ড. এম আসলাম আলমের অপকর্মের দায় ও দুদকের নিরপেক্ষতা (২য় পর্ব)

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
কোন এক জলসায় ইসলামি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকে জনৈক মাদকাসক্ত লোক জিজ্ঞেস করেছিলেন, “হুজুর মদ খাবেন, হুজুরতো একেবারে লজ্জা-শরমে এবং মান-সম্মানে নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, না না আমি এসব খাইনা/পান করিনা, এসব ইসলাম বিরোধী এবং বেদাতি কাজ। লোকজন চলে যাওয়ার পর বললেন, কিন্তু… খাব যে, পাব কোথায়।” সুযোগের সদ্বব্যহার কে না করেন, সেটা চাপে পোড়ে হোক, প্রলোভনে পড়ে হোক আর নৈতিকতার অবক্ষয়েই হোক বা লোভে পড়েই হোক। তবে নৈতিকতার অবক্ষয়ে বিবেক বর্জিত লোভের কারনটাই আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারিদের অবস্থা-অবস্থান, পদ মর্যাদা থেকে শুরু করে ব্যক্তি মর্যাদার স্থান এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্ছ আসনকে পর্যন্ত ধুলোয় মিশে দিয়েছে। বারবার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয় আবার চেয়ারের মানুষগুলিরও পরিবর্তন হয় শুধু-কিন্তু মানুষগুলির স্বভাব তথা গুনগত মানের কোন উন্নয়ন বা পরিবর্তন হয়না, এই পরিবর্তন কার্যক্রমটাকে বলা যায় যেন, “নতুন বোতলে পুরনো মদ।” যা সম্প্রতি একজন সিইসির নিকট অতীত কর্মজজ্ঞের ফলাফল হিসাবে দেশবাসী তথা সারা বিশ্ব দেখেছে। নাম না বলার শর্তে একজন লোক আক্ষেপ করে বলেন, সিইসির অতীত কৃত কর্মের জন্য যদি তাকে ফাঁসিও দেওয়া হত, তাহলেও এটা একেবারে লগু শাস্তি হিসাবেই মনে করব। অন্য একজন একই ভাষায় বলেন, সে (সিইসি) যদি আত্মহত্মাও করতো, তাহলে তার কফিনে জুতা মারলেও মানুষের ক্ষোভের উপসম হত না। আবার গত ৫ আগষ্ট ২০২৪ জনরোসের মুখে আমাদের দেশের একটা অবৈধ স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধানের পলায়ন, রাষ্ট্রীয় পলিসি তৈরিকারী শিক্ষিত সর্বোচ্চ চেয়ারধারী (পদস্ত) ব্যক্তিগন, বিচারপতি, এমনকি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এর ইমামসহ বিবেক বর্জিত আওয়ামি সুবিধাভোগী দায়িত্বশীল ব্যক্তিগন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কর্তব্যরত নিরপরাধ একজন পুলিশ অফিসারকে নির্মম শাস্তি দেওয়া, নৈতিকতা পরিহার করে অবসরের ১৬মাস পরে জোরপুর্বক কোন বিচারের রায় দেওয়া এবং হাজারো মিথ্যাকথা বলা একজন প্রধান বিচারপতি পালিয়ে যাওয়ার পথে জনরোসের কবলে পড়ে আইন সৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেষ্টনি ভেদ করে কিল, ঘুষি, লাথি-ওষ্ঠা দিয়ে গোপনাঙ্গ ফাটিয়ে ফেলাসহ পচাডিম ও সেন্ডেল ছুড়ে মারার দৃশ্য দেশ তথা সারা বিশ্ববাসি চরম লজ্জাচোখে উপভোগ করেছে। এতসব ঘটনা দেখার পরেও কি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হয় না। তবুও বলব, “মব জাষ্টিস কখনোই গ্রহনযোগ্য নয়।” সময়ে সময়ে এতকিছু দেখেও আমরা শিক্ষা নেই না। আমরা খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু ভুলে যাই।

এসব ঘটনাগুলির যখন ক্রমধারাবাহিকতা অবলীলায় চোখের সামনে ভেসে উঠে, এবং সাধারন পাঁচ টাকা মুল্যের একটা কলমের লিখনিতে উঠে আসা ইতিহাসের পাতায় দায়িত্বশীল লোকেদের কলঙ্কিত ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস হয়ে থাকবে, যুগেযুগে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ঘৃনাভরে পাঠ করবে বলে মনে হয়, তখন এক মূহুর্তের জন্য হলেও নিজেকে বিশ্বাস করতে পারিনা, আমি সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা এমন একটা সোনার দেশে জন্মগ্রহন করেও নিজেকে, “জন্মই আমার আজন্ম পাপ” বলে মনে হয়, কখনো কখনো দায়িত্তশীল লোকের দায়িত্তহীন অপকর্ম দেখে নিজেও অসুস্থ হয়ে যাই। আমাদের বিবেক কখনো কি একবারের জন্য হলেও জাগ্রত হয় না যে আমরা কি করতেছি? অনেক পুর্বের ইতিহাস নাহয় বাদ দিলাম, কিন্তু গতশতক থেকে বিশ্ব এখন শিক্ষা সংস্কৃতি জ্ঞান-বিজ্ঞানে, বিবেক বুদ্ধিতে, ন্যায়-অন্যায়, হারাম-হালাল বিবেচনায় সভ্যতার কাছে মানুষ অনেকদুর এগিয়ে এসেছে। এই এগিয়ে আসার যুগেও আমাদের শিক্ষিত সমাজ দায়িত্বশীল পদমর্যাদায় থেকে লোভ-লালসার এবং নিকৃষ্টতার নজির স্থাপন করে যাচ্ছেন কেন, তা বোধগম্য নয়।
আসলে আমাদের সব শিক্ষিত এবং দায়িত্বশীল (সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত, সুশিক্ষিত নয়) লোকেরাই যতসব অপকর্মের মুল উৎপত্তিস্থল, আর এরাইতো যত চোর, গুন্ডা, বদমাইশ, কর্মকর্তা, কর্মচারি, অফিসার, সচিব, আমলা, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, বিচারপতি, রাষ্টীয় নীতি নির্ধারকসহ দেশের আইন সৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর, এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের অধিকারী, অর্থ্যাৎ, শিক্ষিত এবং দায়িত্বশীল লোকেরাই সর্বক্ষেত্রে সর্ব রকম অপকর্মের মুল কারিগর।

আর এসব শিক্ষিত এবং দায়িত্বশীলদের অপকর্মের কারনে গত ১৭ বছর ধরে দেশের সর্বস্তরের প্রত্যেকটি শান্তিপ্রিয় মানুষের অন্তরাত্মাকে চোষন, বারন, নির্যাতন করার মুল উৎস হিসেবে তৈরি করে দেওয়া গত ৫আগষ্ট ২০২৪ আমাদের দেশের একটা অবৈধ স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধানের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদ পদত্যাগ করে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারিদেরকে জনগনের ক্ষোভ এবং তোপের মুখে ফেলে রেখে নিজস্ব বলয়ের পলিসি তৈরিকারী শিক্ষিত সর্বোচ্চ চেয়ারধারী বেশকিছু ব্যক্তিসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিগন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও দেশের কৃষক, শ্রমিক, মুজুর, দেশের সুশীল সমাজ, কবি, লেখক, সাহিত্যিক সমাজের যারা চেয়ারের চিন্তা না করে চেয়াবিহীন কাজ করে দেশকে মর্যাদার আসনে টিকিয়ে রেখেছে, তারাতো পালিয়ে যায়নি, কোন অপকর্মে লিপ্ত হয়নি, এমনকি বিদেশে অর্থপাচারসহ দেশ থেকে কোন অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়নি, সততার প্রতিক হিসেবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিক কষ্ট ও নৈতিকতায় জীবন ধারন করেন। প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনাকে অবৈধ স্বৈরাচারি ফ্যাসিস্ট তৈরি করার মুল কারিগর আমাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারিগন অবৈধ সুযোগ সুবিধা দেয়া নেয়ার সময় একবারও কি ভেবেছিলেন সময়ের আবর্তে এই ফ্যাসিজম থেকে মুক্তিকামি জনগনের অবদমিত ক্ষোভ প্রসমনের শিকার হতে হবে নিজেদেরকে। দুদকের নিকট এসব দুনীতির তদন্তভার থাকলেও দুদকের অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত নিরপেক্ষ কর্মকান্ড নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন যে, দুদক কখনোই নাকি বিতর্কের উর্ধে থাকার নজির তৈরি করতে পারে নাই। যদিও সাধারন মানুষের নিকট দুদক, “দুর্নীতি দমন কমিশন না হয়ে দুর্নীতি দখল কমিশন হিসেবে আখ্যায়িত।”

সরকারের আমলা থাকাকালিন সময়ের দিনের ভোট রাতে কেটে নেওয়া, জমি ও ফ্লাট ক্রয় এবং বরাদ্দের কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদকের তদন্তজালে আটকানো থেকে অলৌকিক সুবিধাভোগী, সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহনের পর অবসরে থেকে দুই বৎসরে নতুন করে বীমাশিল্পসহ সরকারের বিভিন্ন খাতের অভিনব বিজ্ঞানের উদ্ভাবক হয়ে উঠা অনৈতিকতার ধ্বজাদারি এসব ব্যক্তিবর্গ নিজেদের লোলোপ বাসনা পূর্ণ করার জন্য পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ গ্রহন করেছেন বলে যে কয়েকজনের নাম বেরিয়ে আসছে, ড. এম আসলাম আলম এদের ভিতরের অন্যতম একজন। এম আসলাম আলম ২০১২ সালের নভেম্বরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৬ সালের মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সঙ্গে এম আসলাম আলমকেও সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভিডিও লিঙ্কসংযুক্ত : https://www.facebook.com/shere/v/1BiRA3fthp/ আমরা দেখতে পাই, “যতবড় পদ ততবড় অপকর্ম, ততবড় দুর্নীতি।” আর আমাদের সচিব/আমলারাই এসবের মুল উৎপাদনকারী এবং উৎস। বিভিন্ন অনলাইন, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত যার তথ্য এবং ভিডিও চিত্রসহ অর্থনীতির ৩০ দিন এর অনুসন্ধানী টিমের হাতে সংগ্রহিত রয়েছে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় ….
তিন (৩) পর্বের ধারাবাহিকের ২৯ জুন ২০২৫ রবিবার প্রকাশিত হল ২য় পর্ব
চলবে…
দুদকের তদন্তজালে আবদ্ধতা, বীমা কোম্পনীর এমডি/সিইও নিয়োগ অপসারন, কোম্পানীগুলিকে শাস্তি ও বড় অঙ্কের জরিমানা নিয়ে ৩য় পর্বের দিকে চোখ রাখুন অর্থনীতির ৩০ দিন বিডিডটকম অনলাইন এবং ম্যাগাজিনের পাতায়…