ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইনভেস্টমেন্ট ইকো-সিস্টেম পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের উদ্যোগ বিআইডিএর

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইনভেস্টমেন্ট ইকো-সিস্টেম পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)। এ বিষয়ে মতামত পাঠানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছে বিআইডিএ।
জানা গেছে, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ইনভেস্টমেন্ট ইকো-সিস্টেম সংক্রান্ত পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে মতামত চেয়ে গত ৩ জানুয়ারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে একটি ডিও লেটার (স্মারক নং- ০৩.২০১.০২২.০০.০০.০১.২০১৮ (অংশ-১).২২ সংযুক্ত) পাঠান বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম। এ ডিও লেটারের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
ডিও লেটার পাঠানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এ দেশের যুবসমাজ যেসব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ড নিয়ে আসছে, সেগুলোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করতে হবে। এজন্য যথাযথ ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজন মূলধনি অর্থায়ন। অপর্যাপ্ত অর্থায়ন বা ঋণ শিল্পের এ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
তিনি আরো বলেন, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে সফল করার জন্য পর্যাপ্ত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল/প্রাইভেট ইকুইটির প্রয়োজন, যা বিকল্প বিনিয়োগ বা অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্টের আওতাভুক্ত। এ ধরনের বিনিয়োগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিকল্প বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য নীতি সমর্থন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।
এ বিবেচনায় বিআইডিএর পক্ষ থেকে ১১টি সুপারিশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বরাবর পাঠানো হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিকল্প বিনিয়োগ চ্যানেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইডিআরএ কর্তৃক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
বিআইডিএ বলছে, নিট সম্পদের পরিবর্তে মোট তহবিলের ওপর ভিত্তি করে তহবিল ব্যবস্থাপককের ফি নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিএসইসি এ-সংক্রান্ত বিধি বা রুলস সংশোধনের কাজ অনতিবিলম্বে সম্পাদন করতে পারে। বিআইডিএ উল্লেখ করেছে, বিনিয়োগকৃত তহবিল থেকে প্রস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে পুঁজিবাজারে আসার জন্য বিনিয়োগকৃত তহবিল থেকে বেরিয়ে আসা-সংক্রান্ত বিধি অত্যাবশ্যক। তবে মার্কেট মেকারের শর্তাবলি বাস্তবসম্মত নয় বিধায় অনতিবিলম্বে বিদ্যমান আইন থেকে মার্কেট মেকারের প্রয়োজনীয়তা/শর্ত বাদ দিয়ে বিএসইসি এতে যথাযথ সংশোধন আনতে পারে।
অন্যান্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে হারে ও পরিমাণে কর অবকাশ ও কর সুবিধা দেয়া হয়, বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি হারে কর সুবিধা দেয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করেছে বিআইডিএ। সংস্থাটির মতে, উদ্যোক্তা তহবিল পরিচালনায় ইকুইটি-সংক্রান্ত জ্ঞান/অভিজ্ঞতা অত্যাবশ্যক, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। এক্ষেত্রে শুধু বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল অথবা তহবিল ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে ব্যক্তি/বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত উদ্যোক্তা তহবিল (পিইএফ) বণ্টনের সুপারিশ করেছে বিআইডিএ।
অন্যান্য আর্থিক সেবার তুলনায় বিকল্প বিনিয়োগে ঝুঁকি নিঃসন্দেহে বেশি। তহবিলের অপ্রতুলতার কারণে এক্ষেত্রে অর্থায়নের পরিমাণও সীমিত। তাই অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিকল্প বিনিয়োগের সঞ্চিতির হার বিদ্যমান ১৫০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলেছে বিআইডিএ।
সংস্থাটির মতে, বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের একক এনআইটিএ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। এছাড়া ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যভাণ্ডারে বিনিয়োগকারী/ঋণ প্রদানকারী/লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান তথা এনবিএফআইসহ সব বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল/ব্যবস্থাপকদের প্রবেশাধিকার দেয়া যেতে পারে এবং ব্যক্তি খাতে ক্রেডিট ব্যুরো প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়া যেতে পারে।
অসফল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেউলিয়া-বিষয়ক আইন, ১৯৯৭-এ সংস্কার আনা ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করার সুপারিশ করেছে বিআইডিএ। বিকল্প বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে প্রকল্পগুলোর জন্য বীমা প্রচলন করা যেতে পারে বলে সংস্থাটি মনে করছে। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলো কর্তৃক এসএমই অর্থায়নের মতো প্রাইভেট ইকুইটি বা ভেঞ্চার ক্যাপিটালে অর্থায়ন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে বিআইডিএ।