
খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
দেশের আর্থিক মেরুদন্ড বা চালিকা শক্তি সেদেশের ব্যাংক বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলির অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক একইভাবে বীমা কোম্পানীগুলির অভিভাবক হিসাবে কাজ করে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ)। আর এই বীমা খাতের অভিভাবক হিসাবে ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি (আইডিআরএ) কতটুকু দায়িত্বশীল তা প্রশ্নবিদ্ব? এটাকে ধরে রাখতে হলে তার জন্য দরকার আইনের সুুষ্ঠ প্রয়োগ এবং সঠিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। এই অবকাঠামো যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর সবটুকুর জন্য দায়ী প্রশাসনিক পদে যারা যারা আছেন তাদের কর্ম কৌশল, দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা। এর কোনটার ব্যত্যয় ঘটলে কোন অবস্থাতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যবে না। আর এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদের লোকেরা যদি দুর্নীতি ও লোভের স্বীকার হয় তাইলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে পারবে কিনা সন্দেহ।
বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার কারন, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েসন ও অপ্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ লোকের নিকট বা তাদের প্রভাবের নিকট বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)এর মাথা উচুকরে কথা বলার এবং চলার ক্ষমতা না থাকাসহ বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রবর্তিত বেশ কিছু কতিপয় হটকারী সিদ্ধান্ত তাদের অসুস্থ চিন্তার ও প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন বহন করে, যা বীমা সেক্টরের কর্তৃপক্ষ এবং শীর্ষ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কারো নিকট কাম্য নয়। একটা অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ভুমিকায় প্রায় সমস্থ বীমা কোম্পনীগুলির চেয়ারম্যান, কিছুকিছু পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিকট মুল্যহীন প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় এসব এসোসিয়েসনের প্রধানকে ও স্যার সম্বোধন করে তাদের মর্জি-মাফিক কাজ করে দিতে হয় বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর শীর্ষ নির্বহী প্রধানসহ অন্যান্য নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে। এ যেন কর্তার উপর কর্তৃত্ব। আবার মাঝে মাঝে আইনি সিদ্ধান্তে অটল না থেকে বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেও বাধ্য হন। উদাহরন স্বরুপ, এদের মধ্যে একটি নিয়ম হচ্ছে মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত এবং অপরটি হচ্ছে কোম্পানির পরামর্শদাতা নিয়োাগ সংক্রান্ত।
প্রথম নিয়মটির কথা ধরা যাক। এই নিয়ম অনুযায়ী মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদের জন্য যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার শর্ত পালন সাপেক্ষে নুন্যতম তিন বছর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পূর্বপদে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে। সকল ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রবর্তনের পিছনে কতটুকু যুক্তি বা সার্থকতা আছে তা পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।
কারন হিসাবে আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশ বীমা খাতে পেশাদারী এবং দক্ষ জনবলের প্রচুর অভাব এবং সংকট রয়েছে। বীমা খাতে কর্মরত কেবল স্বল্প সংখ্যক ব্যক্তি বীমা শিক্ষায় শিক্ষিত। এই অযৌক্তিক অস্বাভাবিক নিয়মের কারণে বীমা শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদের জন্য আবেদন করতে অসমর্থ হন। এই ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে এক প্রকার চরম হতাশা কাজ করে। অন্যদিকে এটাও সত্য যে, আমাদের দেশে দক্ষ ও পেশাদার বীমাবিধ গড়েতোলার সেরকম প্রতিষ্ঠানেরও প্রচুর স্বল্পতা রয়েছে।
এখন দ্বিতীয় নিয়মটির কথায় আসা যাক। এই নিয়ম অনুযায়ী বীমা কোম্পানির পরামর্শক বা পরামর্শ দাতা হওয়ার জন্য কেবলমাত্র বীমা কোম্পানির ভূতপূর্ব মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সচিব) আবেদন বা নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। তখনই প্রশ্ন ওঠে এই পদের জন্য বীমা শিক্ষায় শিক্ষিত বীমা বিশেষজ্ঞদের কোন যুক্তিতে যোগ্যতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বা হয়না তা প্রশ্নবিদ্ব।
বীমা বিশেষজ্ঞদের মতে উপরে বর্ণিত উভয় নিয়ম বা সিদ্ধান্ত বীমা খাতের স্বার্থের পরিপন্থী। বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কেন বিষয়গুলির গুরুত্ব আমলে নিয়ে এবং এগুলোর বিষয়ে বিষদভাবে আলোচনা পর্যালোচনা করে বীমা খাতের বৃহত্তর স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না।
সর্বশেষে অনেকের মতামতে এই সিদ্বান্তে উপনিত হওয়া যায় যে, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর বিভিন্ন পর্যায়ে চাকুরি করে আসার পরেও ইন্স্যুরেন্স ডেভলাপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথোরেটি এর চেয়াম্যান ড: মোশারফ হোসেন,(এফসিএ) বীমা উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর প্রধান অভিভাবক এবং প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে সমালোচনার উর্ধে উঠে আসতে পারেন নাই। আর এ দুর্ভর্গ্যের জন্য দায়ি কে??? ধারাবাহিক ভাবে চলবে….












