শহীদুল ইসলামের ডেল্টা লাইফের সিইও পদে পুনর্বহালে সব বাধা অতিক্রম

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ(আইডিআরএ) এবং মালিক পক্ষের বহু নাটকীয়তার পর হাইকোর্টের রায়ে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে মো. শহিদুল ইসলামের নিয়োগে সব বাধা অতিক্রম হলো। লাইফ বীমা কোম্পানিটির ২৫৫তম পর্ষদ সভায় মুখ্য নির্বাহী পদে মো: শহীদুল ইসলামের নিয়োগ অনুমোদনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ও অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালের ২রা এপ্রিল। সকল নথিসহ নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ চেয়ারম্যান বরাবর প্রস্তাব পাঠান ডেল্টা লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মো. শহীদুল ইসলামকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদের অবৈধতার কথা বলে ডেল্টা লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন দেয়নি।
সম্প্রতি মো. শহীদুল ইসলাম এই নিয়োগ বাতিল নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন। রিট পিটিশন মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে মাননীয় বিচারক, হাইকোর্ট ডিভিশন তৎকালীন সিইও পদে সুপারিশকৃত মো. শহীদুল ইসলামের নিয়োগ বহালের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, স্বার্থহানী, প্রতিহিংসা এবং অনৈতিকতার বশবর্তী হয়ে আইডিআরএ’র তৎকালীন পরিচালক মোহা. আব্দুল মজিদ মো. শহীদুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রে ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতাকে নিয়োগ বহালের বিরুদ্ধে সেচ্ছাপ্রনোদিত ও আইডিআরএ’র মতামত জানিয়ে ডেল্টা লাইফ চেয়ারম্যান বরাবর ২০২৩ সালের ১৬ মে চিঠি পাঠান। চিঠিতে প্রস্তাবিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামের জমা দেওয়া বিএ ও এমএ’র সনদ দুটিই দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইস্যু নয় মর্মে ওই দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য লিখেন আব্দুল মজিদ।
সনদ অনুযায়ী, ২০১০ সালে সিজিপিএ ৩.৫১ অর্জিত স্নাতক ও ২০১১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ অর্জিত স্নাতোকত্তর ডিগ্রি অর্জন দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় মিরপুর-১০ ক্যাম্পাস থেকে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে থাকলেও দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে ‘সংস্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সনদপত্র দুটি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, বাড়ি নং-২১, রোড-৯/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা-১২০৯ থেকে ইস্যু করা হয়নি বলে ডেল্টা লাইফে ফেরত পাঠানো সিইও অনুমোদন বাতিল প্রস্তাবে উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন আব্দুল মজিদ।
সূত্র জানায়, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালের ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থান সংকুলান না হওয়ায় মিরপুর-১০ এ আরেকটি ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামের সাথে পরিচালিত হলেও গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ সোমবার পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারি আওয়ামী প্রশাসনের রোষানলে পড়ে ২০১৬ সালে সনদ বাণিজ্য সহ নানা অনিয়মের কারণে আদালতের নির্দেশনায় কয়েকটি ক্যাম্পাসে বিভক্ত বেসরকারি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
এখানে দেখার বিষয় হল, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করার সময়ও সাময়িক অনুমতিপত্রের শুরুতে উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ঠিকানা, বাড়ি নং-২১ (নতুন), রোড নং- ৯/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা -১২০৯ ঠিকানা ছাড়া কমিশন অনুমোদিত আর কোনো বৈধ ক্যাম্পাস উল্লেখ না থাকাতে কৌশলে কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালটির নামে চালু থাকা অবস্থার একাধিক ক্যাম্পাস ও অফিস ঠিকানা ব্যবহার করে সনদ বাণিজ্যসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করায় অনেক প্রকৃত শিক্ষার্থী প্রতারিত হয়। যার কারনে দারুল ইহসানের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য কার্যালয় বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দারুল ইহসানের সকল অনিয়ম তদন্ত শেষে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছিল। ২০১৬ সালে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার সময় জারিকৃত সাময়িক অনুমতিপত্রে একমাত্র বৈধ কার্যালয় হিসেবে ধানমন্ডির ক্যাম্পাসই উল্লেখ করা হয়।
আমাদের অনুসন্ধানকালে দেখা যায় ১৯৯৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরুর কয়েক বছর পরই স্থান সঙ্কুলানের কারনে প্রতিষ্ঠিত মিরপুর-১০ এর ক্যাম্পাস চালু করলেও মিরপুর-১০ এর কার্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস হিসেবে থাকে, ধানমন্ডি প্রধান ক্যাম্পাসে মুল কার্যক্রম থাকলেও শাখা প্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে সেসময় বৈধ ক্যাম্পাস বলে প্রচার করেছিল।

মো: শহীদুল ইসলাম মিরপুর-১০ এর ক্যাম্পাস থেকে ২০১০ সালে স্নাতক ও ২০১১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন আর ২০১৬ সালে এই ক্যাম্পাস অবৈধ ঘোষণা করা হয়, এতে দেখা যায়, মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সনদ বানিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারনেই ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম সহ বহু শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে এই ক্যাম্পাস অবৈধ ঘোষণা করার পুর্বে প্রকৃতভাবে পাশকরা অনেকেই আইডিআরএসহ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৈধভাবে চাকুরি করেন। এই বিষয়ে সকল তথ্য জানা থাকলেও প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ কোন এক হীন উদ্দেশ্যে বা ইচ্ছাকৃতভাবে শহীদুল ইসলামকে ডেল্টা লাইফের সিইও হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠায়। হাইকোর্টডিভিশন বেঞ্চের মাননীয় বিচারক রিট পিটিশনের শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যবেক্ষণ ও উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ আমলে নিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ মো. শহীদুল ইসলামের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
এই বিষয়ে শহীদুল ইসলামের সাথে স্বাক্ষাতকারে বলেন, “সিইও হিসেবে নিয়োগ পেতে আমার ল-৪ কল শর্ত, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও বিনিময়বিহীন ঈর্ষান্বিত ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগপত্র অনুমোদন না দিয়ে সুদীর্ঘ প্রায় দেড় বৎসর জীবন বীমা শিল্পসহ সামাজিক ও পারিবারিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করায় আর্থিকভাবে আমার ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। এতে করে আমি, আমার পরিবার ও ইংরেজি মাধ্যমে “এ” ও “ও” লেবেল পড়ুয়া দুই সন্তান নিয়ে নিদারুণ অর্থকষ্ট সহ ভীষণ অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়ে আসছি!” এমতাবস্থায়, আমি ডেল্টা লাইফের সম্মানিত পরিচালনা পর্ষদ, ইওঅ, ইওঋ, ওউজঅ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি, সৎ ও আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে ডেল্টা লাইফের সিইও হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক গত মার্চ”২৩ এ ইস্যুকৃত অফার লেটার এর তারিখ বা সিইও হিসেবে চুক্তি সম্পাদনের তারিখ ২ এপ্রিল “২৩ থেকে কার্যকর করে আমাকে ডেল্টা লাইফ এর সিইও হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সংস্লিষ্ট সকলের সহায়তা কামনা করছি।”
১৯৯১ সালে বীমা পেশায় ক্যারিয়ার শুরু করা শহীদুল ইসলাম সর্বশেষ ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২২ সালের মে পর্যন্ত বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের মে থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরও পুর্বে ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে।
জীবন বীমা শিল্পের প্রথম বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল লাইফ দিয়ে পথচলা শুরু শহীদুল ইসলামের। কোন একসময়ের চৌকস মাঠকর্মী শহীদুল ইসলাম প্রায় সাত বছরের অধিক সময় ধরে বিভিন্ন জীবন বীমা কোম্পানি’র সিইও হিসেবে সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে জীবন বীমা শিল্পের উন্নয়নে নিবেদিত হয়ে লক্ষ লক্ষ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেয়ায় সম্মানিত হয়েছেন। একাজের পাশাপাশি দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে জীবন বীমার আওতায় এনে হাজার হাজার অসহায় পরিবারকেও আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রশংশিত হয়েছেন।
তার সাথে সরাসরি বিভিন্ন জীবন বীমা কোম্পানিতে সম্পৃক্ত হওয়া এমন প্রায় অর্ধডজনের অধিক সফল উন্নয়ন কর্মকর্তা বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জীবন বীমা কোম্পানি’র সিইও হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। চার্টার্ড লাইফে সিইও হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক বাস্তবতা সৃষ্টি করেন শুধু এফএ, ইউএম ও বিএম মাত্র ৩ টি টিয়ারে কোম্পানি পরিচালনায় ব্যাপক সাড়া ফেলেন জীবন বীমা অঙ্গনে। বেস্ট লাইফ এর সিইও হিসেবে যোগদান করেই আরো ভিন্ন ধারার পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এফএ থেকে সকল পদে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য আইডিআরএ’র নির্দেশ অনুযায়ী সর্বাধিক আয়ের সুযোগ, কোম্পানি প্রদত্ত মাসিক-ত্রৈমাসিক ভাতা ও অনলাইনভিত্তিক সকল গ্রাহক-কর্মীসেবা চালু করেন মো. শহীদুল ইসলাম।