অজয় দাশগুপ্ত
এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে প্রায় ১৬ লাখ ছাত্রছাত্রী। আর পাস করতে পারেনি প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাত্রছাত্রী। যারা পাস করতে পারেনি কিংবা যারা খুব কম নম্বর পেয়ে টেনেটুনে পাস করেছে, সে দায় কার? এ জন্য কেউ বলবেন বিদ্যালয়ের দায়। কেউ বলবেন পরিবার সন্তানের প্রতি নজর দেয়নি। আবার কেউবা বলবেন- সবকিছু নষ্টদের দখলে…। তাই এত অধঃপতন। এবার পাসের হার ৮১ শতাংশ। অতীতে এসএসসিতে ২০-২৫ শতাংশ পাসের ‘রেকর্ড’ আমাদের জানা আছে। তখন সংবাদপত্রে শিরোনাম হতো- ‘ফল বিপর্যয়’। দায় পড়ত মূলত সরকারের ওপর। আমরা ‘নকলের মহোৎসব’ শিরোনামও দেখেছি। শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এমনকি ছাত্র সংগঠনের নেতা- সবার মিলিত চেষ্টা ছিল কী করে ‘পরীক্ষার্থীদের কল্যাণ’ করা যায়।
প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অকৃতকার্যদের দলে থাকে। এরা ১০ বছর আগে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। তারপর প্রতি বছর বছরজুড়ে ক্লাস করেছে। প্রতি বিষয়ে প্রতি বছর কমপক্ষে তিনবার পরীক্ষা দিয়েছে। আরও ছিল মাঝেমধ্যে ক্লাসের পরীক্ষা। এবার যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তারা অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা দিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা দিয়েছে। ওপরের ক্লাসে ওঠার জন্য প্রতি বছর পরীক্ষা দিয়েছে। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিয়েছে। তারপর ছিল প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষা। এভাবে বছরের পর বছর বাছাই হতে হতে একদল নির্বাচিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য। অনেকে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাইভেট পড়েছে। বাড়িতে কিংবা শিক্ষকের বাড়িতে অথবা কোচিং সেন্টারে পড়েছে। আমি যখন মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি- সে সময়ে বরিশালের গৈলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অঙ্কের শিক্ষক ছিলেন নলিনী সিমলাই। তিনি মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে খলিলুর রহমান নামের (ক্লাসের ফার্স্ট বয়) এক ছাত্রকে ইলেকটিভ অঙ্ক পড়াতেন। একদিন সিমলাই স্যার আমাকেও বললেন, ‘তুইও খলিলের সঙ্গে পড়তে বসে যা, টাকা দিতে হবে না।’ খলিলুর রহমানও তাতে সায় দিল। ঠিক তখনই সিমলাই স্যার একটি উপদেশপূর্ণ বাক্য বলেন আমাদের দু’জনকে উদ্দেশ করে- ‘ক্লাসে তোরা দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাববি না। সব সময় নিজেকে মনে করবি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। নিজেকে নিজে ছাপিয়ে যেতে হবে। আজ যতটা ভালো, কাল তার চেয়ে ভালো করতে হবে। নিচের ক্লাস থেকে ওপরের ক্লাসে আরও ভালো করতে হবে।’
স্যারের এ উপদেশ আজও মনে রাখার চেষ্টা করি এবং অন্যদেরও বলি। প্রকৃতই শিক্ষাজীবনে বা কর্মজীবনে সর্বত্রই যদি নিজের কাজ প্রতিদিন উন্নত করা যায়, সেটাই নিজের মঙ্গল আনে এবং দেশকে আরও ভালো কিছু দেওয়া যায়।
বরিশাল বিভাগের বিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. এমএম আকাশের সঙ্গে। ‘কেমন শিক্ষা বাজেট চাই’- এটা ছিল আলোচনার মূল বিষয়। আয়োজন করেছিল বরিশাল জেলা শিক্ষক সমিতি। শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে মিছিল, সমাবেশ, অনশন করে। কিন্তু জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ ব্যতিক্রমী। অর্থমন্ত্রী পদে যিনিই থাকুন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা বলেন। অর্থনীতিবিদদের কাছে মতামত জানতে চান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সবার প্রত্যাশা জানতে-বুঝতে চান। কিন্তু দেশে পাঁচ কোটির বেশি ছাত্রছাত্রীকে যারা শিক্ষা দেন, সেই বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয়-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন ‘কেমন শিক্ষা বাজেট চাই’ বিষয়ে- তেমনটি শুনিনি। বরিশালের বিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠনটি গত বছরও একই বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করেছিল। বলা যায়, তারা নিজেদের কথা নিজেরাই বলেছে। শিক্ষকদের অনেক সংগঠন রয়েছে দেশে। তারাও দেশের নানা স্থানে এ ধরনের আয়োজন করতে পারে জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা এবং তাদের গণহত্যার সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর ঘাতক সংগঠন আলবদর ও রাজাকার বাহিনী অনেক শিক্ষককে হত্যা করেছিল। কারণ তারা মনে করেছে- ‘শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছে।’ তাহলে জাতীয় বাজেট বিশেষ করে শিক্ষা বাজেট নিয়ে, শিক্ষাঙ্গনে বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বসতে সমস্যা কোথায়?
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক শিক্ষা বাজেট বিষয়ে আলোচনাপর্বের উদ্বোধন করে শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার ভিত গড়ে দেন বিদ্যালয় শিক্ষকরা। এ ভিত যারা গড়ে দেবেন, তাদের হতে হবে যোগ্য ও সৃজনশীল। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাদের পাঠদানের ক্ষমতার প্রতিও লক্ষ্য রাখতে পারে। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছাত্রছাত্রী সরকারি বড় পদ কিংবা বহুজাতিক কোম্পানির চাকরির মতোই শিক্ষকতাকে আকর্ষণীয় মনে করে। এ জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখা চাই।
কিন্তু এ বাজেট প্রসঙ্গেই অর্থনীতিবিদ ও অর্থনীতির শিক্ষক অধ্যাপক যে চিত্র তুলে ধরেন, সেটা হতাশার। গত দেড় দশক ধরে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ জিডিপির দুই শতাংশের মতো থাকছে। একটি গতিশীল অর্থনীতির জন্য এটা কাম্য হতে পারে না। অথচ ভুটানেও এ বরাদ্দ ৫.৬ এবং নেপালে ৪.৯ শতাংশ। তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে শিক্ষা খাতে তুলনামূলক বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু অর্থনীতি যেভাবে বাড়ছে, শিক্ষা খাতের জন্য যে নতুন নতুন চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে, তাতে আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই। বরং উদ্বিগ্ন হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তিনি ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৪ শতাংশ করা এবং মোট বাজেটের ১২ শতাংশের পরিবর্তে ১৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।
বিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি- শিক্ষার জাতীয়করণ। মূলত এ দাবি এসেছে চাকরির নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা থেকে। ব্রিটিশ আমলে আমাদের এ ভূখণ্ডে যখন শিক্ষার প্রসার ঘটছিল, অনেক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি নামমাত্র বেতন কিংবা এমনকি বিনা বেতনে বিদ্যালয়ে পাঠদান করেছেন। গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক কৈলাশ চন্দ্র সেন ১২৫ বছর আগে ১৮৯৩ সালে যখন প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন, তখন তিনি ছিলেন উচ্চ সরকারি পদে আসীন। সেই চাকরি তিনি ছেড়ে দেন- নিজ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে। তিন দশকেরও বেশি এ দায়িত্ব পালনের পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার সমাধিসৌধে লেখা আছে- ‘উবধঃয উবারফবং, গবসড়ৎু খরহমবৎং শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য এখনও বরিশাল অঞ্চলে কৈলাশ চন্দ্র সেন গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত নাম। কিন্তু বাজার অর্থনীতির এ যুগে তার মতো শিক্ষক ও সর্বস্বত্যাগী কতজন মিলবে?
বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। প্রতি বছর বিনামূল্যে বই পাচ্ছে চার কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রী। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। প্রায় এক কোটি ছাত্রছাত্রী কমবেশি বৃত্তি পাচ্ছে। মেধাবীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি আছে। কিন্তু শিক্ষকদের অভিযোগও কম নেই। সর্বত্র অভিযোগ ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে। সংসদ সদস্যদের সর্বগ্রাসী প্রভাব অনেকে এক ধরনের অরাজকতা-বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হচ্ছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবইকে পরিহাসের বিষয়ে পরিণত করেছে গাইড বইয়ের প্রকাশকরা। তারা কিছু শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করছে। পাঠ্যবই কিনতে যা ব্যয় হতো, তার তিন-চার গুণ বেশি ব্যয় হয় গাইড বই কিনতে। আইনে গাইড বই-নোট বই নিষিদ্ধ। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর মতো বুকের পাটাওয়ালা লোকের তো অভাব নেই। শহর ও গ্রাম সর্বত্র বিপুলসংখ্যক বেসরকারি বিদ্যালয়ে মাসে তিন-চারশ’ কিংবা আরও বেশি টাকা ছাত্রবেতন হিসেবে নেওয়া হয়। শিক্ষকরা বলছেন, এভাবে যে অর্থ আদায় করা হয় তার বড় অংশের হিসাব থাকে না। ‘ভাউচার’ করে কিছু লোক নিয়ে নেয়। এ অর্থ যদি সরকারের ভাণ্ডারে জমা পড়ে, তাহলে বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য সরকারকে বাজেট থেকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে না। পিরোজপুরের বিখ্যাত লতিফ ইনস্টিটিউশনের (যে প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে) একজন সাবেক প্রধান শিক্ষক বলেন, যেসব বরেণ্য প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকের নাম প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছে, তাদের সময়ে যদি বর্তমানের ম্যানেজিং কমিটি থাকত, তাহলে পরীক্ষার ফল হতাশাজনক হতো, সেটা জোর দিয়েই বলতে পারি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার এখন পর্যন্ত বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় ‘দলীয় ও পারিবারিক স্বার্থের’ বাইরে যেতে পারেনি, এটাই অভিযোগ। সঙ্গে আছে দুর্নীতির অভিযোগ- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে (তারপরও বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন সরকারি অফিসের কেরানিদের চেয়ে বেশি নয়), একই সঙ্গে বেড়েছে চাকরির জন্য ঘুষ প্রদানের রেট। এসব ওপেন সিক্রেট; কিন্তু কেউ মুখ খোলে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকার যে বরাদ্দ দেয়, সেখানেও ভাগ বসায় প্রভাবশালীরা। নির্মাণকাজ মানসম্পন্ন হয় না; কিন্তু মুখ খোলে না কেউ।
এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো না গেলে মানসম্পন্ন শিক্ষার স্বপ্ন কীভাবে পূরণ হবে? আমাদের অর্থনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ঘটছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের পথে বাংলাদেশ। সর্বত্র চাহিদা দক্ষ জনশক্তির। ছাত্রছাত্রীরা দাবি তুলছে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কেবল মেধাকেই প্রাধান্য দেওয়া। এটা যুগের দাবি। মেধাবী তরুণ প্রজন্ম বের হয়ে আসবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে। এ জন্য চাই যোগ্য শিক্ষক। চাই প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণীয় পরিবেশ। শিক্ষা বাজেট বরাদ্দের তাগিদ এ কারণেই। এ জন্য কেবল সরকারকে নয়, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাবেক ছাত্রছাত্রীরাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমার নিজের বিদ্যালয় গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কথা বলতে পারি। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সৈয়দ আবুল হোসেন (সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী) ২০০০ সালে তার বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির কৃতী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য পাঁচ লাখ টাকার তহবিল গঠন করেন। এ তহবিল একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তহবিল ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু থাকার কারণে এ তহবিল থেকে গত ১৮ বছরে সাত লাখ টাকার বেশি বৃত্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং এখনও সাত লাখ টাকার বেশি ব্যাংকে জমা আছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে এ ধরনের শিক্ষা তহবিল সাবেক ছাত্রছাত্রীরা গঠন করতে পারেন।
কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন যে ধরনের ব্যবস্থাপনা তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যথেষ্ট ঘাটতি, এমন অভিযোগ রয়েছে এবং তা অমূলক নয়। সরকার শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে যেতে থাকল এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকেও বরাদ্দ মিলল; কিন্তু ব্যয়ে থাকল না নিয়ম-কানুনের বালাই। তাহলে তরুণ প্রজন্মকে মেধাবী ও কর্মজীবনের জন্য উপযুক্ত করে তোলার প্রত্যাশা কীভাবে পূরণ হবে?












