
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে যেভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে তা লাইফ বীমা খাতের সমস্থ বোদ্ধাদের চোখ চড়ক গাছে উঠিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর স্পেশাল অডিট রিপের্টের সুত্র ধরে পত্র-পত্রিকা, অনলাইন এবং বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের নজরুল-খালেক এবং মোশারফ-হেমায়ত গংদের লুটপাট রূপকথার কাল্পনিক অবস্থাকেও হার মানিয়েছে। হাজার হাজার বীমা গ্রাহককে খাদের কিনারায় দাড় করিয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে উপনিত করে রাখে। নজরুল-খালেক এবং মোশারফ-হেমায়েত গংদের দুর্নীতি ও পাচারের দ্বায় বহন করতে গিয়ে কোম্পানীটির বহুলোককে চাকুরি হারাতে হয়েছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের চাকুরি হারাদের আর্তনাদ আকাশে-বাতাশে আর্তনাদ সৃষ্টি করলেও নজরুল-খালেক এবং হেমায়েত-মোশারফ গংদের দুর্নীতির নিকট নিস্ফল পরিহাসে পরিনত হয়েছে।
বাংলাদেশের চুয়ান্ন হাজার বর্গমাইলের মধ্যে তিরাশি কোম্পানীরর বীমা খাত,
অর্থ মন্ত্রনালয়ের নাই মাথাব্যাথা, বেসামাল আইডিআরএ, গ্রাহকের মাথায় হাত…।
ভিশন ৪১কে টার্গেটে রেখে ইতিহাসের আমরত্বের প্রতিক হিসাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কণ্যা বীমা বান্ধব মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অপার সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য এই মুহুর্তে নজরুল-খালেক এবং হেমায়েত-মোশারফ গংদের যোগসাজসে প্রতিযোগিতামুলক দুর্নীতির মহা উৎসব পুরু লাইফ বীমা খাতকে একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাড় করিয়েছে। অর্থ্যাৎ বীমাখাতটি পুরুপুরিই অদক্ষ, অযোগ্য আর দূর্নীতিবাজদের দখলে চলে গেছে। বর্তমানে নজরুল-খালেক পর্দার অন্তরালে থাকলেও সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক অপসারিত ও বহিস্কৃত দুর্নীতির মহারাজ ফারইষ্টের সাবেক এমডি হেমায়েত উল্লাহ্ সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পনি লিমিটেড এর প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে উচ্ছ আদালতে রিটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করিয়ে বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুনীতির মহাউৎসবের অংশিদার ও সহযোগিতার মহানায়ক হিসাবে খ্যাত, যিনি সরকারি চাকুরিতে থেকেও অবৈধ ভাবে দুই দুইটি কোম্পানী খুলে নিয়ম লঙ্গন করে শেয়ার ব্যাবসার কারনে পারিবারিকভাবে সম্প্রতি দুদকের তদন্ত জালে আটকা পড়া এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)‘র বর্তমান চেয়ারম্যান ড: মোশারফ হোসেন এফসিএ।
ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লি. এর অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সম্প্রতি পরিচালনা বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে নতুন বোর্ড গঠন করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আর এই পরিচালনা বোর্ড ভেঙ্গে দেওয়ার প্রমাণিক কারন হিসেবে পরিচালকগন কর্তৃক কোম্পানী থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা। প্রচারিত তথ্যমতে, এই আত্মসাৎ প্রক্রিয়ার সাথে বোর্ডের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরাই জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন দলিলিক তথ্য অনুসন্ধ্যানে ফারইস্ট লাইফের অর্থ আত্মসাতের সাথে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে কোম্পানীর সাবেক চেয়ারম্যানদ্বয় এ. এ. খালেক এবং নজরুল ইসলাম ও সেই সময়ে ফারইষ্টের সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহ ও কোম্পানীর অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোশারফ হোসেন এফসিএ অন্যতম। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, ফারইষ্টের সে সময়ের লুটপাট, অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির রাজগুরু ছিলেন ফাইষ্ট ইসলামি লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহ এবং সহযোগি ছিলেন অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোশারফ হোসেন এফসিএ। নজরুল-খালেকের পাচার ও দুর্নীতির তথ্য ফাঁসের ভয় দেখিয়ে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উল্লাহ,ড.মোশারফ হোসেনকে সাথে রেখে বিশেষ সুবিদা আদায় করে নিতেন। নজরুল-খালেক ও ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে হেমায়েত-মোশারফের সাথে, এক কথায় উভয়ে উভয়ের জোগসাজসে (কার্টুন সিরিজ টম এন্ড জেরির মত) নৈতিকতা এবং মানবিক মুল্যবোধকে পদদলিত করে সাধারন মানুষের আমানত রাখা ফারইষ্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মত একটা স্বনামধন্য লাইফ বীমা কোম্পানিকে দুর্নীতির রামরাজ্যে পরিনত করেন।
ড. মোশাররফ হোসেন বর্তমানে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জানা যায়, ড. মোশাররফ হোসেন ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফারইস্ট লাইফের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়েই মোটা অঙ্কের দুর্নীতির প্রকাশিত তালিকার একটি প্রমান, ১০৬,১৯,০০,০০০/-(একশত ছয় কোটি ঊনিশ লাখ) টাকা ঋনের নামে ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে লোপাট হওয়া, ফারইস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের ২৩৪তম সভায় ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লি. এর লিয়েনকৃত ঋণ হিসাবভূক্ত করণ করা হয়। এ সভায় বলা হয় ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের ১৮৬তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত ক্রমে ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কো. লি. এর ‘এমটিডিআর’ লিয়েন রেখে ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টিজ লিমিটেডকে ১০৬,১৯,০০,০০০/- টাকা ঋণ প্রদান এবং ঋণকৃত অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্ত ক্রমে নগদ এবং পে অর্ডারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রপার্টিজের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিমিত্তে অগ্রিম প্রদান করা হয়েছিল, সে অনুযায়ী ১। এম. এ খালেক ১৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। ২। মাহবুব এসোসিয়েটস ৫০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। ৩। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানী লি. ৩০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, ৪। কেডিসি কনস্ট্রাকসন লি. ৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকাসহ মোট ১০৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
আসল বাস্তবতা হল, টাকা বেরিয়ে গেলেও সে প্রপার্টিজের কার্যক্রম মুখেমুখে আর কগজে কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে যায়, আর কখনোই বাস্তবায়ন হতে কেউে দেখেনি। আর প্রদানকৃত টাকা ফেরত দিতে এবং এ কাজের জন্য ব্যাংক মুনাফার টাকা আনুপাতিক হারে সর্বমোট ১১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি এবং এভাবেই দূর্নীতি চলে। যা অডিট কমিটি জেনেও বিশেষ সুবিধা নিয়ে ব্যাপারটি ধামাচাপা দিয়ে রাখে। ধারাবাহিক ভাবে চলবে……..












