ফারইস্ট লাইফের এজিএম’এ শেয়ারহোল্ডারদের ঢুকতে দেয়া হয়নি

ফখরুল ইসলামের বৈধতা প্রশ্নের সম্নুখীন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বশরীরে ও অনলাইনে উপস্থিতির অনুমোদন থাকলেও ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২৫/০৫/২০২৫ রবিবারে অনুষ্ঠিত হাইব্রিড প্লাটফর্মে সভায় শেয়ারহোল্ডারদের ঢুকতে দেয়া হয়নি এবং কোন প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ায় আবারও এজিএমের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ । সূত্রের খবর, সম্প্রতি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিষ্ট সরকারের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করে নানান দুর্নীতি করার কারনে কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলামের বৈধতার ঝড় উঠেছে বিনিয়োগকারীদের মাঝে।
২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট এক প্রশ্নবিদ্ধ জরুরি বোর্ডসভার মাধ্যমে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নতুন ৬ জন পরিচালক অন্তর্ভুক্ত হন যার মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম একজন বিশেষ ব্যাক্তি। ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পরিবর্তনের পর ২০২০ সালের এজিএমের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন নেয় এখন কিন্তু একই সাথে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৫ বছরের বার্ষিক সাধারণ সভারই অনুমোদন না নেয়ায় এ ক্ষেত্রেও চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলামের হীনউদ্দেশ্য প্রমানিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স অডিটরের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং আগের পরিচালনা পর্ষদের অনেক মেম্বার এখনও বহাল তবিয়তে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামেরও সমালোচনা করেছে কেহকেহ।
ফারইস্টের ২০২০ সালের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালের পারফরমেন্স খুবই হতাশাজনকবলে ২০২০ সালের এজিএম’এ শেয়ারহোল্ডারদের ঢুকতে দেয়নি এবং কোন তথ্য জানানো হয়নি।
১ম বছর প্রিমিয়ামে ২০১৯ সালের ৩১৫ কোটি টাকা থেকে (৯৭) কোটি টাকা বা (৩০.৮%) কমে ২০২০ সালে হয়েছে ২১৮ কোটি টাকা। মোট প্রিমিয়াম ১,০৫৪ কোটি টাকা থেকে (৮৩) কোটি টাকা বা (৭.৯%) কমে হয়েছে ৯৭১ কোটি টাকা।

লাইফ ফান্ড ৩,৩৭২ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে (৮৯৪) কোটি টাকা বা (২৬.৬%) কমে হয়েছে ২,৪৭৪ কোটি টাকা। ক্লেইম ৭১৬ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে ৯৪১ কোটি টাকা বা ১৩১.৪% বেড়ে হয়েছে ১,৬৫৬ কোটি টাকা। এই ১,৬৫৬ কোটি টাকা ২০২০ সালের মোট আয় এর ১৭০%। আউট স্ট্যান্ডিং ক্লেইম ২০২০ সালে ৪৪ কোটি টাকা থেকে অবিশ্বাস্য ও অস্বাভাবিকভাবে ৮১০ কোটি টাকা বা ১৮২২% বেড়ে হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানি ক্লেইম পরিশোধ করার সক্ষমতা হারিয়েছে।
২০২০ সালের মতো ১,৬৫৬ কোটি টাকা ক্লেইম পরিশোধ করতে হলে দুই বছরেই লাইফ ফান্ড শূন্য হয়ে কোম্পানির দেওলিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্রের খবরে জানা যায় গত সরকারের আমলে লুটপাটের অন্যতম দোসর এস আলম গ্রুপের মালিক পলাতক সাইফুল আলম মাসুদের বহু অপকর্মের সহযোগী মো. ফখরুল ইসলাম। ধুর্ততার প্রতিক হিসেবে রাতারাতি বোল পাল্টে বিএনপি সাংসদ হতে চান বলে জানা যায়। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এই ফখরুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন দেশ বিদেশে এস আলম গ্রুপের নানা আর্থিক অনিয়মের সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্টন সময় এস আলম গ্রুপের মালিকের সঙ্গে তার ছবিই প্রমানিত। মো. ফখরুল ইসলাম আবাসন খাতের সংগঠন ঢাকা সাউথ ডেভেলপারস ফোরামের সভাপতি হিসাবেও আছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকেও ধ্বংস করবেন মো. ফখরুল ইসলাম।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেয়ার ও বন্ড এ ৭১৮ কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে যার সাফিসিয়েন্ট এভিডেন্স নেই। কোন কোন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার তালিকা, ক্রয় মূল্য, বিক্রয় মুল্য সংক্রান্ত তথ্য নেই। উক্ত ইনভেস্টমেন্ট এর মধ্যে বাংলালায়ন কমিউনিকেশন লি: এ ৯৮.৬৩ কোটি টাকা, পিএফআই সিকিউরিটিজ লি: ১৮৫.৩১ কোটি টাকা ইনভেস্ট করা হয়েছে যা অলাভজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
অন্যান্য অগ্রিম ১২২.২৫ কোটি টাকার যথার্থ তথ্য প্রমাণ নেই। ফলে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এডভান্স ফর কনস্ট্রাকশন ল্যান্ড এন্ড ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ২৯৯ কোটি টাকার যথার্থ তথ্য প্রমাণ নেই। ফলে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর ১৮৪(৩) ধারায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে “নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বিধৃত প্রত্যেক সংরক্ষিত মন্তব্য, বিশেষণযুক্ত মন্তব্য অথবা প্রতিকুল মন্তব্য সম্পর্কে পরিচালক পরিষদের প্রতিবেদনে, পরিপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করতেও বাধ্য থাকবে”। ফারইস্ট লাইফ এসবের কোনকিছুই না মানায় তাদের বার্ষিক সাধারণ সভার গ্রহনযোগ্যতা প্রশ্নের সম্নুখীন…।