উচ্চ আদালতের নিকট আইডিআরএ অসহায়, সোনালী লাইফে প্রশাসক নিয়োগ স্থগিত

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে প্রশাসক নিয়োগ আদেশ স্থগিত করেছে উচ্ছ আদালত। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পরের দিনই কোম্পানির পক্ষ থেকে এই আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত শুনানি শেষে সোনালী লাইেফর পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগে আইডিআরএ’র এই আদেশ স্থগিত করে রুলনিশি জারি করে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এ বিষয়ে একটি রুল-নিশি জারি করে।
সোনালী লাইফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতিপুর্বে আইডিআরএ সোনালী লাইফের বরখাস্তকৃত সাবেক সিইও রাশেদ বিন আমানের আর্জি পেশ করা রিপোর্টের ভিওিতে একটি অডিট ফার্ম দিয়ে সোনালী লাইফের কার্যক্রমসহ লেনদেনের অডিট করানো হয়। অডিট রিপোর্টের কপি সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর না করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের ব্যাখ্যা না করে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং কোন নীয়ম নীতির তোয়ক্কা না করে আইডিআরএ’র আইন বিষয়ক সদস্য আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সেচ্ছাচারিভাবে সোনালী লাইফের বর্তমান পরিচালনা পর্যদ ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতির অভিযোগে ও নৈতিক স্খলনের দায়ে বরখাস্তকৃত সোনালী লাইফের সাবেক সিইও মীর রাশেদ বিন আমানের বিরুদ্ধে কোম্পানির মূল ডাটা ম্যনিপুলেশন করা এবং জাল শিক্ষাগত সনদ প্রদান করে সিইও পদে আসিন হওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যে তা প্রমাণিত হওয়ায় সে জেলও খেটেছে। এখানে যে কথাটি উল্লেখ না করলেই নয় যে সোনালী লাইফের সাবেক সিইও মীর রাশেদ বিন আমানের সিইও হিসাবে আইডিআরএ’র তখন যে নিয়োগ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তখন সেটা কিসের উপর ভিত্তিকরে দেওয়া হয়েছিল তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ ? খাত সংশ্লিষ্ট অনেকেই মন্তব্য করেন আইডিআর নাকি বিনিময় ছাড়া একচুল পরিমানও নড়ে না। আর বিনিময় নিয়োগের মাধ্যমে যে কোন দুর্নীতিবাজ, অপরাধী, দাগী আসামী, অর্থলুটপাটকারী,ভুয়া সনদধারী অযোগ্য লোকেদেরকেও যোগ্য বানিয়ে দেওয়া হয়। অনেকের মতে সোনালী লাইফের সাবেক সিইও মীর রাশেদ বিন আমানের সিইও হিসাবে আইডিআরএ’র তখনকার নিয়োগ অনুমোদন মোটা অঙ্কের বিনিময়ে হয় বলে প্রমানিত হয়। এখন আবার তার মত একজন দাগী অপরাধীর উদ্দেশ্যমূলক আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে আইডিআরএ তাদের নিয়োজিত অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা চালায় এবং তার প্রতিবেদনের উপর ভিওি করে অডিট কপি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে না দিয়েই প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। আইডিআরএ’র এসব বাড়াবাড়িকে ইন্স্যুরেন্স জগতের (লাইফ-ননলাইফ) সকলের নিকট আইডিআরএ’র আইন বিষয়ক সদস্য আব্দুল মজিদের দুর্নিতির বরপুত্র বলে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয় মন্তব্য করেন। কেহ কেহ বলেন, তিনি নাকি গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল বলে দাবী করেন।

এ ছাড়াও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে নিয়ে নিকট অতিতে কোম্পানির অফিসে এবং একটি পাঁচতারকা হোটেলে বিআইএর প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেনসহ আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারির ভূয়সি প্রশংসা, সোনালী লাইফ বেশ ভালো করতেছে এবং সকল লাইফ বীমা কোম্পানি সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে অনুসরন করতে বলা যা ইন্স্যুরেন্স জগতের মাঠকর্মী থেকে এমডি চেয়ারম্যান পর্যন্ত সকলের নিকঠ হাঁসির খোরাকে পরিনত হয়। আইডিআরএ’র এহেন কর্মকান্ডে তখন অনেকে মন্তব্য না করলেও বর্তমান আমাদের সুশীল সমাজের অনেকে এবং প্রাক্তন বীমাবিদগনসহ সকলে বিরুপ মন্তব্য করে বলেন, দেশের জিডিপিতে অবদান রক্ষাকারী বীমাখাত এখন হুমকির মুখে। সম্প্রতি ১মার্চ ২০২৪ জাতীয় বীমা দিবসে “অর্থনীতির ৩০ দিনবিডি ডটকম” ও পত্রিকায় প্রকিশিত প্রতিবেদন “জাতীয় বীমা দিবসে আইডিআরএ’র ভূমিকা ও ভাবনা “ এর মাধ্যমে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর থলের বিড়ালের সব কর্মকান্ড দেশের আপামর জনগন দখেতে পায়, তাঁরা আরো মন্তব্য করেন, দেশের বীমাখাত ধ্বংসের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষই (আইডিআরএ) যথেষ্ট।
সোনালী লাইফের জনসংযোগ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় যে আইডিআরএ অডিট প্রতিবেদন সোনালী লাইফ কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ খন্ডানোর কোন সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে এবং গত ২১ এপ্রিল এ বিষয়ে চিঠি ইস্যু করে। তিনি বলেন অডিটের মূল অভিযোগে উল্লেখ হলো, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের অর্থ গ্রহন, অথচ তিনি সেসব অর্থ তার মালিকানাধীন সোনালী লাইফের প্রধান কার্যালয়ের ইমপেরিয়াল টাওয়ারের ভাড়া বাবদ গ্রহন করেছেন এ বিষয়টি কোথাও উল্লেখ করা হয়নি এবং সোনালী লাইফের দুর্নীতিবাজ তৎকালীন সিইও রাশেদ বিন আমান তার দেয়া রিপোর্টে সুকৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। ফলে অডিট প্রতিষ্ঠান ও বিষয়টিকে আমলে নেয় নি।
দেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী সোনালী লাইফ বিগত ৩ মাসে নানান অস্থিরতার মধ্যেও ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং ১১৪ কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। অথচ প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি গ্রাহকদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।