
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
শেখ মুজিব বাহাত্তরে যখন দেশে আসছে বিমানবন্দর থেকে বাস ভবন পর্যন্ত লক্ষ লোক ছিল,৭৫ এ তার মৃত্যু হয়েছে তাকে দেশের মানুষই নির্মম ভাবে হত্যা করেছে, জানাযার ১৭ জন লোক হয়নি। বহু চড়াই উৎরাই এরপরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছে। অনুমতি দিয়েছে শেখ হাসিনাকে দেশে আসার এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের। যার পরিণতিতে জিয়াউর রহমানকে জীবন দিতে হয়েছে নির্মমভাবে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর দিন শেখ হাসিনা পালিয়ে ছিল ব্রাহ্মণবাডড়য়ার বর্ডারে।ঠিক একই ভাবে শেখ হাসিনা যখন দেশে আসছিল বিমানবন্দর থেকে পর্যন্তলক্ষ লক্ষ লোকের সারি ছিল,কোথায় একটু পা ফেলার জায়গা ছিল না, তাকে মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু টেররিজম করে বা প্যাসিবাদি কায়দায় শাসন করে জনগণকে জিম্মি করার কারণে পালিয়ে যাওয়ার যখন সময় হলো তখন সে গোপনে জীবন রক্ষার্থে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো সবাইকে পেলে একক ভাবে। ক্ষমতা থাকা অবস্থায় আবার এটাও দেখা গেছে, তার দলের নেতা-নেত্রীরা তার জন্য জীবন দিয়ে ফেলে পযন্ত, এবং যতরকম চামচামি আছে সব করেছে সাথে শিক্ষিত লোকেরাও তাদের নিজের যোগ্যতার কথা ভুলে গিয়ে চামচামিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল তার জন্য। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে রক্ষা করতে পারেনি বা করেনি কেউই। ঠিক এরই অপজিটে দেখি বিএনপির দুর্দিনে এবং খালেদা জিয়াকে যখন গুলশানে বাড়িতে আটকিয়ে রেখেছিল বালির ট্রাক দিয়ে,তখন কোন নেতারা অগ্রসর হয়নি নেত্রীকে রক্ষ্যায় আসেনি তাদেরকে উদ্ধার করতে। আর আসবেই বা কিভাবে কারণবালির ট্রাক তো আওয়ামীলীগ দেয় নি বালির ট্রাক তো দিয়েছিল স্বয়ং বিএনপিই। তখন অনেকেই এর জন্য দায়ী করেছেন মির্জা আব্বাসকে, কারন, তখন মির্জা আব্বাসের কার্যক্রমই তাকে এ কাজের জন্য দায়ী বলে প্রমান করেছিল। এমন কি বিএনপি’র দুধু সালা উদ্দিন আহমেদ মির্জা ফকরুল কেউই আগাইয়া আসেনি, সবাই আওয়ামী লীগের চামচামি করে নিজেদেরকে রক্ষা করে গেছেন ব্যবসা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল হাসিল করে গেছেন। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনে প্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর বিএনপি নিজেরাই স্বীকার করেছে মির্জা ফখরুল সহ, যে তারা ৫ আগস্ট ২০২৪ এর আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল না। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এবং সাধারন মানুষের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর বিএনপির এমন কোন নেতা বাকি নেই যে, তারা চাঁদাবাজি থেকে মানুষকে অত্যাচার সম্পদ লুট, দোকনপাট, সম্পত্তি দখলসহ এমন কোন কাজ বাদ দেয় নাই, যা বিএনপি’র তৃনমুল থেকে উচ্ছতর নেতা পর্যন্ত করে নাই। এবং আন্দোলনকৃত ছাত্র-জনতা থেকে সাধারণ মানুষকে অসম্মানে ও অশ্লিল ভাষায় গালাগালি করেছে। নিজেদের ক্ষমতার জন্য নিজেদের ক্ষমতা দেখিয়েছে এবং সকল প্রকার চাঁদাবাজি থেকে এমন কোন কাজ বাদ দেয় নাই যা মানুষদেরকে অতিষ্ঠ করার জন্য। দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতার মনে থালেও বিএনপির সিনিয়র এসব নেতারা ভুলে গেছে যে, প্রতিবছরই ৫ অগাস্ট আসবে, কারন ৫ আগস্ট তো ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে মুছে যায় নাই আর যাবেও না। সকলকে এ কথাটা মনে রাখতে হবে। আরো মনে রাখতে হবে অতীতের এসব নেতাদের আগমনে যে অবস্থা হয়েছিল ঠিক বর্তমান তারেক রহমান আসার সময়ও সমস্তলোক একইভাবে দাড়িয়েছে এবং তাকে আপ্যায়ন করার জন্য সিনিয়র নেতা থেকে ক্ষুদ্র দেশবাসী পর্যন্ত যাদের যাদের যা যা করার দরকার তাই করেছে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হল, কদিন পরে তারেক রহমানকেও এভাবে বিদায় করতে হবে কিনা এটা আমার কাছে এখন সন্দেহ হয় বলে আমি দেশবাসীর কাছে এ প্রশ্নটা রেখে গেলাম। আরো একটা প্রশ্ন তারেক রহমানের সমস্ত কার্যক্রম গুলোকে অর্থাৎ লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে এভারকেআর হাসপাতালে মাকে দেখার জন্য প্রবেশ করার আগ মুহর্ত পর্যন্ত পুরোটাই একইভাবে লাইভ দেখালেও এভারকেআর হাসপাতালে তার মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করাটা বাদদিয়ে দেখানো হয়েছে অর্থ্যাৎ মা খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার অংশটা সরাসরি দেখায় নাই কেন? এটুকু প্রশ্নবিদ্ধ রয়ে গেল।
দেশপ্রেমিক দেশে আসলে তাকে ফুলের মালাসহ যতরকম সংবর্ধনা এবং আপ্যায়ন করা দরকার তা করা হয়েছে। এবার আমরা আশা করব এমন কার্যক্রম করতে না হয় যাতে তাকে আবার নির্মমভাবে বিদায় করে দিতে না হয় জুতার মালা দিয়ে। এমন যাতে না হয় ৫ অগাস্ট ২০২৪ এর পুনরাবৃত্তি ঘটাতে দেখতে। না হয় যেন তারই করুণ পরিণতি দেখার, অর্থাৎ বিএনপির তাদের নিজের চোখে নিজেদের করুন পরিণতি দেখতে না হয় বা অপেক্ষায় বসে থাকতে না হয় নিজেদের করুণ পরিণতি দেখার জন্য , কারন হলো আমরা জাতিগতভাবে দুর্ভাগা এবং অশিক্ষিত জ্ঞানহীন নিকৃষ্ট জাতি। তবু কেন জানি মনে হয় আমাদেরকে হয়তো আবারও রুখে দাঁঙাতে হবে। আমি আবারও চাই না যে আমাদের এই ছাত্রসমাজ এবং ছাত্র-জনতা আবার কারো জন্য রুখে দাঁড়াক, কারণ, ভারতীয় আগ্রাসন এবং দুর্ভাগ্য যে আমাদের পিছু ছাড়ছে না…






















