
ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ভিতের এ আরেক অদৃশ্য ন্যাশনাল টি কোম্পানীর নেপথ্য কাহিনী,যেনো এলো মেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই…
খোন্দকার জিল্লুর রহমান
সরকারী কা মাল দিরয়া মে ডাল…. সেই মিশন সামনে রেখে একটি চক্র ন্যাশনাল টি কোম্পানীকে বিক্রী করে দিতে গোপনে জোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তারা ন্যাশনাল টি কোম্পানীর ভিতের গোপন কৌশলে আরেক অদৃশ্য ন্যাশনাল টি কোম্পানী তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে মরিয়া হয়ে উঠেছে এর নেপথ্যে কারা? ব্যপারটা যেনো সেই কালজয়ী প্রবাদের মত যে, ” এলো মেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই…।”
৫১ % সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিকে যতটা সহজে ছেড়ে দেয়ার কথা চক্রটি ভাবছে, আসলে ততটা সহজ নয়। সেই চিন্তা থেকে আইসিবি ও সাধারন বীমা প্রায় ২১/২২% শেয়ার ৩/৪ জন প্রভাবশালী শিল্পপতি কিনেছেন বলে সুত্র জানায়। সরকারের উচ্চ মহলে আলাপ আলোচনা চলছে। সরকারের অনুমতি পেতে চক্রটি কাজ করছে। তারপরে আসবে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর গ্রহনের চেষ্টা। এদিকে গত ২৩ মাচ’ শনিবার দুপুরেে ফুল বোড’ মিটিং অনুষ্টিত হয়েছে। যদিও অথ’ কম’কতা’ কেরামত ও সচিব মোল্লা গোলামকে মিটিংয়ে রাখা হয়নি। বোড’ মিটিংয়ে দুই লক্ষাধিক টাকা খরছ দেখা হয়েছে। সে টাকায় সকলের জন্য দামী হোটেলের ভোজনসহ সম্মানী ভাতা রয়েছে। এনটিসি জেডে চলে যাওয়ায় কারনে রাইটশেয়ারের অনুমোদন এবং বিক্রীর পথ বন্ধ হয়ে আছে। এদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হল বাংলাদেশের মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে কমিশন বসিয়ে শেয়ার মূল্যসমূহের গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে।এ কমিশন বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি সংগঠন।
এই কমিশন যদি কোনো কোম্পানি পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে না পারলে বা নিয়মিত বার্ষিক সভা আয়োজনে ব্যর্থ হলে সেটিকে দুর্বল মানের ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করে রাখে। এ ছাড়া কোনো কোম্পানি টানা ছয় মাস উৎপাদনে না থাকলে বা পরপর দুই বছর পরিচালন লোকসান করলে কিংবা তারল্য পরিস্থিতি (ক্যাশ ফ্লো) ঋণাত্মক হলে সেই কোম্পানিকেও ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত করার নির্দেশনা রয়েছে বিএসইসির।
ন্যাশনাল টি কোম্পানিকে জেড স্রেনীতে অবনয়ন করা হয়েছে। ন্যাশনাল টি কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো ঋণাত্মক বলেই সরকারের আংশিক মালিকানাধীন এই কোম্পানিকে জেড শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেংকারীর জন্য সুবিদিত এই কোম্পানি ২০২২-২৩ সালে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এর পরবর্তী বৎসরেও এর চেয়ে বেশি লস করার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৬ সাল পর্যন্তও এই কোম্পানি যথেষ্ট নগদ লভ্যাংশ প্রদাণ করেছে।
সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের আইন অনুযায়ী জেড শ্রেনীতে পদার্পণের পর ৪৫ দিনের মধ্যেই এই কোম্পানির পরিচালক পর্যদ নতুন করে গঠন করা অত্যাবশকীয়। এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা।
একজন শেয়ার হোল্ডার পরিচালকের বিপরীতে দুইজন সরকারি শেয়ার হোল্ডার পরিচালককে নিয়োগ দিতে হবে। ক্রমাগত লোকসান দেয়া কোম্পানিকে দুর্নীতি মুক্ত করতে কতিপয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এই জন্য সৎ, যোগ্যতা সম্পন্ন এবং দেশের ব্যবসায় ভালো বুঝেন, এমন কয়েকজনকে পর্ষদে নেয়া জরুরি। উদ্যমী এবং তদবির সামাল দেয়ার মতো পরিচালকদের অভাবে ন্যাশনাল টি কোম্পানির মৃতপ্রায় অবস্থা।।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানা বেসরকারি হাতে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা তদবির চলছে। বাধা হয়ে দাড়িয়ে আছে জেড এ চলা যাওয়া।
চলবে…












