
‘উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, আর হারাবে না বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে, জিডিপি হবে আটের ওপরে। প্রধানমন্ত্রীর এ সেøাগানকে সামনে রেখে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে অধম্য গতিতে, ঠিক তখনই সরকারে উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বাধা হয়ে আছে কিছু দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তা।
যারা খুবই কৌশলে সরকারের ভেতরে ঢুকে নিজেদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে ঢাকা দেয়ার জন্য লেজুড়বৃত্তি করে সরকারের উন্নয়নকে ম্লান করে দিয়ে নিজেদের আঙুল ফুলে কলাগাছ তৈরি করে নিচ্ছেন। তারা সবসময় ঘোলাপানিতে মাছ শিকারে পারদর্শী। আবার অনেকের মতে, সরকার যখন তার গদি রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকে, তখন সমাজে বিদ্যমান সমস্যা সঙ্কট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে দ্রুত গতিতে, আর এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের হাতে আর সময় থাকে না। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এবং সরকারের সফলতাকে ক্রমবর্ধমানভাবে ধরে রাখার জন্য নজরদারি বাড়িয়ে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর এটাই হবে সরকারের প্রকৃত সফলতা।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সরকার বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে এটাই একটা চলমান ধারা। এটা কারো কৃতিত্ব নয়, কৃতিত্ব হলো এসব বড় প্রকল্পের সঠিক সময়ে, সঠিক খরচে এবং সঠিকভাবে শেষ করে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন করা।
অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়। আর এর বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধে এসে পড়ে। বর্তমানে এ ধরনের বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ব্যয়ের অগ্রগতি যতটা, বাস্তবে তার অগ্রগতি ধারেকাছেও নেই। ফলে ব্যয় সীমাহীনভাবে বেড়েই চলেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ এ ধরনের তিনটি প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে তিন হাজার ১৪৮ কোটি টাকারও বেশি। প্রতিটি প্রকল্পে মেয়াদও দফায় দফায় বাড়িয়েছে তিন বছরেরও বেশি।
বারবার সময় বাড়ানোর কারণে ব্যয়ও বেড়েই চলেছে সীমাহীনভাবে। অগ্রগতির অবস্থা দেখেই যেকোনো লোক এর অনুমান করতে পারেন। যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। প্রকৃতভাবে প্রকল্প গ্রহণের সময় এর ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১২ সালে প্রকল্পটি শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় পাঁচ বছর পরেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি।
৯০২ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে জয়দেবপুর ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন অনুমোদন দেয় ২০১০ সালে, যা ২০১৩ সাল শেষের সময়ও তা শেষ হয়নি। ব্যয়ের পরিমাণও তিনবার সংশোধন করে ৯১২ কোটি ৮৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। এরূপ আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অবস্থাও একই। সাজেকেÑ জয়দেবপুর, টাঙ্গাইল এবং এলেঙ্গা মহাসড়কের কাজেরও ঠিক একই অবস্থা। কারণ এ প্রকল্পের কাজ মাত্র কিছু দিন আগে ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৩ সালে অনুমোদন হয় যা শেষ করার কথা ছিল ২০১৮ সালে। দুইবার ব্যয় সংশোধন করে এর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে দুই হাজার ৪৮৮ কোটি ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বর্তমান প্রকল্পটির ব্যয় তিন হাজার ৩৬৪ কোটি লাখ ৯৫ হাজার টাকা; এখানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
বাস্তবতা হলো, প্রকল্প অনুমোদনের পর সঠিক সময় কাজ শুরু না করার কারণে সঠিক সময়ে শেষও করা যায় না। এসব প্রকল্প পরিত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই। অনেকের মতে এসব বারবার সংশোধন করে বিভিন্নভাবে ব্যয় বাড়িয়ে বিদেশে টাকা পাচারের একটা পথ করে নেন এসব কৌশলী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। ২০১৬ সালের ১৪ জুন নয়া দিগন্তে প্রকাশিত দেশপ্রেমিক দায়িত্বশীলদের ‘বিদেশপ্রেম’ লেখা প্রতিবেদনে এসব দুর্নীতিবাজ সুযোগসন্ধানীর দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসে।
আমরা আশা করব, এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ও সরকারে উন্নয়ন-অগ্রগতি সফলভাবে এবং সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন ও সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে সঠিক নজরদারি এবং সময় ক্ষেপণের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবে সরকার, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।











