সুব্রামানিয়াম দিল্লীর গোপন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন -মুসলিম লীগ

কাজী কাদেরের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভা

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতা রাজ্যসভার এম.পি সুব্রামানিয়াম স্বামীর “বাংলাদেশে দিল্লীর শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে”-এরকম কাণ্ডজ্ঞানশূন্য মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ বলেন,১৯৪৭ সালের ১৪ আগেস্টর পর হায়দ্রাবাদ ও কাশ্মীরের মতো এ ভূখণ্ডটিও দখল করার পরিকল্পনা করেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস সভাপতি পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের একটি প্রদেশ থাকায় পরিকল্পনা সফল করতে পারেনি দিল্লী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা দিয়ে ভারতের সেনাবাহিনী স্থায়ী ভাবে রেখে দেয়ার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর লালিত স্বপ্ন ভঙ্গ করে ১০ই জানুয়ারী,১৯৭২ দিল্লীর পালাম বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধু এদেশ থেকে দখলদারবাহিনী প্রত্যাহারে বাধ্য করান দিল্লীকে। গোলযোগপূর্ন উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্যকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে বাংলাদেশকে দখল করার দিল্লীর পরিকল্পনাটি বিজেপি নেতা সুব্রানিয়াম স্বামী প্রকাশ করেছেন যা মুসলিম লীগের কাছে নতুন কোন বক্তব্য নয় বরং এটাই পরিস্কার হয়েছে দিল্লী তার পুরনো স্বপ্ন থেকে এখনো সরে আসেনি। বাংলাদেশের একজন মুসলমান জীবিত থাকতে তাদের এ স্বপ্ন পূরণ হবে না।

আজ (০২ অক্টোবর, ২০১৮) সকাল ১১.০০টায় দলের প্রধান কার্যালয়ে সভাপতি এ্যাডঃ বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ দলের সাবেক সভাপতি কাজী আবদুল কাদেরের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে নেতৃবৃন্দ আারও বলেন,সীমান্ত শার্দুল কাজী আব্দুল কাদেরদের মত নির্ভীক নেতারা আজ বর্তমান থাকলে সুব্রামানিয়াম স্বামীরা এই দম্ভোক্তি করার দুঃসাহস পেত না। বাংলাদেশ সরকারকে এই মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর জোর দাবী জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন,সুব্রামানিয়াম স্বামী ইতিপূর্বেও একাধিক বার প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্রনীতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার নিজের দেশ ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে আজ  মুসলমানরা নিগৃহীত, বর্ণ-বৈষম্যের কারণে ভিন্ন ধর্মানুসারীরাও স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুব্রামানিয়াম স্বামীরা যদি তার দেশের নাগরিকদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশে দিল্লীর শাসন নয় বরং দিল্লীতেই আগমীতে মুসলমানদের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

মরহুম কাজী কাদেরের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়াপূর্ব আলোচনায় আরও অংশগ্রহন করেন,দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আজিজ হাওলাদার,আতিকুল ইসলাম,আনোয়ার হোসেন আবুড়ী,কাজী আশফাক, আকবর হোসেন পাঠান,ইঞ্জিঃ ওসমান গনী, শেখ এ সবুর, এস.এইচ খান আসাদ, খোন্দকার জিল্লুর রহমান, কাজী এ.এ কাফী, শহুদুল হক ভূঁইয়া, এ্যড: হাবিবুর রহমান প্রমুখ।