অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক:
সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুসারে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা না করায় একটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। একই কারণে পাঁচটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। আজ রোববার ( ৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী আরো জানান, দেশে বর্তমানে মোট ৭৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ার নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ, ঢাকার নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, রংপুরের নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, ঢাকার উত্তরার আইচি মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী’র শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেয়ার মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গাঁর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেসরকারি ৬৬টি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর তদারকি করে। একই সাথে অধিভুক্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হতেও তদারকি করা হয়। এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজআইন-২০২২ এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা, ২০১১ (সংশোধিত) অনুযায়ী গঠিত কমিটির মাধ্যমে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার মান তদারকি করা হয়।
তিনি জানান, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ও ৫টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ও একটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন বাতিল করা হয়। এর আগে কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করার প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যায় ৬৫ হাজার ৯১০ জন। ২০১২ সালের সর্বশেষ খানা তল্লাশি হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। যাতে মানুষ আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি পান করছেন, ফলে বর্তমানে আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত রোগী কমে গেছে। বর্তমানে সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে আর্সেনিক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৭৭৬ জন এবং মারা গেছে ৭৯ জন।
আর্সেনিক রোগীর চিকিৎসায় সরকার আন্তরিক বলে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, তাদের চিকিৎসার জন্য সরকার দেশের সব সরকারি হাসপাতালে মাল্টিভিটামিন জাতীয় ওষুধ, ভিটামিন এ ক্যাপসুল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেট ক্রিম বিতরণসহ অন্যান্য সুলভ চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ করে যাচ্ছে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান জানান আগামী হজে বাংলাদেশ হতে ব্যালটি ১৫ হাজার ও নন ব্যালটি ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী হজ পালন করবে।










