
খোন্দকার জিল্লুর রহমান

মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার-, সবাই বলে, মিথ্যে বাজে বকিস্নে আর খবরদার !
অমন ধারা ধমক দিলে কেমন করে শিখবসব? বলবে সবাই মুখ্য ছেলে, বলবে আমায় “গো গর্দভ…!”
বিষম চিন্তা হয়, মাথায় কেন প্রশ্নগুলি আসে। নিরাপদ সড়ক চাই নাকি সড়কে নিরাপত্ত্বা চাই, লেখাটি স¤পূর্ণ আমার মনের অবিব্যাক্তি। এ প্যশ্নটি বারবার আমার মাথায় আসতেছে কেন…? আমরা নিরাপদ সড়ক চাই নাকি সড়কে নিরাপত্ত্বা চাই? ব্যাপারটা যেন একেবারে তালগোল পাকিয়ে যায়, যেখানে মানুষজন দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্তার উন্নয়নের জন্য মাটি, ইটা, বালি, সিমেন্ট, রট, পাথর ও বিটুমিন দিয়ে বহু পরিশ্রমের বিনীময়ে যে সড়ক তৈরি করে সেই সড়ক যদি অনিরাপদ হয় তবে কেন সড়ক তৈরি করবে? কখনো কখনো দেখা যায় সড়কে বাঁশও দেওয়া হয়। সড়কে দুই গাড়ি প্রতিযোগিতা করে মানুষ হত্যা করবে, উন্নয়ন কাজের জন্য সড়ক কাটার ফলে যানবাহন উল্টে মানুষ মরবে, সড়কে দুই গাড়ির মুখোমিেখ সংঘর্ষে লোকজন মারা যাবে, রেল সড়কে রেলের শ্লিপার তুলে ফেলার কারনে রেল দুর্ঘটনায় লোকজন মারা যাবে, যানবাহনের ফিটনেস থাকা না থাকার কারনে দুর্ঘটনা হবে, এমনকি মানুষ বা অন্যান্য প্রানী সড়ক পার হতেগিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাবে এতে সড়কের কি দোষ? উল্ল্যেখিত কারণগুলির জন্য সড়ক দায়ী নাকি সড়ক ব্যাবহার কারিরা দায়ী, আমাদের নিরাপদ সড়ক চাই এর ঊদ্যোক্তাসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহীনি থেকে শুরু করে উক্তসব মন্ত্রণালয়ের দায়ীত্ত্বশিল ব্যাক্তি পর্যন্ত কথাটি একবারের জন্যও ভেবে দেখেছেন কিনা, এটা চিন্তার বিষয়।
গত ২৯/১০/১৯ইং মঙ্গলবার বিকালবেলা একটা কাজ সেরে কাকরাইল মোড় দিয়ে হেঠে রাস্তা পার হতেছিলাম, রাস্তা পার হতে গিয়ে একটু বিপত্তিতে পড়ি, শুধু আমি একা নই সাথে আরো কিছু লোকও আছে, জেব্রা ক্রস দিয়ে পার হতে গিয়েও এই বিপত্ত্বি। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ লেখা সবুজ এপ্রন পরা দুইজন লোক সকলকে রাস্তা পারাপারে বাধা দিয়ে বললেন এখন নয় একটু পরে কারণ গাড়ি বন্ধ হউক তখন পার হবেন। আমি জেব্রাক্রসের এক পাশ দিয়ে পার হতে দেখে তারা দুজই দুই দিক থেকে আগলে সবাইকে বলল এই দাগের উপর দিয়ে পার হবেন, আমি বললাম দাগের পাশদিয়েও পার হওয়া যাবে না? তখন লোকটা বলল, আমরা আপনাদের জন্যই কাজ করতেছি, দেখবেন আগামি এক তারিখ থেকে (১লা নভেম্বর ১৯ইং এই দাগছাড়া) জেব্রাক্রস ছাড়া রাস্তা পার হবেন ১০০০/=টাকা জরীবানা (জমিানা) দিতে হবে, আইন পাশ হয়ে গেছে। আপনারা কোত্থেকে এসেচেন বলতেই বলল, আমরা ইলিয়াছ কাঞ্চনের নিরাপদ সড়কের লোক। জিজ্ঞাসা করলাম আপনারা নিরাপদ সড়কের লোক নাকি সড়কে নিরাপত্ত্বা দেয়ার লোক বলতেই লোকটা একটু রাগত স্বরেই বললেন, দেখবেন এক তারিখ থেকেই যখন পুলিশ জরিবানা (জমিানা) করবে। সবশেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় বললাম আপনারাতো নিরাপদ সড়ক চাচ্ছেন, নাকি আপনারা সড়কে নিরাপত্ত্বা চাচ্ছেন, কোনটা? এসব কথাবার্তা প্রায় দেড় দুই মিনিট চলতে চলতে রাস্তা পার হয়ে নিজের কর্মস্থলের দিকে চলে আসি। ফুটপাত দিয়ে আসতে আসতে ভাবি, সভ্য জাতী হিসাবে আমরা কত নাম্বারে আছি। আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে, আয় বেড়েছে, বেড়েছে আমাদের উন্নয়ন, আমরা আছি উন্নয়নের রোডমেপে। একটা প্রশ্ন বার বার মনে আসে, আসলে জীবন মান উন্নয়ন, শিক্ষিত জাতী ও প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছি? আমাদের ভাষাজ্ঞনইবা কতটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছি?
গত বছর, অর্থ্যাৎ ২০১৮ সালের মাঝামাঝি দুই বাসের প্রতিযোগিতায় কেপ্টেন রমিজউদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজগামি দুইজন (রাজিব ও দিয়া) সহপাঠি শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে রাজধানি ঢাকাসহ সারা দেশের স্কুল কলেজগামি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে দুর্ঘটনা ও নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার দাবীতে এবং নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা অনেকটাই তাদের হাতের মুঠোয় এসেপড়ে, এতেকরে সড়কে কর্তব্যরত আইন শৃঙ্খরা রক্ষাকারি বাহীনির বহু কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে নির্বিকার দাড়িয়ে থাকাছাড়া কিছু করার ছিলনা। তখন আমরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহীনির অনেক শদস্য থেকে শুরুকরে কর্মকর্তা পর্যন্ত ও অনেক এম পি মন্ত্রীসহ বিভিন্ন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের লাইসেন্স এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ি নিয়ে উল্টোপথে চালিয়ে যেতে দেখেছি। দৃশ্যনিয় ব্যাপার হলো, তখন যাদের নিকট উক্ত দায়িত্ত্ব থাকার কথা তারা তাদের দায়িত্ত্ব পালন করাতো দুরের কথা এর থেকে শিক্ষাও নিতে পারেনাই। মুল কথা হলো, সকল ক্ষেত্রেই দায়িত্ত্বে নিয়োজিত লোকেরা দায়িত্ত্ব পালনের কথা চিন্তা না করে যখন নিজ স্বার্থের কথা ভাবেন, তখন সবকিছুই এলোমেলো হয়ে যায়।
যখন যানবাহনে কোন দুর্র্ঘটনা হয়, কিছু লোক মারা যায়, আমরা তখন দুর্ঘটনার কারণ খুঁঝে বাহির না করে যানবাহনের ফিটনেস থাকানাথাকা নিয়ে আলাপ আলোচনা করি এবং ফিটনেসবিহীন জানবাহনকে দায়ী করি, তাইলে কি ফিটনেস জানবাহনইকি দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবে আর ফিটনেসবিহীন জানবাহন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবে না? সমাজ স্বচেতন অনেকের মতে, “জানবাহনের ফিটনেস থাকা না থাকার সাথে দুর্ঘটনার কি সম্পর্ক, নাকি এটা সরকারের দায়িত্ত্ব এড়ানোর একটা কৌশল। ফিটনেস এবং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো পুলিশ, এমপি, মন্ত্রীদেরও দেখা গেছে অনেক।
বেশ কিছু কারনেও অনেক সময় সড়কের নিরাপত্ত্বা বিগ্নিত হয়, যেমন অদক্ষ চালক, কেনরকম ট্রেনিং ব্যাতিত গাড়ি চালানো, পরীক্ষানীরিক্ষা নাকরে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, চালকের স্বেচ্চাচারিতা, যানবাহন মালিকদের আতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবনতায় চালকের উপর চাপ প্রয়োগ, যানবাহন চলাচলের নিয়ম নীতি নামেনে প্রতিযোগিতায় নেমেপড়া, সড়কে চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্যকাজে অবহেলা, নৈতিক ভাবে দায়ীত্ত্ব পালন না করে সাধারন ছুতাধরে দির্ঘক্ষন গাড়ি আটকিযে রাখা এবং নিজস্ব স্বার্থে চালকের জরিমানা করা, স্থিরভাবে যানবাহন দাড় নাকরিয়ে যাত্রি উঠানামা করানো এবং কিছু দুর্নীতিবাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক চালক হেলফারদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করাও সড়কে নিরাপত্ত্বহীনতার জন্য দায়ী বলে মনে করেন অনেকে।
কিন্তু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তো দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ নয়। আমরাও ভুলে যাই না যে, দিন-রাতকে একাকার করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমাদের জন্যই কাজ করে থাকে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই নিজেদের ভাল কাজের জন্য পুরুস্কারও পেয়েছেন। যেমন, কদিন আগে জাহাক্সিগর গেটের সামনের রাস্তায় হুন্ডা এক্সিডেন্ডকারি লোকের সেবাদানকারি একজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঢাকা চট্টগ্রাম রোডে বাস দুর্ঘটনায় জীবন বাজি রেখে উদ্বারকারি এক পুলিশ সদস্যের ভাল কাজের ফল স্বরূপ পুরস্কার পাওয়া।
বসবাসের অযোগ্য দেশ হিসাবে আমাদের বাংলাদেশকে প্রতি বছর লজ্জার মাথা হেটকরে প্রথম সারিতে জায়গা করে দেয়, আর আমরাও স্বরবে-নিরবে এটাই মেনেনিতে বাধ্য হই। এটা প্রতিহত করার মতো তথ্য রিপোর্ট কেউ বানাতে পেরেছেন কি, এটাওকি বিএনপি-জামায়াতের চাল নাকি দায়ীত্ত্বশিলদের দ্বায় এড়ানোর কৌশল ? আয়সূচক বাড়লেই কি আমাদের দেশটি বসবাসের যোগ্য হয়ে ওঠে? আয় বেড়েছে শুধু নিদৃষ্ট একটা দল এবং নিদৃষ্ট কিছু লোকের, এটা আসলে অর্থনীতির জটিল মারপ্যাঁচে হাতে গোনা কজনার। ১৬কোটি মানুষ কি পেয়েছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাধীনভাবে চলাচল ও জীবনের নিরাপত্ত্বাসহ সকলপ্রকার নাগরিক অধিকার? একটি দেশে সড়কে নিরাপত্ত্বা দাবি শুধু একটি সংস্থার দাবি হবে কেন? এটি তো আমার-আপনার সবার অধিকার। রাষ্ট্রিয় নীতি নির্ধারক থেকে দায়ীত্ত্বশিল লোকেরা কি এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন? আমরা জানি ‘চাকুরির বয়স ৬০বছর করেইবা কি লাভ যদি চাকুরিই নাহয়? ঠিক একই ভাবে জরিমানা ও একের পর এক আইনের বিধান করেই লাভ কি যদি আইনের প্রয়োগই না হয়। তাই সবকিছু নীতি নৈতিকতার ভিতরে পরিচালিত হলেই সড়কের নিরাপত্ত্বা এমনিতেই
স্বার্থকতা পাবে।
সাধারন জরিমানা ও আইন অমান্যে ১০/১৫ গুন বাড়িয়ে জরিমানার বিধান রেখে সম্প্রতি সড়কে নিরাপত্ত্বা আইন পাশ হয়, এর কিছু কিছু জরিমানার ধরন দেখে এটা সড়কে নিরাপত্ত্বা জন্য নয়, যেন সরকারের আয়ের হাতিয়ার বলে মনে হয়। যেমন হুন্ডা চালানোর সময় হেলমেঠ ব্যাবহার করা, প্রইভেট কারে চালক যাত্রি সকলের সিঠবেল্ট বাঁধা। আসলে যানার ব্যাপার হলো হেলমেঠ কি হুন্ডা দুর্ঘটনায় যাত্রি বা চালকের জীবন রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে পারে কিনা? এবং দুর্ঘটনায় সিটবেল্ট প্রাইভেট কারের চালক বা যাত্রি না মরার নিশ্চয়তা দেয় কিনা? সিটবেল্ট বাঁধা ও হেলমেট পরা নিয়ে একটা গটনার কথা মনে পড়ে, আমার এক নিকট আত্মিয় সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়, সহমর্মিতা জানাতে আসা এক লোক কফিন উল্টিয়ে মুখ দেখে বলেন, যাক আল্লাই রক্ষা করার মালিক, মাথার পার্শ্বে আঘাত লাগলেও চৌখটা কিন্তুু বেঁছে গেছে। যেখানে মানুষই মরেযায় সেখানে চোখ ভালো থেকে কি কাজ। মুল কথা হলো সব সময় সাবধান থাকা ভালো, কিন্তুু গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেলে হুন্ডা, কার, সিঠবেল্ট এবং হেলমেট কি কাজে আসবে!!!
জনগন চায় এমন একটা দেশ, এমন একটা পরিবেশ, যেখানে থাকবে আইন শৃঙ্খলার সুষ্ঠ ব্যাবহার ও প্রয়োগ, থাকবেনা ক্ষমতার অপব্যাবহার, প্রতিযোগিতা, অদক্ষতা, আইনের অপপ্রয়োগ এবং জনগনের অস্বচেতনতা। তাহলেই নিরাপদ সড়ক নয়, সড়কে নিরাপত্ত্বা চাই এর অনেকটাই নিশ্চিত করা যাবে বলে জনগনের প্রত্যাশা।
লেখক ঃ রাজনীতিক ও মানবাধীকার কর্মী।











