”দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরিচালকের”


খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লুটপাটের ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক উভয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
ফারইস্ট লাইফের উদ্বোক্তা পরিচালকসহ ৭জন সাবেক পরিচালকের মামলার প্রেক্ষিতে বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের একক বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী একেএম বদরুদ্দোজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বতর্মানে এম এ খালেক পাসপোর্ট জটিলতায় দেশে থাকতে বাধ্য হলেও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। বিশ্বস্ত সুত্রে যানা যায় নজরুল ইসলাম গত ডিসিম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশে ফিরেন এবং নিয়মিত বনানির কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ এর লাইট হাউজে অফিস করার পাশাপাশি প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত যাতায়ত করেন।
নজরুল ইসলাম দেশে আশা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তার (নজরুল ইসলাম) এবং এম এ খালেকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা দায়ের করেন কোম্পানির ৭জন সাবেক পরিচালক। এরা হলেন- মো. ফখরুল ইসলাম, হেলাল মিয়া, কামরুল হাসান, শামসুল হক, মুসলিমা শিরিন, নাজনীন হোসেন এবং আয়শা হুসনে জাহান। তবে ৭ জনের মধ্যে মধ্যে- মো. ফখরুল ইসলাম, যিনি কোম্পানীর উদ্বোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, কিন্ত খালেক-নজরুল গংদের দুর্নীতির মহড়া দেখে ২০০৯ সালে পরিচালনা পর্যদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বাকি ৬জন পরিচালক সম্প্রতি বিএসইসি কর্তৃক অপসারিত পর্যদের সদস্য ছিলেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, দেশের বীমাখাতে বহুল সমালোচিত ঘটনা ফারইষ্ট লাইফের লুটপাট
বোর্ড মিটিংয়ের পর নজরুল ইসলাম ও এম এ খালেক এমনভাবে সারসংক্ষেপ তৈরি করতেন, যার সঙ্গে পর্ষদের সিদ্ধান্তের কোনো মিল ছিল না। এই সাজানো সারসংক্ষেপ দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাক্তিগত ও নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছেন। আর এ সকল ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ফারইষ্টের লিয়েনকৃত এমটিডিআর বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক ঋন সমন্ময় করায় রাতারাতি কোম্পানীটির সম্পদ শুন্যের কোটায় নেমে আসে, যার দায় ও ভোগন্তি বর্তমানে সাধারন শেয়ার হোল্ডারসহ পলিসি হোল্ডারদের নিতে হচ্ছে, যা একেবারে চরম জালিয়াতি এবং প্রতারণা হিসাবে পুজি বাজারসহ দেশের আর্থিক খাতকে সারা বিশ্বে ইমেজ সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে ।
১১ জানুয়ারি মঙ্গলবার মামলাটি শুনানীর জন্য গ্রহন করে উচ্চ আদালত। এক্ষেত্রে অভিযুক্তরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য এই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। উক্ত খাত সংশ্লিষ্টদের মতে নজরুল-খালেক গংদের শুধু দেশত্যগের নিষেধজ্ঞাই যথেষ্ঠ নয়, সেই সাথে তাদের ও তাদের পরিবারের অবৈধভাবে অর্জিত দেশ- বিদেশে সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদসহ শেয়ার-ডিবেঞ্চার, বন্ড ইত্যাদি বিক্রয় ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা অপরিহার্য্য।
জানা গেছে, গত দশ বছরে ফারইস্ট লাইফে কয়েকহাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এর স্পেশাল অডিট রিপের্টের সুত্র ধরে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে এসেছে।
এক্ষেত্রে মূল লুটপাট হয় ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে। এ সময়ে কোম্পানির লাইফ ফান্ড ও এফডিআর ভেঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বিশাল সম্রাজ্য গড়েছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বহিস্কৃত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম। যিনি বর্তমানে প্রাইম ইনস্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের চেয়াম্যান হিসাবে বহাল অছেন। যদিও জনশ্রুত আছে ফারইষ্টের লুটপাটের টাকা দিয়েই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নামে-বেনামে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ১০% এর অধিক শেয়ার ক্রয়করে বীমা আইন লঙ্গন করে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্যদে একক আধিপত্ব বিস্তার করেন। তাছাড়া নিজের ও স্ত্রীর নামে প্রসাদ সমান বাড়ি ও তিনটি ব্যবসা খুলেছেন। দুটি জমি ক্রয় দেখিয়ে সাড়ে ৩শ কোটি টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু বীমার টাকা না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার গ্রাহক নিয়ন্ত্রকসংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
এর সঙ্গে সাবেক কোম্পানির চেয়ারম্যান এমএ খালেকের সম্পৃক্ততা পেয়েছে এ খাতের নিয়ন্ত্রকসংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এছাড়াও লুটপাটের সময় অর্থাৎ ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আইডিআর এর বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোশাররফ হোসেন, এফসিএ
এসব লুটেরা ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তির আওতায় না আনলে বিদেশের মাটিতে বিএসইসির রোডশো, আইডিআরএ এর সংস্কারমুলক উদ্ব্যেগসমুহ মুখথুবরে পড়বে এবং মাননিয় প্রধান মন্ত্রীর উন্নত দেশে উত্তরনের স্বপ্ন ব্যপকহারে বাধাগ্রস্থ হবে।
বিষয়টি নিয়ে অনলাইনসহ বিভিন্ন দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে বীমাখাতে তোলপাড় শুরু হয়। কোম্পানির উদ্বোক্তা পরিচালক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো: ফখরুল ইসলামের রিটের কারনে আদালতের নির্দেশক্রমে ফারইষ্ট লাইফের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয় বিএসইসি।