সাউথইস্ট ব্যাংকের স্বপ্নময় দ্রষ্টা ও একজন আলমগীর কবির

খোন্দকার জিল্লুর রহমান:
চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটা দেশ বাংলাদেশ, প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠিতে সার্বিক উন্নিত হতে না পারলেও প্রচারে ও প্রসারে কাজের চেয়েও মুখে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছি অনেক বেশী। আবার চাহিদার চেয়ে যোগান বেশী হলেও বদহজমের মাত্রাটা বেড়ে যায় , যা কখনোই সুখকর নয়, তাও আবার কোয়ালিটি সম্পন্ন না হলে তো একে বারেই বিপদের চেয়েও মোহা বিপদ।

সাধারনত বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোকে মুলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তফসিলি বা তালিকাভুক্ত, নন-তফসিলি বা অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক। ছয়টি রাষ্ট্রিয় বানিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৪৩ টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নয়টি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি এবং নন-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫ টি। এই চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটি দেশে ব্যাঙের ছাতার মত গজে উঠা অতগুলো ব্যাংক দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু স্থিতিশীল ভুমিকা রাখতে পেরেছে তা আমাদের দেশের এক শ্রেনির ক্ষমতালোভী, অর্থলোভী, পাচারকারী ও লুটেরা গোষ্টী না বুঝতে পারলেও দেশের দেশপ্রেমিক সুশীল সমাজ থেকে আপামর সাধারন মানুষ পর্যন্ত কারোরই বুঝার বাকি নাই।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সময়ে এ ভুখন্ডে যে ব্যাংকগুলি কার্যকরি ছিল, সে আমলে এগুলির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উথ্যাপিত হয় নাই। স্বাধিনতা পরবর্তি সময় থেকেই বর্তমান পর্যন্ত নির্দিষ্ট একটা সম্প্রদায় বা একটা গোষ্টী বর্তমান পর্যন্ত অবলিলায় একাজগুলি নির্ধিদায় করে যাচ্ছে, যা একটা দেশের আর্থিক ব্যবস্থা তথা আর্থিক অবকাঠামোকে দুর্বল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে।

১৯৪৭ সালে একটা ঔপনিবেষিক শাসন ব্যবস্থা থেকে স্বাধীন পূর্ব পাকিস্থানকে পুনর্গঠন না করে অর্থ্যাৎ বিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পুনর্গঠন না করে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্টী ক্ষমতায়নের জন্য অদুরদর্ষি পরিকল্পনা ও মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে তখনকার অপরিপক্ক সমাজ ও জাতিকে প্রভাবিত করে নতুন দল গঠনের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্ব বিস্তার করতে সক্ষম হয়। নিজস্ব শাসন এবং নিজস্ব অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রত্যয় নিয়ে অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ এ দেশ স্বাধিনের পরপর আবার স্বাধিন সার্ভভৌম বাংলাদেশে ব্যাংকলুট থেকে শুরু করে সেই লুটেরা গোষ্টী আবারো দেশের আর্থিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুলিখেলায় মেতে উঠেছিল, যার ধারাবাহিকতা বর্তমানেও পরিলক্ষিত হয়। তখনকার সেই যুদ্ধবিধ্বস্থ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে ব্যাংক সহ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়, ১৯৮৩ সালে পুনরায় বেসরকারিভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক চালু করা হয় এবং এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউসিবিএল, ও ইসলামী ব্যাংক নতুন ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায়, তাছাড়া ১৯৮৩ সালে সরকার নিয়ন্ত্রিত পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সর্বশেষ আধুিনক ব্যাংক হিসাবে আইসিসি ইসলামী ব্যাংক সংযুক্ত হয় যা প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৯৯১ সালে থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে আরও আটটি বেসরকারি ব্যাংক চালু হয় যার মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক,ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, আল আরাফা ব্যাংক ও এসআইবিএল নতুন ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পায়। ব্যাংক অফ ক্রেডিট এন্ড কমার্স ইন্টারন্যাশনাল (ওভার্সিস) লিমিটেড বা দেশীয় ব্যাংক বিসিসিআই ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড নামে দেশীয় বেসরকারি ব্যাংকে রূপান্তরিত করা হয়। তাছাড়া ন্যাশনাল ক্রেডিট লিমিটেডকে এনসিসিবিএল নামে বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন দেয়া হয় যা দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সাময়িকভাবে এই ৮ ব্যাংকের মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক অগ্রগতি ও অভিযাত্রায় গ্রাহক এবং ষ্টেকহোল্ডারদের নিকট দ্রুতসেবা, কমিটমেন্ট রক্ষা, আস্থা এবং স্থিতিশীলতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়।

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড দ্বিতীয় প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক, ১৯৯৫ সালে এ ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৯৯ সালে ব্যাংকটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত হয়। ২০০০ সাল থেকে প্রথম চার বছর চেয়ারম্যান ছিলেন এবংযথাক্রমে আব্দুল্লাহ ইউসুফ হারুন, এমএ কাসেম, আজিম উদ্দিন আহমেদ ও রাগীবআলী দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে সেপ্টেম্বর মাস থেকে যখন ব্যাংটির সংকটাপন্ন অবস্থায় দেউলিয়া হওয়ার পথে উপনিত হয়, ঠিক তখনই দৃড় প্রত্যয় এবং সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে আলমগীর কবির, এফসিএ দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আজো পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর সুশৃংখল ও শতভাগ কমিটমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা করে আসছেন। একটি ব্যাংকে দুর্বল এবং প্রায় দেউলিয়া অবস্থা থেকে বিগত ২০ বছরে পারিবারিক গন্ডি থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কৃতিত্ব ব্যাংকিং জগতে সূ-কৌশুলি ও সফল ব্যাংকার হিসাবে

সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির এফসিএ’র নাম দেশের ইতিহাসে লেখা থাকলেও হয়তো কমই হবে। এতকিছুর অধিকারি হয়েও কোন লোভ-লালসা, লুটপাট বা অবৈধ অর্থপাচারের মত কোন কালিমা এই মহান দেশপ্রেমিক মানুষটিকে স্পর্শ করতে পারেনাই কখনো। একান্ত আলাপ চারিতায় তিনি বলেন, “আমার স্বপ্ন ছিল নিজে শিল্পপতি না হয়ে অসংখ্য শিল্পপতি তৈরিতে সহায়তা করা, যাতে দেশের শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়,” আমার সেই স্বপ্ন সফল হয়েছে। তিনি আরো বলেন এই ব্যাংকে কোন বেনামি ঋণ নেই, আমরা খুব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সাথে ব্যাংক পরিচালনা করি। ব্যাংকটি সম্প্রতি নিজস্ব এমপ্লইদের জন্য বেশ কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, এখানে নিম্ন স্তরে যারা চাকরি করেন তাদের বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা, তা ছাড়া ঢাকায় ব্যাংকের নিজস্ব বিলাসবহুল বাসে অফিসে আসা যাওয়ার যে ব্যবস্থা আছে তা সিলেট ও চট্টগ্রামেও সম্প্রসারণ করার চিন্তাাভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি জানান গত ২০ বছর আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ব্যাংককের উন্নয়ন করা ছাড়া আমার পরিবারকে কিছু দিতে পারিনি।

এখানে উল্যেখ্য যে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ১৯৯৫ থেকে ২০২২ পর্যন্ত অগ্রগতি ও অন্যান্য স্বচিত্র প্রতিবেদন দেওয়া হলো, বাকি সমস্থ তথ্য ব্যাংকের ওয়েব সাইডে https://www.southeastbank.com.bd পাওয়া যাবে……