“সাংবাদিকতা এখন বিরাট চ্যালেঞ্জর মুখে”


আবদুস শহিদের স্মরণ সভায় অভিমত…..
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :-
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবদুস শহিদের স্মরণ সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, সাংবাদিকতা এখন বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকার এবং মালিক পক্ষের অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় এখন মড়ক ধরেছে। বাকস্বাধীনতা নিয়ে আজ লেখক-সাংবাদিকরা চরম সঙ্কটে রয়েছেন উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন কথা বলতেও ভেবে চিন্তে বলতে হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে শুধু গণমাধ্যমই নয়, নাগরিকরাও নিজেরাই নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। কিছু লিখলে বা বললে সরকারের বিরুদ্ধে যায় কিনা, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে যায় কিনা, এটি এখন বড় সংশয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিইউজের সাবেক সভাপতি ও এনটিভির বার্তা সম্পাদক আবদুস শহিদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত আলোচনায় অংশ নেনÑ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদ, দ্য নিউ নেশন পত্রিকার এডিটর মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কবি আবদুল হাইশিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউর সভাপতি মোরসালিন নোমানী, সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ ও সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, এনটিভির পরিচালক নুরুদ্দিন আহমেদ, যুগ্মবার্তা সম্পাদক ফখরুল আলম কাঞ্চন, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশিদ আলম, ডিইউজের সহসভাপতি বাছির জামাল ও রাশেদুল হক, সাবেক সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি সাদ বিন রাবি, প্রচার সম্পাদক মাহমুদ হাসান, নির্বাহী সদস্য এ কে এম মহসিন, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ারুল হক, প্রচার সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসাইন, ক্রীড়া সম্পাদক আবুল কালাম, দফতর সম্পাদক ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর, নির্বাহী সদস্য রফিক মুহাম্মদ ও জেসমিন জুঁই, সাব-এডিটর কাউন্সিলের দফতর সম্পাদক মনির আহমেদ জারিফ প্রমুখ।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন সৎ, সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিক। তার মৃত্যু সাংবাদিক সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। জাতির এই ক্রান্তিকালে তার মতো সৎ, সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিক নেতার খুব প্রয়োজন ছিল।
শওকত মাহমুদ বলেন, আবদুস শহিদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় অকপটে সত্য বলতে পারতেন। মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটার মতো সাংবাদিক কমই আছেন, আব্দুস শহিদ ছিলেন তেমন এক ব্যক্তি। তিনি গণতন্ত্রের জন্য, মুক্ত মতের জন্য, কথা বলার স্বাধীনতার জন্য, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।
এম আবদুল্লাহ বলেন, আবদুস শহিদের অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এ অপূরণীয় ক্ষতি। সাংবাদিক সমাজ তার অবদানের কথা কোনো দিন ভুলবে না।
বাংলাদেশে মুক্ত সাংবাদিকতার বৈরী পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রতি অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা এবং মানহানি মামলা একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আবদুস শহিদ গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য সব সময় সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি যে সাংবাদিকতার জন্য লড়াই করেছেন সেটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশে সাংবাদিকতা আজ আধমরা হয়ে গেছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় মড়ক ধরেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিলুপ্ত প্রায়। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা আজ কেড়ে নেয়া হয়েছে। যেখানে সাংবাদিকদের হওয়ার কথা ছিল ‘ওয়াচডগ’। সেখানে সাংবাদিকরা আজ সত্য কথা লিখতে পারছেন না। লিখতে হচ্ছে সরকার ও মালিক পক্ষকে খুশি রেখে।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে থাকা আইনটি যেন মানুষের বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যম তো বটেই, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে যারা নিজেদের মত প্রকাশ করে থাকেন তাদের সবসময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়।
কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, একটি দেশে স্বাধীন সংবাদপত্র না থাকলে সেখানকার মানুষের দুর্দশার অন্ত থাকে না। সর্বশেষ দৃষ্টান্ত মিয়ানমার এবং তার দেশের নাগরিক রোহিঙ্গারা। আমি মনে করি, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বাধা দেয়া বড় অন্যায়। দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ যাতে ক্রমাগত সঙ্কীর্ণ ও দুর্বল হয়ে না পড়ে সেদিকে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।
ইলিয়াস খান বলেন, যেকোনো দেশেই আইন তৈরি হয় জনগণের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা করে। সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি আইনের কারণে যদি অসুবিধার মাত্রা বেড়ে যায়, তখন আবার আইনে পরিবর্তনও আসে, অনেক সময় তা বাতিলও হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায় এর উল্টো প্রবণতা। দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে থাকা আইনটি যেন মানুষের বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গণমাধ্যম তো বটেই, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে যারা নিজেদের মত প্রকাশ করে থাকেন, তাদের সবসময়ই আতঙ্কে থাকতে হয়, এই বুঝি তার ওপর এই আইনের খড়গ নেমে এলো। সুত্র : নয়াদিগন্ত