দেশে জীবন বীমার আওতায় দেড় কোটি মানুষ

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
দেশে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ জীবন বীমার আওতায় আছে। এ তথ্য দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। তবে এ খাতে কাজ করা কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে আইডিআরএ কাছে জমা দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশে দুই কোটির কিছু বেশি জীবন বীমা পলিসি করা আছে। এতে এক ব্যক্তিরও একাধিক পলিসি রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় মানুষ জীবন বীমা করে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন কম্পানি বীমা দাবির অর্থ পরিশোধে গড়িমসিসহ গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে। যে কারণে বীমার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কম। ফলে দেশের বড় অংশই বীমার আওতার বাইরে রয়েছে। তবে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে গ্রাহকরা বীমার অর্থ পেলে মানুষ বীমা করতে উৎসাহী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে সার্বিক অর্থনীতিতে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশে সরকারি-বেসরকারি এবং দেশি-বিদেশি মালিকানায় ৩২টি কম্পানি জীবন বীমা কম্পানির ব্যবসা করছে। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি যৌথ মালিকানায় রয়েছে একটি কম্পানি এবং একটি কম্পানি রয়েছে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন। সরকারি মালিকানাধীন কম্পানি রয়েছে একটি (জীবন বীমা করপোরেশন)। এ বীমা কম্পানিগুলোর মধ্যে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ২৮টি কম্পানিতে থাকা গ্রাহকসংখ্যার তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য পাওয়া যায়নি বায়রা লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ এবং প্রগ্রেসিভ লাইফের।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৮টি কম্পানিতে দুই কোটি আট লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ বীমা পলিসি রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি কম্পানিতে আছে প্রায় এক কোটি ৬৩ লাখ গ্রাহকের জীবন বীমা। তবে এই তথ্যের মধ্যে একই ব্যক্তির একাধিক বীমা পলিসি থাকতে পারে।
তথ্য পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, গ্রাহকসংখ্যার দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ লাখ ২৩ হাজার ১৩২ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকসংখ্যা ২৮ লাখ ২২ হাজার ৪০৯ জন। তৃতীয় স্থানে থাকা মেঘনা লাইফের গ্রাহকসংখ্যা ২৭ লাখ ৮৯ হাজার ৫১১ জন।
১০ লাখের ওপরে গ্রাহক থাকা অন্য কম্পানিগুলোর মধ্যে ডেল্টা লাইফে ২৩ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮০, ন্যাশনাল লাইফে ১৭ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪৯ এবং মেটলাইফে ১২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯২ গ্রাহকের বীমা করা আছে।
এ ছাড়া সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্সে পাঁচ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪০, প্রাইম ইসলামী লাইফে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৫, সানলাইফে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৮৪৪, রূপালী লাইফে চার লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৮, জীবন বীমা করপোরেশনে তিন লাখ ৯৭ হাজার ১২৫, হোমল্যান্ড লাইফে তিন লাখ ৫০ হাজার ২১২, সানফ্লাওয়ার লাইফে দুই লাখ ৭১ হাজার ৯৯৩ এবং গোল্ডেন লাইফে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৪৩৫ গ্রাহকের বীমা রয়েছে।
অন্য কম্পানিগুলোর গ্রাহকসংখ্যা এককভাবে এক লাখের কম। এর মধ্যে ট্রাস্ট লাইফে ৩৫ হাজার ৪৮৮, বেস্ট লাইফে ২৭ হাজার ২৬৮, সোনালী লাইফে ২৫ হাজার ৬৫৭, জেনিথ লাইফে ২৪ হাজার ৪৬৫, যমুনা লাইফে ২০ হাজার ৩৮৯, প্রোটেক্টিভ লাইফে ১২ হাজার ১৭৮, আলফা ইসলামী লাইফে আট হাজার ১৯৫, স্বদেশ লাইফে ছয় হাজার ১৮৪, মার্কেন্টাইল লাইফে চার হাজার ৭১৯, গার্ডিয়ান লাইফে তিন হাজার ৫৫৪ এবং এনআরবি গ্লোবাল লাইফে দুই হাজার ৩৪ গ্রাহকের বীমা আছে।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারি বলেন, ‘বীমাকে জনপ্রিয় করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। আগের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কেউ বীমা কম্পানির দাবি পরিশোধের অনুষ্ঠানে যেতেন না। এখন আমি নিজে এবং আমাদের সদস্যরা উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কম্পানির বীমা গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ করছি। এতে কম্পানিগুলো গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে উৎসাহিত হচ্ছে।’
অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৬ সালে জীবন বীমা খাতের ৩২টি কম্পানি মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ছয় হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। নিট প্রিমিয়াম ছিল সাত হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। নিট দাবি ছিল পাঁচ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। মেঘনা লাইফের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একসময় মানুষের ধারণা ছিল বীমা খাত মানেই চোর-বাটপারের জায়গা। বীমা করলে অর্থ পাওয়া যায় না—এমন ধারণা মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এখন সেই অবস্থা থেকে বীমা খাত বেরিয়ে আসছে। ভালো এবং মেধাবী কর্মীরা বীমা খাতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তবে এটা সত্য বহির্বিশ্বের মতো আমাদের দেশে বীমা খাত এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।’