পিপলস্ ইন্স্যুরেন্সের ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা, ১০.৫০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর সকল নিয়ম নীতি মেনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোম্পানীর চেয়ারম্যান জাফর আহমেদ পাটোয়ারী উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরিচালনা পর্ষদের সকল কমিটির চেয়ারপার্সন, পরিচালকবৃন্দ, সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকের প্রতিনিধি, স্ক্রুটিনাইজার, ডিএসই, সিএসই ও বিএসইসি এর অবজারভার এবং ২৫৬ এর অধিক শেয়ারহোল্ডারগণ ভার্চুয়াল লিংকের মাধ্যমে সভায় সংযুক্ত ছিলেন। সভা সঞ্চালন করেন কোম্পানী সচিব শেখ মোঃ সরফরাজ হোসেন এফসিএস।
কোম্পানীর ভাইস চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, পরিচালক আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, পরিচালক ও ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ আলী হোসেন, পরিচালক মোঃ ফরহাদ আহমেদ আকন্দ, পরিচালক সাইফুল আরেফিন খালেদ, পরিচালক কবির আহমেদ, পরিচালক মিসেস ফারজানা জাহান আহমেদ, পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, পরিচালক মোঃ আজিজুল হক, পরিচালক ড. জোৎস্না আরা বেগম, পরিচালক মোহাম্মদ মিজান ভিক্টর মহসিন, পরিচালক নুভেদ মিজান ইকবাল, স্বতন্ত্র পরিচালক ও রিস্ক ম্যানেজম্যান্ট কমিটির চেয়ারপার্সন দিলশাদ আহমেদ, স্বতন্ত্র পরিচালক ও পলিসিহোল্ডার প্রোটেকশন এন্ড কম্পøায়েন্স কমিটির চেয়ারপার্সন এম.এম.জি. সারওয়ার, স্বতন্ত্র পরিচালক এবং অডিট কমিটি ও নমিনেশন এন্ড রিমিউনারেশন কমিটির চেয়ারপার্সন মিস রুবাইয়াত আরা এফসিএ, কনসালটেন্ট মোহাম্মদ হোসেন খালেদ, মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আজিজুল হোসেন, কোম্পানীর প্রাক্তণ চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন। শেয়ারহোল্ডারগণ ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদনসমূহ, ২০২৫ সালের জন্য ১০.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এছাড়াও পরিচালক নির্বাচন ও নিয়োগসহ ২০২৬ সালের জন্য সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক এবং কম্পøায়েন্স নিরীক্ষক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন ও অনুমোদন করেন।
সভার শুরুতেই কোম্পানী সচিব সংযুক্ত পরিচালকসহ সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সভায় ভোট প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনাবলী তুলে ধরেন। দোয়া পরিচালনার পরপরই চেয়ারম্যান মহোদয় সভা পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করলে কোম্পানীর মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং কোম্পানীর ওভারভিউ তুলে ধরেন। কোম্পানীর ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পূর্বে অডিট কমিটির চেয়ারপার্সন শেয়ারহোল্ডারগণের উদ্দেশ্যে বলেন, শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স
পিএলসি. এর কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। এ বছরে কোনও অতিরিক্ত সাধারণ ক্রিয়াকলাপ ঘটেনি এবং আর্থিক বিবরণীতে এ ধরনের কোন প্রতিফলনও পরিলক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশের আ্যকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড ২৪ এর রিলাটেড পার্টি ডিসক্লোজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সংজ্ঞা অনুসারে পিপলস্ ইন্স্যুরেন্স তৃতীয় পক্ষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একই শর্ত অনুযায়ী এবং বাণিজ্যিক হারগুলিতে আর্ম লেনথ্ ভিত্তিতে পরিচালিত সকল পক্ষের সমস্ত লেনদেন পরিচালনা করে আসছে। ত্রৈমাসিক ও সমাপ্ত বছরের ফলাফলের মধ্যে কোন উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়নি। কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুতকৃত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনাগত ফলাফল, নগদ প্রবাহ এবং ইক্যুইটির পরিবর্তনের পরিমাণ
সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে।
কোম্পানীর আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, বিগত বছওে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না থাকায় আয়-ব্যয় ও স¤পদের পরিমাণ প্রায় স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল। চলতি বছরে সাধারণ রিজার্ভ তহবিল ৮৫.০০ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪০.৫০ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। লাভ-ক্ষতি বরাদ্দ হিসাব ৩.১৭ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৫৫.৫৬ মিলিয়ন টাকা হয়েছে।
অগ্নি বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩৬.৫৩ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১৬.৪১ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। নৌ বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩০.৭২ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১৮১.৬৮ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। মোটর বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ৩.১৮ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১১.৮৬ মিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। বিবিধ বীমা ব্যবসা তহবিলের স্থিতি ১.৪৬ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে এখন ৩.০৩ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। গত বছর, ডিপোজিট প্রিমিয়াম ২২.৮৯ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪১.৩৯ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। এরপর বকেয়া বা অবহিত দাবির ক্ষেত্রে আনুমানিক দায় ৫১.২৭ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ২৭৫.৩২ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। বীমা ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য ব্যক্তি বা সংস্থা সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বকেয়া পরিমাণ ১৩.৫৮ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে ১০.৫১ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। বিবিধ দেনাদারদের পরিমাণ ৪.৩৩ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫১.১৭ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদেও প্রদেয় অদাবিকৃত লভ্যাংশ তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩.৫৬ মিলিয়ন টাকা যা প্রতিবছর নিয়ম অনুযায়ী Capital Market Stabilization Fund এ জমা দেয়া হচ্ছে। গ্য্রাচুইটি রিজার্ভ ৩.০০ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়ে এখন ৩৮.৬৬ মিলিয়ন টাকা হয়েছে। আয়কর সংরক্ষণের পরিমাণ ১১০.৫০ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭১৯.০৫ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত হয়েছে। ক্রয় মূল্য অনুযায়ী শেয়ার বিনিয়োগের পরিমাণ ৭১.৯৬ মিলিয়ন টাকা হলে ও বাজার মূল্য অনুযায়ী শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমান বর্তমানে ৪৮.২২ মিলিয়ন টাকা। ২২.৫০ মিলিয়ন টাকা বিনিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ১৯২.৬০ মিলিয়ন টাকা থেকে ২১৫.১০ মিলিয়ন টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি স¤পদ বেড়ে ৮২৩.৭১ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদি স¤পদ গত বছরের তুলনায় ৪৮.৭১ মিলিয়ন টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪৯.৫১ মিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। নগদ এবং নগদ সমতুল্য ১,৫০৩.১৮ মিলিয়ন টাকা থেকে এ বছর ১১৩.৮৮ মিলিয়ন টাকা বেড়ে ১,৬১৭.০৮ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানীর চেয়ারম্যান সমাপনী বক্তব্য দেন এবং শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, পিপলস্ ইন্সু্যূরেন্স পিএলসি. ২০২৫ সালে মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৪৪.০৮ মিলিয়ন টাকা যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮৮.১৯ মিলিয়ন টাকা, পূর্বেও বছরের তুলনায় ৫৫.৮৯ মিলিয়ন টাকা প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে পুনঃবীমা প্রিমিয়াম প্রদান ও গ্রহণের পর নীট প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭০.৯২ মিলিয়ন টাকা যার বিপরীতে গত বছর ছিল ৯৫.০৮
মিলিয়ন টাকা অর্থাৎ এ বছর ২৪.১৬ মিলিয়ন টাকা হ্রাস পেয়েছে। আমাদের দেশের উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গত ৪০ বছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রিজার্ভ ও মোট সম্পদ যথাক্রমে ০.৬১ মিলিয়ন টাকা এবং ৪২.৪১ মিলিয়ন টাকা থেকে শুরু করে শেয়ারহোল্ডারগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় ২০২৫ সালের সমাপ্তিতে তা যথাক্রমে ১,০৯১.৩৬ মিলিয়ন টাকা এবং ৩,১৯০.৩০ মিলিয়ন টাকা উন্নীত করতে সমর্থ হয়েছে। বিগত বৎসরে কর্তৃপক্ষ বিচক্ষণতার সাথে কোম্পানীর কার্যক্রম পরিচালনা করায় শেয়ারহোল্ডারগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন।