসনিক স্বার্থে সরকার কামরুল হাসানের যোগ্যতার প্রাধান্যতা সমুন্নত রাখবে।
২০০৮সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে যোগ্যতার বিবেচনায় না হলেও দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের ব্যাপারটি অনেকটাই প্রাধান্যতা পায় বলেও দেশের অর্থনীতিবিদসহ এতদ সংশ্লিষ্ট অনেকে মতামত দিয়ে বলেন, প্রায় বছর দশেক আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি)’র চেয়ারম্যান পদে এক ব্যক্তির নাম সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদিত হওয়ার পরও দলীয় বিবেচনায় বাতিল করা হয়। আবার সাবেক এক অর্থসচিবকে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনজারি করেও দুদিন পর তা বাতিল করে দেয় অর্থমন্ত্রনালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।












