
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
প্রচীন ঐতিহ্যবাহী এজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ঐতিহ্য ধরে রাখার স্বার্থে নিজেদর ভিতর কিছু মতের অমিল ছিল, দলের বৃহত্তর স্বার্থে সকলের ঐক্যবদ্ধ মতামতের ভিত্তিতে দলটির নেতাকর্মীরা ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে, অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী হওয়ার বদ্ধপরিকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ বুধবার বিকালে পুরাতন ঢাকার সুপরিচিত মুসলিম লীগের সাবেক এমপি মরহুম আলহাজ্ব সিরাজউদ্দিনের পুত্র মো. সরফুদ্দীনের আজানে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সকল নেতা-কর্মীবৃন্দ ঢাকা মহানগরী মুসলিম লীগের দিলকুশাস্ত্র কার্যালয়ে সমবেত হয়ে এক বৈঠকে এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মুসলিম লীগের সিনিয়র নেতা জনাব আলহাজ্ব শরফুদ্দীনের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, এ্যাড, জসীমউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ ও মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক খোন্দকার জিল্লুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল আলিম, খোন্দকার জিয়াউদ্দিন, সৈয়দ আব্দুল হান্নান নূর, শেখ মো. আবু জাফর, ইঞ্জি, গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, ওসমান গনি বেলাল, শেখ এ সবুর, মাকসুদুর রহমান প্রমুখ। দলের প্রবীন দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার ও এ্যাড. আফতাব হোসেন মোল্লা ঢাকার বাইরে থাকায় ভার্চুয়ালি সভায় অংশগ্রহণ করেন ও ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।
দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি প্রতিবেশী একটি আগ্রাসনবাদী রাষ্ট্র। জুলাই গণঅভুত্থানের পর পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের হাজার হাজার খুনীদের। আশ্রয় দিয়ে তারা তা নিশ্চিত করেছে। ওসমান হাদীর উপর গুলি ও জুলাই যোদ্ধাদের উপর প্রাণনাশের হুমকি সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সকর্ত বার্তা দিচ্ছে। তিনি সকল নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সকলকে নিয়ে গঠনতন্ত মোতাবেক অবিলম্বে দল পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করা হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ আত্মসমালোচনা করে বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দিশেহারা জনগণ হন্যে হয়ে যখন একটি শক্তিশালী মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তালাশ করে ফিরছে, এরকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু বিদেশী এজেন্টের চক্রান্তে পড়ে বিভক্তি মুসলিম জাতিত্তার আতুড়ঘর মুসলিম লীগকে আরও দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। ফলে আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে উঠতে কিছুটা ব্যর্থ হলেও দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে মুসলিম জাতীয়তাবাদীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া কোন সাধারণ বিষয় নয়, বরং নবাব সলিমুল্লাহর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক আদর্শ মুসলিম জাতিসত্তা পুনর্জাগণের এক বিপ্লবী অঙ্গীকার। যদি কেউ মুসলিম লীগে বিভক্তি রাখার চেষ্টা করে তারা প্রতিবেশী আগ্রাসনবাদী রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করছে মর্মে দেশ ও জাতির শত্রু হিসাবে বিবেচিত হবে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ, ব্যক্তি স্বার্থ, পদ-পদবী ও অতীতের দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শক্তিশালী, গণমুখী দল হিসাবে মুসলিম লীগকে গড়ে তুলতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে বলেন, মুসলিম জাতিসত্তার পুনর্জাগরণের বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে, আসন্ন নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হারিকেন মার্কা নিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করে দেশবাসির প্রতি শতস্ফুর্ত আহ্বান জানিয়েছে।




















