কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম আরেকবার স্বরন করিয়ে দিলেন
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
কে লইবে মোর কাযর্, কহে সন্ধা রবি
শুনিয়া জগত রহে, নিরুত্তর ছবি….
মাটির প্রদীপ ছিল, সে কহিল স্বামী
আমার যতটুকু সম্ভব, করিব তা আমি…..।
মহান আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদের জন্য সঠিক এবং সর্বময় জীবন বিধানের জন্য নাজিল করেছেন মহাগ্রন্থ পবিত্র আল কোরান। যাতে উল্যেখ আছে, কোরানের পর আর কোন কিতাব নাজিল হইবেনা। এতে উল্যেখ আছে যে আল্লাহর সৃষ্ট ১৮,০০০(আঠার হাজার) মাখলুকাতের ভিতর মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব বাকি ১৭,৯৯৯ টি মাখলুকাত তৈরি করেছেন একমাত্র মানুষের কল্যানে। এগুলির প্রত্যেকটাই প্রত্যখ্য এবং পরখ্যসহ কোননা কোন ভাবে মানুষের কল্যানে আসবে।
চলমান সময়ে আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্বের মানুষ আজ কোরানের এসব বিধি বিধান ভুলেগিয়ে নিজেদেরকে খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি ও ব্যাবিচারের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব মানবতাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে, যার কারনে বর্তমানে সারাবিশ্বকে স্তব্ধকরে দেওয়া অদৃশ্য অনুজীব প্রাণঘাতি সংক্রমক ব্যাধি করোনা ভাইরাস এরই একটি অলৌকিক ঘটানা কিনা তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন। পবিত্র কোরানে সুরা আরাফের ৯১ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট বলা আছে, ‘তারপর আমার ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে ফেলল, ফলে তারা তাদের ঘরেই মৃত অবস্থায় বেহাল পড়ে রইল’। সুরা ইউনুসের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা আছে, ‘অবশ্যই আমি তোমাদের আগে বহু জাতিকে ধ্বংশ করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা
অতিক্রম করে ছিল’। সুরা আরাফের ১৩৩ নম্বর আয়াতে উল্যেখ আছে, ‘ শেষ পর্যন্ত আমি এই জাতিকে তুফান, পোকা-মাকড়, বা পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত, প্লাবন ইত্যাদি দ্বারা শাস্তি দিয়ে নিস্পিষ্ট করি’। সুরা ইব্রাহিমের ৪২ নং আয়াতে খুব সুন্দর করেই বলা আছে, ‘জালেম, জুলুমকারী বা ক্ষমতার অপব্যাবহারকারীদের সম্পর্কে তুমি কখনো আল্লাহকে উদাসিন মনে করনা’। হাদিছে আছে, ‘তোমরা কোন কিছুতেই সীমা ছাড়িয়ে যেওনা, সীমা লঙ্গনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না, এরূপ সীমা লঙ্গনকারীকে আল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গজব ও আজাব দিয়ে নিস্পিষ্ট করে দিয়েছেন। সাহাবি ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সঃ) ইরশাদ করেন, ‘যখন কোন জাতির মধ্যে অশ্লিলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারি, দুর্ভিক্ষসহ এমনসব রোগের উদ্ভব হয়, যাহা পুর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নাই’ (ইবনে মাজাহ শরিফ ৪০১৯)।

মানুষকি একটু চিন্তা করেছে যে আল্লাহর ভয়ে নয় একটা ক্ষুদ্র প্রানীর ভয়ে মানুষ খাঁচার ভিতর ডুকে পড়ে, নিজেকে বাঁচানোর জন্য। সেই ক্ষুদ্র প্রাণীটা হল মশক, যার ভয়ে মানুষ মোসারির ভিতরে নিজেকে অটকিয়ে নিরাপদ রাখে। বর্তমানে মশকের চেয়েও লক্ষ কোটিগুন ক্ষুদ্র এক অনুজীব করোনা ভাইরাস, যার কারনে, যার ভয়ে পুরো প্রথিবীর মানুষ আজ স্তব্ধ, মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত এবং সাড়ে পাঁচ লক্ষাধিক লোকের মৃত্যুও হয়েছে এবং হইতেছে। এত মানব বিধ্বংষি অস্ত্র সস্ত্র ও ক্ষমতার শক্তি আজ করোনা ভাইরাসের নিকট পরাজিত। বৃটিষ প্রধানমন্ত্রী করনা থেকে সুস্থহয়ে বলেছেন, ‘করনা খুব শক্তিশালি, এটা কোন সীমা মানেনা, এটা সকলকে আক্রান্তে চিহ্নিত করতেচায়’। যুক্ত রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘করনা খুব শক্তিশালি এবং ব্রিলিয়ান্ট’। কেন মানুষ আজ এত অসহায়!!
করোনার এই দুর্যোগ দুর্সময়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশের করোনামুক্ত ২৭ পুলিশ সদস্য করোনা রোগীর চিকিৎসা সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশের ব্লাড ব্যাংকে প্লাজমা ডোনেট করেছেন, এটা ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্দ্যোগ। অনেকের মুখে কুমিল্লার বর্তমান পুলিশ সুপারের বিভিন্ন কাজের সুনাম শোনা গেলেও সম্প্রতি ঢাকার রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম এর তত্বাবধানে থাকা জেলা পুলিশের ২৭ জন করোনা জয়ী সদস্য প্লাজমা ডোনেট করে সারা দেশ তথা বিশ্ববাসির নিকট মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
কুমিল্লা পুলিশ লাইনসের অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম এর বর্ণনায়, করোনা দুর্যোগে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জেলা পুলিশের ১৮৬ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭৪ জন সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করেছেন, তাদের ২৭ জনের শরীরে এন্টিবডি পাওয়া গেছে। জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম প্লাজমা দানকারীদের রক্ত করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগীর প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এবং প্লাজমা করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষুদের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে এ ধারণাটা মানুষের মাঝে তৈরি করতে সফল হয়েছেন বলে আনেকে মনে করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিমুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন প্রমুখ। কুমিল্লাজেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামের মানবতাবাদি কার্য্যক্রমটি আমাকে অনেকটাই অনুপ্রানিত করেছে, এমন মানবিক কার্য্যক্রম শুধু কুমিল্লা পুলিশ সুপার কেন দেশের প্রতিটি জেলা প্রতিটি থানা তথা দেশের প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা পুলিশ সদস্য পর্যন্ত এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত অনুসরন করা উচিত, পুলিশ জনগনের বন্ধু স্লোগানটি কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের জনগনকে আরেকবার স্বরন করিয়ে দিল।
‘করোনায় জয়ী পুলিশের প্লাজমায় বাঁচুক অন্যের জীবন, জাগ্রত মানবতায় দৃঢ় হউক পুলিশ জনতার বন্ধন।’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ২৭ জন করোনা জয়ী এন্টিবডি পজিটিভ পাওয়া পুলিশ সদস্যের বাংলাদেশ পুলিশের ব্লাড ব্যাংকে প্লাজমা দান স্মরনিয় হয়ে থাকবে।
সম্মানিত কুমিল্লা পুলিশ সুপার (সৈয়দ নূরুল ইসলাম) আপনার কাজ আমাকে দুটি লাইন মনে করিয়ে দিল, “নরম ঘাসের মাথায় জমে থাকা এক ফোটা শিশিরে ভোরের সোনালি রোদ পড়ার সাথে সাথে যেমন মুক্তার মত আলোক রস্মি চারিদিকে ছড়িয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, সাগরের বিশাল জলরাসি তা করতে পারে না”। আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক : সম্পাদক প্রকাশক, অর্থনীতির ৩০ দিন ও মানবাধিকার কর্মী











