অতীতের সমস্ত অনিশ্চতা কাটিয়ে উঠে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন ক্রমবিকাশমান অগ্রগতির পথে —- মো. শহিদুল ইসলাম: ভারপ্রাপ্ত সিইও, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি

অতীতের সমস্ত অনিশ্চতা কাটিয়ে উঠে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন ক্রমবিকাশমান অগ্রগতির পথে —- মো. শহিদুল ইসলাম: ভারপ্রাপ্ত সিইও, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি

নিকট অতীতের সমস্ত অনিশ্চতা, বিভ্রান্তি, অচলাবস্তা, গ্রাহক হয়রানি অনেকটাই কাটিয়ে উঠে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এখন ক্রমবিকাশমান অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই এগিয়ে যাওয়ার পথে বর্তমান পরিচালনা পর্যদেও সার্বিক সহায়তা এবং দিক নির্দেশনাকারি মো. শহিদুল ইসলাম মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)। বীমা ব্যক্তিত্ব শহিদুল ইসলাম বীমা সেক্টরে একজন সৎ দক্ষ ও বীমাবিদ হিসাবে অধিক পরিচিত। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে যোগদান করার পূর্বে তিনি বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি বীমা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও মোঃ শহিদুল ইসলাম এর সাথে গ্রাহকদের স্বার্থে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ এর ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার, সাক্ষাৎকারে খোন্দকার জিল্লুর রহমান, সম্পাদক প্রকাশক, সময়ের অর্থনীতি।

সময়ের অর্থনীতি: প্রথমত ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স এর দায়িত্ব নিয়ে কি কি সুবিধা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন ?
মো. শহিদুল ইসলাম: বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক পরিচালনা পর্যদের কারো কারো অর্থপাচার, লুটপাট, তহবিল তছরুপ ইত্যাদিসহ এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিনের সম্মানিত গ্রাহক, কর্মী ও স্টাফদের শ্রম ও অবদানে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ অপপ্রচারে, বিভ্রান্ত। অথচ, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ আজও বাংলাদেশে ইসলামী জীবন বীমার প্রতিকৃতি হিসেবে দীপ্তিময় হয়ে আছে।
সময়ের অর্থনীতি: ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দায়িত্ব নিয়েছেন এবং আপনার প্রাথমিক পদক্ষেপ গুলি কি কি ?
মো. শহিদুল ইসলাম: এই সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে আমি (মোঃ শহিদুল ইসলাম) কিছু প্রয়োজনীয় এবং সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি। দেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে তুলে ধরেছি এবং প্রয়োজনে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বাস্তব চিত্র সঠিক তথ্য উপস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছি।
সময়ের অর্থনীতি: মিডিয়া এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স গ্রাহকদের নিয়ে বিভ্রান্তি এবং দাবি পরিষদের বিভিন্ন অবস্থা দেখি তবে কোম্পানির বর্তমান অবস্থা কি, আপনার কাছে জানতে চাই

মো. শহিদুল ইসলাম: বিভ্রান্তি, যড়যন্ত্র ও মিডিয়া অপপ্রচার। গত এক বছর ধরে কিছু সাংবাদিক এবং অব্যাহতিপ্রাপ্ত ইনহাউস স্টাফরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করে তাঁরা সাধারণ বীমা গ্রাহকদের মধ্যে ভয়ভীতি ও অনাস্থা সৃষ্টি করছে। মিডিয়ার অপব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জিত প্রতিবেদনগুলোর কারণে বীমা খাতের প্রতি মানুষ আস্থাহীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক পক্ষ ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। ফলস্বরূপ, কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং বীমা কর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে লাখ লাখ বীমা গ্রাহকের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও শহিদুল ইসলাম) সাহসিকতার সঙ্গে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির হাল ধরেছি। নিজ উদ্যোগে গ্রাহকদের লুটপাটকৃত টাকা দাবি পরিশোধে অংশ হিসেবে ফারইষ্ট টাওয়ার থেকে প্রেস-ক্লাব পর্যন্ত ব্যানারসহ মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছি। তবুও, জনস্বার্থে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সৎ অবস্থান বজায় রেখে এবং গ্রাহকদের পুঞ্জিভুত টাকা আত্মাসাৎকারীদের নিকট থেকে উদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হই।

সময়ের অর্থনীতি: দাবি পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও বর্তমান অবস্থানে অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত জনবল নিয়ে আপনার পদক্ষেপসহ ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্সকে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আপনার পরিকল্পনা বলুন।
মো. শহিদুল ইসলাম:
ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লাখ লাখ বীমা গ্রাহকের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তাদের পাওনা অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে তড়িত গতিতে ফান্ড সংগ্রহ, দাবি পরিশোধ ছাড়াও ইদানিং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এর নতুন প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান বরাবর গ্রাহকদের পাওনা অর্থ দ্রুত উদ্ধারের জন্য আন্তরিক সহযোগিতা ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পত্রমারফত এবং স্বশরীরে জোরালো ভাবে আহবান জানিয়েছি। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন অবিলম্ভে যথ্যাযথ তদন্তের মাধ্যমে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মাঝে তা ফেরত দেওয়া হয়। এই মানবিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের লাখো অসহায় বীমা গ্রাহক আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন সেইসাথে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অব্যাহতির পরিকল্পনায় অগ্রসর হচ্ছি। আশা রাখি ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি খুব তাড়াতাড়ি পুর্বাবস্থা ফিরে পাবে।

একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী অব্যাহতিতে পরিকল্পিতভাবে কর্মী অসন্তোষ সৃষ্টি ইনহাউজ স্টাফদের চাকুরি হারানো নিয়ে বহু অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মী হঠাৎ অব্যহতি পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষোভকে পুঁজি করে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে কোম্পানির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। তবে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের বর্তমান ম্যানেজমেন্ট ইতোমধ্যেই পুনর্গঠন এবং কর্মী পুনর্বহাল প্রশিক্ষণের ব্যপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে অপ্রয়োজনীয় স্টাফ অব্যাহতি দেয়াসহ হেড অফিসসহ অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন শাখা অফিসের সাইজ কমিয়ে আনা, অলাভজনক অফিস ছেড়ে দেয়ায় আগামী মাস থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং বিভিন্ন অব্যবহারিত বিল্ডিং স্পেস, স্থাপনা সহ জমি ও অফিস ভাড়া দিয়ে আরো দেড় কোটি টাকা মাসিক ভাড়া পাওয়ার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এতে মাসিক অতিরিক্ত আয় বাড়বে ৩ (তিন)কোটি টাকা। তাছাড়া বিভিন্ন দেনা পরিশোধ সহজ করতে বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জমি বিক্রির অনুমতি নেয়া হয়েছে। আশা করা যায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. শহিদুল ইসলাম এর মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ এর আন্তরিক সহযোগিতায় বৃহৎ পরিসরের জীবন বীমা কোম্পানি ফারইষ্ট লাইফ সকল পাওনাদার বীমা গ্রাহকদের সমুদয় পাওনা পরিশোধে পুর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সময়ের অর্থনীতি: ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন থানা জেলা গুলোতে মামলা এবং বিভিন্ন অভিযোগ রয়ে গেছে এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনার পদক্ষেপ গুলি কি কি
মো. শহিদুল ইসলাম: ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গ্রাহক হয়রানি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইওর (মোঃ শহিদুল ইসলাম) দায়িত্ব নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে একখানা খোলা চিঠি পাঠিয়েছি দেশের সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের নিকট। উক্ত চিঠিতে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের প্রকৃত অবস্থা, চলমান মামলা-মোকাদ্দমার বিবরণ, গ্রাহকদের অধিকার ও কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুনিদিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। যার প্রমান স্বরুপ সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে রিসিভ করানো চিঠির মাধ্যমে কোম্পানিটি এই সংকট থেকে বের হয়ে আসতে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিয়েছি।

প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গ্রহনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ
ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, চিঠির মাধ্যমসহ নিজেই সরাসরি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সামনে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে তিনি কোম্পানির পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ ও মামলা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস নিয়ে বসবেন। লক্ষ্য, সকল বিভ্রান্তি দূর করে বাস্তবতা তুলে ধরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনের ভুল ধারণা দূর করা গেলে কোম্পানির বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার অনেকটাই বন্ধ হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একটি সাহসী নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি।সিইও (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন সার্বিক বিবেচনায় যদি আমাকে যোগদান পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে আইডিআরএ এর অনুমোদন দেয়াসহ আমার কর্মময় জীবনের অবশিষ্ট ১২ বৎসরে নিশ্চিত ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, যদি পরিচালনা পর্ষদ তাকে পূর্ণ দায়িত্ব ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে, তবে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার পুরনো ঐতিহ্য ও আস্থা ফিরে পাবে এবং “আমার জন্য এটি শুধু একটি দারিত্ব নয়, এটি একটি স্বপ্ন। আমি চাই এই কোম্পানি দেশের বীমা খাতে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করুক। আমার অভিজ্ঞতা, নীতি ও স্বচ্ছতায় বিশ্বাস থাকলে ফারইষ্ট আবার তার গর্বিত ঐতিহ্যে ফিরবে ইনশাআল্লাহ।
সময়ের অর্থনীতি: ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বর্তমান পরিচালনা পর্যদ কোম্পানির উন্নয়ন এবং পুর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কি কি পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বা করতে যাচ্ছেন
মো. শহিদুল ইসলাম:
ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পরিচালনা পর্যদের সহযোগিতায় প্রাথমিক এবং জরুরি ভূমিকা ও অঙ্গীকার নিয়ে গ্রাহক আস্থা অর্জনের জন্য ৬ মাসে ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের কর্মীদের ইনসেনটিভ ঘোষনার মাধ্যমে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগিয়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা অর্জন এবং প্রায় ২০০ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করি। আর এজন্য ফারইষ্ট ইসলামী লাইফের পরিচালনা পর্যদসহ আমার মাঠ পর্যায়ে ত্যাগী এবং কোম্পানির জন্য নিবেদিত সকল কর্মকর্তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আশা রাখি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে স্বল্প সময়েই ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ পুর্বাবস্থায় ঘুরে দাড়াবে ইনশাআল্লাহ।

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহক বান্ধব এবং অত্যন্ত আন্তরিক হওয়াতে ইতোমধ্যেই কোম্পানির সংকট কাটিয়ে মধ্যম পথে এগিয়ে রয়েছে। ফারইষ্ট লাইফ নির্দিষ্ট একটা ট্রেকে উঠতে বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, গ্রাহকের বীমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি, সংস্থার শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, ইক্যুইটি ও ট্রাস্ট ফান্ড পুনর্গঠন, অবৈধ হস্তক্ষেপ ও চমকপ্রদ প্রতিযোগিতা এবং গ্রাহক-কর্মী-সংস্থার ত্রিমাত্রিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন। ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ মনে করে, একটি বীমা কোম্পানির মূল শক্তি হলো তার গ্রাহক ও কর্মীবাহিনী। এই ত্রিমাত্রিক সম্পকর্ গ্রাহক, কর্মী এবং কোম্পানি যতই দৃঢ় হবে, কোম্পানির অবস্থান ততই শক্তিশালী হবে।
এ কারণেই সিইও এর এই প্রত্যয় গ্রহণ নিছক দায়িত্ব পালনের চেয়েও বড় কিছু। এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, যা জীবন বীমা খাতকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। বিভ্রান্তি, ষড়যন্ত্র ও সংকটের মাঝেও ফারইট ইসলামী লাইফ এক নতুন সূচনার পথে। যে সাহস, বিচক্ষণতা ও পরিকল্পনার আলোকে সিইও শহিদুল ইসলাম কোম্পানিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যদি এই প্রয়াসে সকল পক্ষ আস্থারসাথে এগিয়ে আসে, তবে আগামী দিনের ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ হবে আরো শক্তিশালী, বিশ্বস্ত ও ঈর্ষণীয়। দেশের জীবন বীমা খাতের ইতিহাসে ফারইষ্টের এই সংগ্রাম, সচেতনতা এবং সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সময়ের অর্থনীতি: আপনি বেশ কয়েকটা কোম্পানিতে দায়িত্বশীল পদে ছিলেন, বর্তমানে ফারইষ্ট লাইফের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে, আইডিআরএ‘র অনুমোদন সাপেক্ষে পুর্ণদায়িত্ব পেলে আপনার পদক্ষেপ গুলি কি কি ?
মো. শহিদুল ইসলাম:
বীমা ব্যক্তিত্ব (শহিদুল ইসলাম) জানান, বীমা সেক্টরে একজন সৎ দক্ষ ও বীমাবিদ হিসাবে অধিক পরিচিত। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ এই পদে যোগদান করার পূর্বে তিনি বেসরকারি খাতের আরও কয়েকটি বীমা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের শীর্ষ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এর আগে চাটার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি সর্বশেষ ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে পরিচালনা পর্যদের সিদ্ধান্তে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ২০২৩ সালের ২রা এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৫৫তম পর্ষদ সভায়। পরে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত হওয়ায় পর্ষদ সভার রেজুলেশনসহ মোঃ শহিদুল ইসলাম এর নিয়োগ প্রস্তাব আইডিআরএ’র অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডেল্টা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে তার নিয়োগ প্রস্তাব যৌক্তিক কোন কারন ছাড়াই অনুমোদন না করায় দীর্ঘ সময় পর ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে সিইও (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব ভার গ্রহন করি।
আগামী ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে আইডিআরএ এর অনুমোদন দেয়াসহ আমার কর্মময় জীবনের অবশিষ্ট ১২ বৎসরে নিশ্চিত ফারইষ্ট ইসলামী লাইফকে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব বলে নিশ্চিত আশা করি। যদি পরিচালনা পর্ষদ আমাকে পূর্ণ দায়িত্ব ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে, তবে আগামী ৩ বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার পুরনো ঐতিহ্য ও আস্থা ফিরে পাবে।
সময়ের অর্থনীতি: ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্সে আপনি সিইও হিসেবে যোগদান করতে গিয়েও যোগদান করতে পারেননি, কেন যোগদান করতে পারেন নাই?

মো. শহিদুল ইসলাম: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ডেল্টা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে আমার নিয়োগ প্রস্তাব অজ্ঞাত কারনে অনুমোদন না করায় আইডিআরএ’র সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল বারীর অসহযোগিতায় নিয়ম বহিঃর্ভূত অন্য একজনকে অনুমোদন করায় আমার আর ডেন্টা লাইফে যোগদান করার সুযোগ হয়নি।
এরই মাঝে প্রায় ২ বছর সময় অতিবাহিত এয় গেলেও আমি আমার পাপ্য সময়ের মর্যাদা ও ২২ মাসের পূর্ণ বেতন-ভাতা জরিমানা সহ পাওয়ার জন্য বিআইএ ও আইডিআরএ এর আন্তরিক সহযোগিতায় ডেলটা লাইফ থেকে আমি অবশ্যই আমার প্রাপ্য ফেরৎ পাব বলে আশা করি। ডেন্টা লাইফে যোগদান করার সুযোগ না পাওয়ায় অবশেষে তিনি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার চলতি দায়িত্বে যোগদান করলেন।

সময়ের অর্থনীতি: সময়ের অর্থনীতি পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মতামত বলুন
মো. শহিদুল ইসলাম: সময়ের অর্থনীতি পত্রিকাটি দেশের ব্যাংক, বীমা, শিল্প বিষয়কসহ তথ্যবহুল অর্থনীতি, দেশ জাতি ও সমাজ উন্নয়নের পটভুমির উপর নির্ভরশীল সু-পরিছন্ন একটি পত্রিকা। সাহিত্য সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ একটি জ্ঞানের ভান্ডার হিসাবেও ভাল ভুমিকা রাখার এবং পড়ার মানসম্মত একটি পত্রিকা। শিক্ষিত ও সুশীল সমাজের নিকট পত্রিকাটির অত্যদিক গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আশা করি।
সময়ের অর্থনীতি: সময়ের অর্থনীতি আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই
মো. শহিদুল ইসলাম:
আপনাকে এবং সময়ের অর্থনীতি পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।