
খোন্দকার জিল্লুর রহমান:
নাঙ্গেলী থেকে মুসকান রুপে সংগ্রামী জীবনের যাত্রা
স্তন থাকবে সর্বদা অনাবৃত্ত থাকবেনা নারী অধিকারের মাত্রা।
ব্রাহ্মণ ব্যতিত সকল নারীরা পারবেনা চলতে স্তন ডেকে
রাজ্যের নিয়ম অমান্যে শাস্তি তাই চলতে হবে অনাবৃত্ত রেখে।
ব্রাহ্মণ নারীরা পারবে চলতে উপরে সাদা কাপড়ে স্তন ঢেকে
বাকি সব সম্প্রদায়ের নারীরা চলবে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত রেখে।
এভাবেই ছিল সে অঙ্গরাজ্যের নারীদের কাজকর্মে চলাফেরা করা
স্তনটেক্স ভারে নিস্পেশিত নারীরা অনিয়মের রাজা থাকে অধরা।
যত বড় স্তন ততবেশি টেক্স নির্ধারন রাজার আয় ছিল খুব খাটি
গরিবের উপরে টেক্স উত্তোলন ছিল ‘বোঝার উপর শাকের আঁটি।’
রুখে দাড়ায় দলিত এক নারী সিদ্ধান্ত এমন আইন চলবেনা রাজার
জীবন দিয়ে হলেও এবার করবে এমন অনিয়মের সুন্দর প্রতিকার।
মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রতিজ্ঞা করে রাজাকে পারবেনা স্তনকর দিতে
নিজের স্তন কেটে কলাপাতা মুড়ে তুলে দেয় টেক্স কালেক্টরের হাতে।
টেক্সের বদলে কাটাস্তন দেওয়ায় বন্ধ হল চিরতরে স্তনটেক্স আদায়
সইতে না পেরে স্বামী চিরকান্দন আত্মহুতি দেয় নাঙ্গেলীর চিতায়।
দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে নারীকুলের স্তন অনাবৃত না রাখার
পুরুহিত ধর্ম বিরোধী বলেও এটা ছিল নারীর ব্যক্তিগত অধিকার।
নাঙ্গেলীরা মুলত মরেনা কোনদিন যুগে যুগে ফিরে আসে বার বার
নাঙ্গেলী থেকে মুসকান স্তন থেকে হিজাবের প্রতিবাদি হয়ে আবার।
____________***____________________
বি:দ্র: প্রায় দুশ’ বছর আগে ভারতের কিছু অঙ্গরাজ্যে হিন্দুদের মধ্যে এক প্রকার ট্যাক্স প্রচলিত ছিল। করটির নাম- ‘স্তন কর’ বা (Breast Tax) । এর আরেকটি নাম মুলাককারাম (Mulakkaram) আর এরকম একটি রাজ্যের নাম ট্রাভোঙ্ক্রর, বর্তমানে সেই সেই এলাকা কেরালা রাজ্যের অধিন। সেই রাজ্যে তখন নিয়ম ছিলো ব্রাহ্মণ ব্যতিত অন্য কোনো হিন্দু নারী তার স্তনকে ঢেকে রাখতে পারবে না। বাকি হিন্দু শ্রেণীর নারীদেরকে প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখতে হতো। কোন অন্যায়,অবিচার দিনের পর দিন চলতে পারেনা।যার প্রতিবাদ এলো এক দলিত নারীর কাছ থেকে। ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’র বড় অংশই যেত ত্রিবাঙ্কুরের রাজাদের কুলদেবতা পদ্মনাভমন্দিরে। দলিতদের আজীবন ঋণের নিগড়ে বেঁধে রাখার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় আলাপুঝার এঝাওয়া সম্প্রদায়ের এক নারী, নাম নাঙ্গেলী,(Nangeli অর্থ সুন্দরী)। ১৮০৩ সালে এই সাহসিনী নারী রাজার ওই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার স্তনকে আবৃত করে রাখে এবং “স্তন কর” দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
ট্যাক্স কালেক্টর তার বাড়ীতে আসে তার কাছে স্তনকর চাইতে, তখন নাঙ্গেলী তাকে কিছুক্ষণ বসতে বলে সে অন্যঘরে যেয়ে একটা কলাপাতা ঘরের মেঝেতে বিছিয়ে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনা করার কিছুক্ষণ পর নিজের স্তন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ওই কলাপাতায় মুড়ে ট্যাক্স কালেক্টরের হাতে দেয়। কাটা স্তন দেখে ট্যাক্স কালেক্টর চমকে ওঠে। ট্যাক্সের বদলে কাটা স্তন!
স্তন কাটার কিছুক্ষণ পরেই নাঙ্গেলীর মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। নাঙ্গেলীর স্বামী চিরুকান্দন স্ত্রীর মৃত্যুশোক সইতে পারে না, সেও নাঙ্গেলীর চিতার আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এই ঘটনার পর থেকেই স্তন কর বন্ধ হয়ে যায়।এখন আর এই অন্যায় আইন বা ধর্মীয় রীতি নেই। কিন্তু এই নিপীড়নমুলক আইন বন্ধের সুচনা করেছিল এক সাধারণ নারী তার নিজের স্তন কর্ত্তন তথা জীবন বিসর্জন দিয়ে।
নাঙ্গেলী যেখানে বসবাস করত, পরবর্তীতে নাঙ্গেলীর স্মরণে সেইস্থানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় “মুলাচিপারামবু”, যার অর্থ “The land of breasted women”
”












