তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে দখলে পুরনো সেই শকুনের আমলনামা (১ম পর্ব)

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের পুরনো সেই শকুন নামের খেতাব অর্জনকারী মোঃ মফিজ উদ্দিন গংরা ১৯৯৯ সালে সিয়ারস্ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ নামে একটি নন-লাইফ বীমা কোম্পানী গঠনের অনুমোদন লাভ করে। সে সময়ে বীমায় উদ্যোক্তার অভাবে তিনি কোম্পানীর অনুমোদন নেয়ার একেবারে শেষের দিকে ইসলামী ব্যাংকের প্রাক্তন পরিচালক ফজলে আজিমের (বর্তমানে মৃত) মাধ্যমে উদ্যোক্তা সংগ্রহ করে একেবারে শেষ দিনে কোম্পানী গঠন অনুমোদনের জন্য জমা করা হয়।
প্রভাতী ইন্ডাষ্ট্রি কোম্পানী লিঃ এর প্রাক্তন ডিজিএম মোঃ মফিজ উদ্দিন মরহুম ফজলে আজিমের উদারতার সুযোগে শেয়ার মূল্যের অতিরিক্ত টাকা পুরোটাই আদায় করে নেয়। একই সময়ে ক্যাপিটাল কো-অপারেটিভ নামে একটি মৃত সমিতিকে ৫.০০ কোটি টাকার বিনিময়ে এর দায়ভার মরহুম ফজলে আজিমের উপর চাপিয়ে দেয়। মোঃ ফজলে আজিম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ঐ ঋণ আর শোধ করতে পারেননি।
সে সময়ে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জয়নুল হুদা দায়িত্বে থাকার সময় আরআর সিকিউরিটির জন্য ১০০ কোটি টাকার ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টি গ্রহণ করে মফিজ উদ্দিন নামের সেই পুরনো শকুন। ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টি গ্রহণের জন্য একদিকে যেমন পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন নেয়া হয়নি এবং অপরদিকে কোন প্রকার ফিও প্রদান করেনি। এ ঘটনার জন্য বলির পাঠা বানিয়েছে জয়নুল হুদাকে। পরিচালনা পরিষদে মরহুম ফজলে আজিমের উদারতায় পাবলিক শেয়ারহোল্ডারের ৬জনই মোঃ মফিজ উদ্দিন কুক্ষিগত করে। কোম্পানীর মূল উদ্যোক্তাদের একে একে অপমান অপদস্ত করতে থাকে। তার হাত থেকে মোঃ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী ও ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেজবাহউদ্দিন আহমেদও রক্ষা পায়নি। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ এর তৎকালীন পরিচালক মরহুম মোঃ ফজলে আজিমকে স্যার বলতে বলতে মুখের ফেনা বের হওয়া মোঃ মফিজ উদ্দিন মরহুম ফজলে আজিমকে ফুসলিয়ে তাঁর শেয়ারগুলো হস্তগত করে তাকে অপমান করে কোম্পানী থেকে বের করে দিয়েছে। পরিচালক মোঃ হুমায়ুুন কবির পাটোয়ারীর পদক্ষেপের কারনে কোম্পানীকে কুক্ষিগত করতে পারেনাই সত্যি তবে কিন্তু ষড়যন্ত্র সবসময়ই অব্যাহত রেখেছে ঠিকই। অতীতেও মো: মফিজ উদ্দিন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় অপকর্মের খবর ছাপ হলেও সে থোড়াই কেয়ার করে।
প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিঃ এর ডিজিএম হওয়ার পর থেকে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী এর পরিবারের ৩জন মিলে উদ্যোক্তা পরিচালকের পদ গ্রহণ করে। বিশেষভাবে উল্লেখ যে শকুনচক্র শেয়ার গ্রহীতার স্বাক্ষর জাল করে ইস্যু করা শেয়ার সার্টিফিকেট দিয়ে ন্যাশনাল হাউজিং লিমিটেড থেকে ৩.০০ কোটি (তিন কোটি) টাকা ঋণ গ্রহণ করে কেলেংকারী সৃষ্টি করে কোম্পানীকে শেষ করে দিয়ে খান্ত হয়নি, সেই কুটকৌশলে এখন তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সকে সর্বশান্ত করার যড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
এসব যড়যন্ত্র ও কুটকৌশলের মাধ্যমে পুরনো সেই শকুনখ্যাত মফিজ উদ্দিন অবৈধ পথে শত শত কোটি টাকা পাচার করে কানাডায় বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, যার কারনে মানিলন্ডারিংয়ের আওতায় তার বিচার হতে পারে। এ ছাড়া দুদকেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।