গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের ভুলের কারণে ঝুঁকিতে বিনিয়োগকারীরা

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের কারণে বিনিয়োগকারীরা হঠাৎ বিপদে পড়েছে। কোম্পানিটি প্রাতিষ্ঠানিক এবং ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের ভুল তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ভুল তথ্যের কারণে যেখানে টানা পাঁচ দিনে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ছাড়িয়েছিল, সেখানে গতকাল ঊর্ধ্বমুখী বাজারে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৫ শতাংশ।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি শেষে শেয়ার ধারণের হার পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স গত ৭ ফেব্রুয়ারি জানায়, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৫৮ দশমিক ০৮ শতাংশের মালিকানা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের, যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার মাত্র ৬ দশমিক ২১ শতাংশে নেমেছে। ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশে। কোম্পানির কাছে তথ্য পেয়ে ডিএসই কোম্পানিটির তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। শেয়ার ধারণে বড় পরিবর্তন বিষয়ে সন্দেহের উদ্রেক হলে ডিএসইর পক্ষ থেকে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত শেয়ার ধারণের তথ্য পাঠায় বীমা কোম্পানিটি।
এতে দেখা যায়, জানুয়ারিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার তো বাড়েইনি; উল্টো মোটের শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৩৩ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। অন্যদিকে ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কমেনি, বরং মোটের শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এখন ডিএসইর ওয়েবসাইটে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তথ্যটি যে সংশোধন করা হয়েছে, তা উল্লেখ করেনি ডিএসই। কিন্তু এই সংশোধনী প্রকাশের আগেই যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা চার দিন সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হয়েছে শেয়ারটি। অর্থাৎ প্রতিদিন ১০ শতাংশ হারে দর বেড়েছে, ছিল বিক্রেতাশূন্য অবস্থায়। গতকাল দিনের লেনদেনের শুরুতেও সোয়া ৮ শতাংশ দর বেড়ে ২৬ টাকা ২০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত টানা শেয়ারটির দর ১৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৬০ পয়সা বা ৫৮ শতাংশ বেড়ে ২৬ টাকা ছাড়ায়। এর পরই শেয়ারটির দর কমতে শুরু করে। গতকাল সর্বনিম্ন ২১ টাকা ৮০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। অর্থাৎ দিনের শুরুর তুলনায় শেষে এসে শেয়ারটির দরপতন হয় প্রায় ১৭ শতাংশ।
পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, এমন খবরে গত বৃহস্পতিবার গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের স্মরণকালের (অন্তত গত ১০ বছরের) সর্বোচ্চ সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ওই দিন এ কোম্পানির ৫৮ লাখ ৫ হাজার ৭৭৪টি শেয়ার ১৪ কোটি ৪ লাখ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে। দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে কেউ তার শেয়ারের বড় অংশ বিক্রি করে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এমন ভুলে তাদের দায় নেই। শেয়ার ধারণের তথ্য কোম্পানি যা দেয়, তা-ই হুবহু প্রকাশ করে ডিএসই। এখানে কোনো কোম্পানি ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তার দায় সংশ্নিষ্ট ওই কোম্পানির। তবে ভুল তথ্য সংশোধনের পর তা কেন বিনিয়োগকারীদের পৃথকভাবে অবহিত করা হয়নি-সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
এদিকে ভুল তথ্য প্রদানের কথা স্বীকার করেছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। বীমা কোম্পানিটির সচিব ওমর ফারুক জানান, এটা হিসাবের ভুল। সিডিবিএল (সেন্ট্রাল ডিপোজিটর প্রতিষ্ঠান) থেকে শেয়ারহোল্ডারদের তথ্য থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের তথ্য পৃথকভাবে হিসাব করতে গিয়েই ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, এটা শুধু ভুল নয়; ‘মারাত্মক ও অমার্জনীয়’ ভুল। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগেরই উচিত এ ঘটনাটি কী করে হলো, তা তদন্ত করে দেখা। কারও দায় থাকলে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল না হয়। অন্যদিকে, বিষয়টির উপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।