
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
আপিল বিভাগ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠনকে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে।
৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রিটকারীর লিভ টু আপিল খারিজ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এ আদেশ দেন। এরআগে, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে এ রায়ের দিন ধার্য করেন।
ওইদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। তারা যুক্তি দেন, ভ্রান্ত ধারণা ও ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দাখিল করা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর কােন সুযোগ নেই বেল উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় এই রিটের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে মাত্র।
আইনজীবীদের একাংশ শুনানিতে জানান, যে সরকার শপথ নেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট পুনর্গঠন করেছে, সেই আদালতেই আবার সেই সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তির পরিপন্থী। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার প্রধান ভিত্তি।
অন্যদিকে রিটকারী সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদের মূল যুক্তি ছিল-৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির রেফারেন্সে সরকার গঠনের বিষয়ে মতামত দেওয়ার পরিস্থিতি তখন বিদ্যমান ছিল না।
তার দাবি, সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ ও গঠনে আইনগত ত্রুটি রয়েছে। তবে হাইকোর্ট তার এই যুক্তি গ্রহণ না করে রিটটি খারিজ করে দেওয়া হয়, এবং রিটকারী সিনিয়র আইনজীবী মহসিন রশিদের নিকটন ব্যাখ্যা চান।
গত মঙ্গলবার লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শুরু হলে আদালতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, জনগণের বৈধতাই চূড়ান্ত বৈধতা। জনগণের বিশ্বাসই সরকারকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর এ বিষয়ে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। এ শুনানিতে আদালত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও আনে রাষ্ট্রপক্ষ এবং পরবর্তিতে আপিল বিভাগ তার কাছ থেকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা নিয়ে আদালতে দফায় দফায় শুনানি ও আইনগত বিতর্ক চলার মধ্যেই আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। আদালতের এই রায় দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে আর প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল

অন্তর্বর্তী সরকারের শপথকে বৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছেন, তার পর এই সরকারের শপথ বা গঠন নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের বৈধতা ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। তাই সরকারের শপথ, গঠন ও সামনে সংসদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কোন সুযোগ আর নেই।
৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের নিয়মিত বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এদিন লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স এবং মতামত প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদনের ওপর আদেশের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।
লিভ টু আপিলের পক্ষে শুনানি করেন আপিলকারী সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত লেখক ফিরোজ আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। আরও শুনানি করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনিক আর হক।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চান। সেই মতামতের ভিত্তিতেই অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং উপদেষ্টারা শপথ নেন।
এই প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রেফারেন্স পাঠানোর পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি—এই যুক্তি দেখান তিনি। রিটটি শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর বেঞ্চ রিট খারিজ করে দেন। পরে তিনি লিভ টু আপিল করেন।
রিট খারিজের আদেশে হাইকোর্ট বলেছিল, একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের উপদেশমূলক মতামত গ্রহণ করেছেন। এটি আইনি দলিল এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।
আদালত আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ এবং বহু বছর জনগণ তা স্মরণে রাখবে।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ারের কথা বলা আছে। এতে বলা হয়, জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হলে বা হতে পারে বলে রাষ্ট্রপতির মনে হলে তিনি বিষয়টি আপিল বিভাগে পাঠাতে পারবেন এবং শুনানি শেষে আপিল বিভাগের মতামত জানিয়ে দেবে।




















