
দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অর্থনীতির ৩০ দিন সংবাদ :
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ক্রমেই আমরা নৈতিকতাহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছি। দুর্নীতি অনিয়মের বড় উৎস হলো ক্ষমতার রাজনীতি। এর মূল ভিত্তি হলো এখানে বিভিন্ন অনুগত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে অন্যায় সুবিধা দেওয়া হয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, এ পরিস্থিতিতে সম্পদের অসম বণ্টন বাড়ে, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগস্ত হয়। সৎ করদাতারা বঞ্চিত হন। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পরামর্শ দেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ক্ষমতার মধ্য থেকেও কিছু সংবেদনশীল খাতকে প্রভাবমুক্ত রাখা যায় কি না, তা দেখতে হবে।
নোয়াব সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ কে আজাদ বলেন, ব্যাংকঋণ থেকে বাজেট ঘাটতি মেটানো হবে, তাহলে মূল্যস্ফীতি কীভাবে কমবে? তিনি আরও বলেন, যিনি বিদেশে টাকা পাচার করে বিপণিবিতান করেন, কানাডায় বাড়ি করেন। তিনি ১৫ শতাংশ কর দিয়ে টাকা সাদা করে ফেলবেন। সৎ করদাতারা ৩০ শতাংশ হারে কর দেবেন। এ ধরনের তুঘলকি কান্ডের সমর্থন করতে পারি না। এটা সংসদ পাস করতে পারে না।

ব্যাংক খাতকে অর্থনীতির ‘প্রাণকেন্দ্র’ উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংক খাত ভঙ্গুর থেকে ভঙ্গুরতর হয়ে গেছে। কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা কমে গেছে অর্থনীতির।ক্ষমতাসীন ও দুর্নীতিবাজদের সুবিধা দেব, অন্যদেরও ছিটেফোঁটা এদিক-সেদিক দেব, এমন অনুমিতি ও দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই বাজেট করা হয়েছে.
আহসান এইচ মনসুর বলেন, রাজস্ব খাতের ব্যর্থতার জন্য সরকারের ঋণের বোঝা বেড়েছে। কর-জিডিপির অনুপাত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এই রাজস্ব দিয়ে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় সম্ভব নয়। তাঁর প্রশ্ন, ‘জনগণ কেন কর দেবে, যেখানে প্রায় সব সেবা পেতে উপরি দিতে হয়?’
মুসলিম চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক সরকারকে মেয়াদের প্রথম ও দ্বিতীয় বছরের মধ্যে সাহসী ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়; কিন্তু সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন অঙ্গীকার দেখা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন করা জরুরি।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন, আর ফেরত দেবেন না, দেশে এখন এ মডেল চলছে। খেলাপি ঋণের এ মডেলই এখন দেশের বিজনেস মডেল। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতের অবস্থা মর মর এবং এ খাতে সুশাসনে চরম ঘাটতি চলছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার যে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে, তা উচিত হয়নি বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এডিপির আকার এক থেকে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি করার দরকার ছিল না।
বাজেট প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী কার কথা শুনেছেন এমন প্রসঙ্গে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী তিন গোষ্ঠীর কথা শুনেছেন। এগুলো হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), অলিগার্ক ও আমলা। তবে কার কথা শোনেননি অর্থমন্ত্রী এমন ব্যাখ্যাও দিয়েছেন হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এই দুটি শ্রেণি হলো পরিশ্রমী উদ্যোক্তা ও পরিশ্রমী কর্মী।
হোসেন জিল্লুর রহমানের পরামর্শ, অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে ব্যাংক ও রাজস্ব এই দুই খাতে একটি করে কমিশন করা দরকার।
অর্থনীতির বিভিন্ন খাত প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারের বিদেশি ঋণ নেওয়া অব্যাহত আছে; সুদ ব্যয়ের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেটও বিদেশি ঋণের ফাঁদে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ব্যাংক খাত ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ ও ‘অরক্ষিত’ অবস্থায় আছে বলে মনে করেন তিনি। সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, স্মার্ট মানুষ নীতিহীন হলে ভয়ংকর পরিস্থিতি হয়। এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণে সরকারের অনুগত ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অন্যায় সুবিধা পাচ্ছে।










