বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮২১ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮২ কোটি ১০ লাখ
মো. আবদুল লতিফ মন্ডল
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেস্ক ২০১৮’ বা বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০১৮। খাদ্যনিরাপত্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও জার্মান সংস্থা ওয়েলট হাঙ্গার হিলফে যৌথভাবে এটি তৈরি করে। এতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮২১ মিলিয়ন অর্থাৎ ৮২ কোটি ১০ লাখে পৌঁছেছে। এর অর্থ, ২০১৭ সালে বিশ্বের নয়জনের একজন মানুষ ক্ষুধার্ত থেকেছে। এর আগে ২০১৬ সালের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮০ কোটি। অর্থাৎ এ সময়কালে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ফলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কেন বাড়ছে এবং বাংলাদেশের অবস্থা কোন পর্যায়ে, তা পর্যালোচনা করাই এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন ২০১৮ তৈরিতে যে চারটি সূচক বিবেচনায় নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো— অপুষ্টি, চাইল্ড ওয়েস্টিং (উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু), চাইল্ড স্ট্যান্টিং (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু) ও শিশুমৃত্যুর হার (অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর)। এসব নির্দেশকে ১০০ পয়েন্টে সূচক নির্ধারণ করা হয়। যে দেশ এক্ষেত্রে যত কম নম্বর অর্জন করবে, সেখানকার শিশুর অবস্থা তত ভালো; আর যে দেশ ১০০ নম্বর অর্জন করবে, তাদের অবস্থা তত খারাপ। সূচক অনুযায়ী ৯ দশমিক ৯ নম্বর অর্জনের অর্থ কম ক্ষুধা, ৪৯ দশমিক ৯ নম্বর অর্জন বোঝায় ভয়াবহ ক্ষুধা এবং ৫০ বা তদূর্ধ্ব নম্বর প্রাপ্তি নির্দেশ করে চরম ভয়াবহ ক্ষুধা।
প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ৮২ কোটি ১০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের বাস মূলত এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। সর্বোচ্চসংখ্যক অর্থাৎ ৫১ কোটি ৫০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের বসবাস এশিয়ায়। দক্ষিণ এশিয়া বা এশিয়ার দেশগুলোয় নয়, সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্ষুধার্ত মানুষ বাস করে ভারতে। এ সংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। ২০১৮ সালের ১১৯টি দেশের ক্ষুধা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা। ক্ষুধা সূচকে দেশটির অবস্থান ৬৭ নম্বরে। এরপর সূচকে নিচে রয়েছে যথাক্রমে নেপাল (৭২), বাংলাদেশ (৮৬), ভারত (১০৩), পাকিস্তান (১০৬) ও আফগানিস্তান (১১১)।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন ২০১৮ অনুযায়ী, আফ্রিকায় ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ২৫ কোটি ৬৫ লাখ। ২০১৭ সালে প্রকাশিত বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে দেখানো হয়, আফ্রিকার সাতটি দেশে ক্ষুধা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশগুলো হলো— সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, রিপাবলিক অব শাদ, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, সিয়েরালিওন, দক্ষিণ সুদান ও জাম্বিয়া। এসব দেশের মধ্যে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ সুদানকে দুর্ভিক্ষকবলিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন ২০১৮ অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৯০ লাখ। ২০১৮ সালে ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে, বিশেষ করে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৫ কোটির উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম; যা বিশ্বের মোট শিশুর ২২ শতাংশ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটির ওজন উচ্চতার তুলনায় কম; যা বিশ্বের মোট শিশুর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ রক্তস্বল্পতায় ভোগেন।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক প্রতিবেদন ২০১৮ প্রকাশের কয়েক দিন আগে অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে এখনো ৭৩ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র এবং ক্ষুধার্ত। ২০১৫ সালে এ মানুষের সংখ্যা ছিল ৮০ কোটি ৪২ লাখ। এতে দেখা যায়, ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২৫ বছরে বিশ্বে অতিদারিদ্র্যের হার গড়ে ১ শতাংশ হ্রাস পেলেও ২০১৩ থেকে ২০১৫ সময়কালে প্রতি বছর অতিদারিদ্র্য হ্রাসের হার ১ শতাংশের নিচে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিদারিদ্র্যের সংখ্যা কী হারে কমেছে বা বেড়েছে, প্রতিবেদনটিতে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান, দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারান অঞ্চলগুলোয় যথাক্রমে অতিদারিদ্র্যের হার ৩ দশমিক ৬ থেকে ২ দশমিক ৩, ১ দশমিক ৬ থেকে ১ দশমিক ৫, ৪ দশমিক ৬ থেকে ৪ দশমিক ১, ১৬ দশমিক ২ থেকে ১২ দশমিক ৪, ৪২ দশমিক ৫ থেকে ৪১ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় অতিদারিদ্র্যের হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে। অঞ্চলটির ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ এখন অতিদরিদ্র ও ক্ষুধার্ত। সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ ৪১ কোটি ৩৩ লাখ। ২০১৩ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে অতিদরিদ্রের সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ৫১ লাখ। দক্ষিণ এশিয়ায় ২০১৩ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ১৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে এবং অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২৭ কোটি ৪৫ লাখ থেকে ২১ কোটি ৬৪ লাখে দাঁড়িয়েছে। এতে এটাই প্রমাণিত হয়, বিশ্বে অতিদরিদ্র মানুষের বসবাসের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া।
প্রতিবেদনে বিশ্বে অতিদারিদ্র্য ও ক্ষুধার হার হ্রাসে ধীরগতির জন্য যেসব কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ১. দারিদ্র্য হ্রাস, বিশেষ করে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অভাব; ২. কিছু অঞ্চলে অতিদারিদ্র্যের হার হ্রাসের পরিবর্তে বৃদ্ধি পাওয়ায় বা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস না পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী অতিদারিদ্র্যের হার হ্রাসের গতি কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়া ও ইয়েমেনে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে দারিদ্র্যের হার ২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে বেড়েছে। তেমনি সাব-সাহারান অঞ্চলে অতিদারিদ্র্যের হার হ্রাসের পরিমাণ খুবই সামান্য।
এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করা যাক। বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০১৮-তে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো হলেও শ্রীলংকা ও নেপালের তুলনায় তা ভালো নয়। ২০১৫ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১০৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৩তম। ২০১৪ সালের সূচকে বাংলাদেশ ছিল ৫৭ নম্বরে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ যে অবস্থানে ছিল, বর্তমান অবস্থান তার চেয়ে খারাপ। কেন এ হতাশামূলক অবস্থান? এক. বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের ভূমি ও কৃষি ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিস্থিতি সৃষ্টির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এবং দারিদ্র্য ও অতিদারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। ১৯৯৬-৯৭ ও ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬ এবং ৬ দশমিক ৯ শতাংশ (সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৫)। এমনকি ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ২৪ ও ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ (সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১১)। এর পর থেকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার কমতে থাকে। ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩ দশমিক শূন্য ১, ২ দশমিক ৪৬, ৪ দশমিক ৩৭, ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, ‘গত ১০ বছরে কৃষি খাতে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ;’ যা ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির অর্ধেক। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়লে সাগরবক্ষের পানির উচ্চতা বেড়ে ডুবে যাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল। উদ্বাস্তু হবে লাখ লাখ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সার্বিক কৃষি ব্যবস্থা। ফলে বেড়ে চলবে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা।
দুই. উপর্যুক্ত বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী অতিদারিদ্র্য হার ২০১৩ সালের ১১ দশমিক ২০ শতাংশ থেকে ২০১৫ সালে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ মোতাবেক দেশে অতিদারিদ্র্য হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে, যা বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে (১২.৯-১০ শতাংশ) ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমবেশি দেড় কোটি। এরা অসহায় ও দুস্থ। এদের বেশির ভাগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। এটা ঠিক, দেশে জিডিপির পরিমাণ বৃদ্ধির আনুপাতিক হারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ বাড়ছে না। প্রতি বছর যে হারে বরাদ্দ বাড়ছে, তার চেয়ে অধিক হারে বাড়ছে সুবিধাভোগীর সংখ্যা। তাই ভাতাভোগীদের আর্থিক সুবিধা তেমন একটা বাড়ছে না এবং যেটুকু বাড়ছে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তা খেয়ে ফেলছে। তাই এ বিরাট জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন। তিন. আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে তৈরি বাংলাদেশ আন্ডারনিউট্রিশন ম্যাপ ২০১৪ অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৯টি জেলায় খর্বাকৃতি শিশু এবং ৫৪টি জেলায় কম ওজনের শিশুর হার ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দেশে বর্তমানে ৪১ শতাংশ শিশু খাটো ও ৩৬ শতাংশ কম ওজনের। এজন্য যেসব কারণ দায়ী, সেগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহে অপারগতা, দুর্বল পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং দুর্গম এলাকা ও অপ্রতুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বাংলাদেশে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমে এলেও নবজাতকের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক। প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক, নবজাতকের (প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে) মৃত্যুহার ২৮ জন (সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮)।
সবশেষে বলতে চাই, এসডিজি ঘোষিত দারিদ্র্য বিমোচন ও ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এসব উদ্যোগের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশের উপরে অর্জন করা, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় উপশমমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার কমপক্ষে ২০০৯-১০ অর্থবছরের হারের পর্যায়ে নিয়ে আসা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বরাদ্দ বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং ধনী-গরিবের আয়বৈষম্য হ্রাসে ব্যবস্থা নেয়া। এসব ব্যবস্থা নেয়া গেলে ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি অর্জন সম্ভব না হলেও আমরা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছতে পারব।
লেখক : সাবেক খাদ্য সচিব











