দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নয় মনে হচ্ছে যেন ঋণ পরিশোধ হচ্ছে – মুসলিম লীগ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভারতের সরকার ও জনগণের সমর্থন-সহযোগিতার জন্য আমরা চীর-ঋণী। আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি নই -আজীবন এ ঋণের কথা স্বীকার করে যাব। নিজে জ্বালানী ও পানি সংকটে থেকেও ভারতের সাথে কোন বিনিময় ছাড়াই গ্যাস রফতানির চুক্তি, মানবিক কারণের কথা বলে ভারতকে ফেনী নদীর পানি তোলার অনুমতি দিয়ে দেয়া, সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সমঝোতা ইত্যাদি দেখে মনে হচ্ছে এ কোন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না বরং স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতীয় সমর্থনের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা হচ্ছে।
বাংলাদেশের গৃহস্থালি, যানবাহন ও কলকারখানা খাত সহ দেশের অন্যতম প্রধান জ্বালানী গ্যাস। ধারাবাহিক ভাবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এমনিতেই দেশে চাহিদানুযায়ী গ্যাসের যোগান দেয়া যাচ্ছে না। কলকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও গৃহস্থালি সংযোগের বড় একটি অংশ প্রায়ই পাইপ লাইনে গ্যাস শূন্যতায় ভোগে। চাহিদা মেটাতে সরকার নিয়মিত এলএনজি, এলপিজি আমদানি করে থাকে। এরকম অবস্থায় ভারতে গ্যাস রফতানির সক্ষমতা আমাদের আছে বলে জাতি মনে করে না। ফেনী জেলায় সেচের প্রধান নদী থেকে ভারতকে পানি তুলে নেয়ার অনুমতি দেয়ার মাধ্যমে মূলত একটি উর্বর কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী জেলাকে গলাটিপে হত্যা করার সূচনা করা হল। ভারত যে পদ্ধতি ও কৌশলে আমাদের সমুদ্র বন্দরগুলো ব্যবহারের অনুমতি পেতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকা-চীনের মত প্রতাপশালী দেশও যদি একই পদ্ধতিতে আমাদের সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের অনুমতি চায় তা মোকাবেলা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। এরকম দুঃসময় আসলে আমরা নিশ্চিতভাবেই ভারতকে পাশে পাব না, যেমন পাইনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাধারণত সমতার ভিত্তিতে হয়। এমন অসম চুক্তি ইতিহাসে বিরল। ভারত শুধু নিয়েই যাচ্ছে। চুক্তির অসমতা নিয়ে সরকারও বিব্রত বোধ করছে বলেই মানবিক কারণে ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়ার কথা বলা হচ্ছে আর জনগণকে অন্য বিষয়ে ব্যস্ত রাখার মানসে ক্যাসিনো রাজার গ্রেফতারের মত সুপারহিট মুভি প্রেক্ষাগৃহে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অবিলম্বে চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়বস্তু জনসম্মুখে প্রকাশ করুন। জনগণ এখন আর কি পেলাম তা খুঁজে না, বরং দেখতে চায় নতুন করে আর কি কি হারিয়েছি!
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে দলের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, সম্প্রতি ভারতের সাথে সম্পাদিত অসম সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় দলীয় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। বক্তব্য রাখেন দলীয় মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, অতিঃ মহাসচিব আকবর হোসেন পাঠান, কাজী এ.এ কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, এ্যড. হাবিবুর রহমান, ইঞ্জি: ওসমান গণি, খোন্দকার জিল্লুর রহমান প্রমুখ।