
অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) দেশের সাধারণ বীমা খাতের ৪৬টি কোম্পানির মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে কোম্পানিগুলোর দাখিলকৃত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আইডিআরএর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন, যুগ্ম সচিব) খলিল আহমদ বলেন, সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিবেদনে পুনঃবীমা অন্তর্ভুক্ত করেছে কিনা তা জানায়নি। যদি পুনঃবীমা ব্যবসা এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে মোট প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ আরো বেশি হওয়া উচিত ছিল।
জানা গেছে, প্রথম তিন প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তাদের মার্কেট শেয়ার ৩৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।
মোট প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে এর পরই রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। তিন প্রান্তিকে ৩১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে এ কোম্পানি। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ারের পরিমাণ ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে এ কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সে বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫৯ পয়সা।
মোট প্রিমিয়ামের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এ কোম্পানির ২১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় হয়েছে। তবে আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় কমেছে ২৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাতে এ কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০০১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানিটি ২০১৭ সালে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সে বছর এর ইপিএস হয় ৩ টাকা ৪৩ পয়সা।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গ্রস প্রিমিয়ামের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ২১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। জানা গেছে, আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে এর প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। এ কোম্পানির মার্কেট শেয়ার ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটি সর্বশেষ ২০১৭ সালে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। সে বছর এর ইপিএস দাঁড়ায় ৫ টাকা ২৮ পয়সা।
প্রথম তিন প্রান্তিকে ১৫১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে প্রগতি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। জানা গেছে, আগের প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি ২০১৭ সালে বিনিয়োগকারীদের ১৩ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়। সে বছর এর ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ৬৬ পয়সায় ও এনএভিপিএস ৫৪ টাকা ৫৪ পয়সা।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মোট ৭৮ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। ইস্টলান্ড ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৭০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মার্কেট শেয়ার ২ দশমিক ০৭ শতাংশ।
জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে রূপালী ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৬৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এছাড়া ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স ৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, নিটল ইন্স্যুরেন্স ৫২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৫১ কোটি ১২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে। এদিকে এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ৪৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ৪৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ও সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ৩৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে।
সূত্র : বণিক বার্তা












