অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এজেন্ট ব্যাংকিং। এক বছরের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ৯ লাখ ৪ হাজার ৫৩৫। চলতি বছরের জুন নাগাদ গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০। গেল বছরের জুন শেষে গ্রাহক ছিল ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫ জন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই সময়ে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। রেমিট্যান্স সংগ্রহের পরিমাণ ৩ হাজার ৫১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা, ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা তিন হাজার ৫৮৮টি এবং যাদের আউটলেট রয়েছে ৫ হাজার ৩৫১টি।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের জুন মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় মোট জমার পরিমাণ ২ হাজার ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামের মানুষের জমার পরিমাণ ১ হাজার ৬৫৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আর শহরাঞ্চলের মানুষের জমার পরিমাণ ৩৫৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৪৪ কোটি টাকা জমা করেছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৮২৪ এজেন্ট ব্যাংকিং নারী গ্রাহক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বশর বলেন, গ্রামীণ সুবিধা বঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো থেকে আশারূপ সারা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভবপর হচ্ছে।
ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, তৃণমূল এলাকার মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতেই এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ জন্য প্রথমে কয়েকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়াকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প করে সরকার। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে আর্থিক জ্ঞান (ফিন্যানশিয়াল লিটারেসি) বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।










