
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতা
অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসানুল হক তুষারসহ দুই পরিচালক স্বজন কুমার বসাক ও অমিতাভ ভৌমিককে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার কারণে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৬৭৭তম কমিশন সভায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল না করায় কোম্পানিটির প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে) ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালক (স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও), কোম্পানি সচিব ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্সের সব বিও হিসাব জব্দ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস ১৯৮৭-এর রুল ১২ (৩ এ) লঙ্ঘন করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিএসইসি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয় এমারাল্ড অয়েল। সে হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৩ টাকা ৩৩ পয়সা, আগের বছর বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর যা ছিল ২ টাকা ৮২ পয়সা। এদিকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই ১৬-মার্চ ১৭) ৯ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে এমারাল্ড অয়েল, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৪৪ পয়সা। সে বছরের ৩১ মার্চ ২০১৭ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৭৫ পয়সায়। এরপর কোম্পানির কোনো আর্থিক প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়নি, অনুষ্ঠিত হয়নি বার্ষিক সাধারণ সভাও। এ কারণে কোম্পানিটিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ। বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগে কোম্পানি ও এর উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান। বন্ধ রয়েছে কোম্পানির উৎপাদনও।
ডিএসইতে সর্বশেষ এমারাল্ড অয়েলের শেয়ার দর ১ দশমিক ২১ শতাংশ বা ২০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৭০ পয়সায়। দিনভর এর দর ১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ১০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সমাপনী দর ছিল ১৬ টাকা ৩০ পয়সা, এদিন ৫১ বারে কোম্পানিটির মোট ১৫ হাজার ৬৬০টি শেয়ারের লেনদেন হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বোচ্চ দর ২৮ টাকা ৫০ পয়সা।
২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে আসা কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা, পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও রিজার্ভ ৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার।












