নীতি-নৈতিকতা

খোন্দকার তাজরি রহমান
আধুনিক সভ্যতার ক্রমবর্ধমান ধারার সাথে পাল্লা দিয়ে যে নীতি নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হতো, তা আজ প্রায় ক্ষয়প্রাপ্ত এবং পতনের তলানিতে। এই পতনের ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে শান্তিপ্রিয় মানুষের দিনগুলি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। জীবনের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নীতি নৈতিকতা বোদের অবক্ষয়ের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অস্তিত্ব টিকে রাখা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চারপাশে তাকালে গুম, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি জঘন্য অপরাধ যেন নিত্যদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ-মাদক হয়ে উঠেছে আনন্দের উৎস; গুম, খুন, ছিনতাইয়ের মত অপরাধ একদিকে হয়ে উঠেছে দুঃসাহসিক কাজের অংশ এবং অপরদিকে ঘুষ ও অর্থ পাচার হয়ে উঠেছে যেনো সাধারণ কর্মকান্ডের মত বৈধ। কেবল ক্ষমতার আকাক্সক্ষা লোভ এবং অল্পতে সন্তুষ্ট না হওয়া, আরো অতিরিক্ত চাওয়া এবং পাওয়ার লোভে অনৈতিকতার সাথে জড়িয়ে মানুষ কোন না কোনভাবে নিজেকেই ভুলে যায়। তার জন্য তখন সকলেই এক, হোক তার নিজের পরিবার, সমাজ, গুষ্টি বা জাতিই কেননা। এর জন্য দায়ী কারা; পরিবারের অবহেলা নাকি ভাগ্যের পরিণাম। শিক্ষা – যাকে জাতির মেরুদন্ড বলা হয়। মানব দেহ যেমন মেরুদন্ড ছাড়া সোজা নয়, তেমনি শিক্ষাবিহীন জাতি মেরুদন্ডহীন দেহের মতো নিথর। শিক্ষা নীতি নৈতিকতা অর্জনে বড় ভূমিকা পালন করে যা আজ আমরা ধ্বংসের মাধ্যমে জাতিকে ধ্বংস করছি।

পরিবার- যা হলো শিক্ষার মূল উৎস। একটা চিরসত্য প্রবাদ আছে, Family is the batter Field of Education. অর্থাৎ শিক্ষার প্রথম ক্ষেত্রই হলো পরিবার। পরিবার থেকেই শেখানো হয় আচার-ব্যবহার, নীতি-নৈতিকতা। মানবজাতির সম্পূর্ণ জীবনধারা পরিবার থেকে পাওয়া শিক্ষার ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়। কিন্তু একটি পরিপূর্ণ পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধন এখনকার সময় পাওয়া যেন দুরূহ এবং দুর্বিষহ। অভ্যন্তরীণ শান্তি সন্তুষ্টি জীবনযাপনের ভিত্তি। কিন্তু অসন্তুষ্টতাই জীবনে শান্তি, শিক্ষা, নীতি-নৈতিকতাকে ধ্বংসের অবস্থানে পরিণত করে। ক্ষমতা এবং সম্পদের লোভ মানুষকে বিবেকবর্জিত পাষাণ, জ্ঞানহীন ও নির্বোধ করে তোলে।
An African proverb goes- “This land is nothing but what we borrowed from our children, we must written them better.”আমাদের স্বাধীনতা থেকে এ পর্যন্ত দেশের জন্য আমাদের গৌরবময় অর্জনকে নষ্ট করতে নীতি নৈতিকতাহীন সমাজই যথেষ্ট। সরকার এবং শাসকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রজন্মকে উন্নত সমাজ প্রদান করার মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। সাথে সকল মানবসমাজকে মন-মানসিকতার পরিবর্তনসহ এর প্রতি সামগ্রিক অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং দেশে-বিদেশে জাতীয় মান ও বিশিষ্টতা গড়ে তুলতে শিক্ষা, সাংস্কৃতি এবং নীতি-নৈতিকতাকে প্রসারিত করতে হবে। আর এর সামান্যতম ব্যত্যয় ঘটলে বিশ্বের দরবারে আমাদের মাথা উঁচুকরে দাঁড়ানোর কোন সুযোগ থাকবে বলে প্রত্যাশা করা যায় না…
লেখক : ছাত্রী, এলএলএম. ইষ্টর্ণ ইউনিভার্সিটি, ধানমন্ডি, ঢাকা।