“আমাদের গ্রাম”

খোন্দকার জিল্লুর রহমানঃ–

বউ কথা কও পাখী ডাকে হিজল তমাল গাছে,
আমার গ্রামের মতন এমন গ্রাম কি কোথাও আছে?
আঁকা বাঁকা গ্রামের পথে রূপশিরা হেটে যায়,
বাসন্তি রঙ্গ শাড়ির আঁচল তাদের বাতাসে উড়ায়।
শাপলা ফুটা দীঘির জলে ফুলপরীদের মেলা,
পদ্ম ফুলের হাসি নিয়ে করছে তারা খেলা।
দিনের শেষে সন্ধা হলে ফুল গুলি যায় ঝরে,
রাখাল ছেলের বাশির সুরে মন যে উদাস করে।
জোনাকি মেয়েরা রাতের আঁধারে জ্বালিয়ে দেয় আলো,
ঝিঁ ঝিঁরা বাজায় ঘুমের নুপুর কত যেন বাসে ভালো।
দিনের শেষে সন্ধা নামে সুর্য্যটা যায় পাটে,
কলসি কাঁখে বধূরা যায় জল আনিতে ঘাটে।
সন্ধা পরে লাউয়ের মাচায় ফুল গুলি সব ফুটে,
প্রজাপতি নেয় যে মধু তার লম্বা চিকন ঠোটে।
দিঘীর পাড়ে সন্ধাপরে চাঁদ উঠেছে ঐ
এত আলোয় চাঁদের বুড়ি হারিয়ে গেল কই।
সন্ধা হলে মা যে ঘরে জ্বালিয়ে তেলের বাতি,
কোথায় তোরা আসরে সবে পড়বি সারারাতি।
ভোর আজানে পাখীর গানে ঘুম ভাঙ্গবে সবার,
নামাজ শেষে দিনের কাজে যুক্ত হবে আবার।
কাস্তে কোদাল হাতে নিয়ে চাষিরা যায় মাঠে,
দিনের আলোয় মনের সুখে সোনালী ধান কাটে।
বিকেল বেলা দোয়েল স্যামা বসে গাছের ঢালে,
মনের সুখে গান করে আর নাচে তালে তালে।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সবার গ্রামেই বসবাস,
মন আনন্দে দারুন সুখে কাটায় বার মাস।
শান্তি সুখের পরিবেশে আছে মোদের গ্রাম,
কুমিল্লা জেলার বরুড়াতে ‘বাসপুর’ তার নাম।
===============