বিআইএ ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাচনের পুর্বমূহর্তে আমি আর মামু’র প্যানেল

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
কর্তৃত্ত করার একটা সহজাত প্রকৃতি নিয়ে বিআইএ’র নিজস্ব টিম যেন আমি আর মামু, বাঘ শিকার যামু। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি বিআইএ ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাচনের ঠিক দু-দিন আগে এমনভাবে আমি ও আমরা টিম তৈরি করা মানে, তুমি কে, আমি কে? স্বৈরাচার, স্বৈরাচার… কে বলেছে, কে বলেছে…… তা নয়-তো? খাত এবং নির্বাচন সংস্লিষ্ঠ অনেকে এটাকে সুদৃষ্টিতে দেখছেন বলে মনে হয় নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেহ কেহ বলেন, নির্বচনকে প্রভাবিত করতেই তড়িগড়ি করে নির্বাচনের দুদিন আগে এরকম একটি প্যানেল তৈরি, ,দীর্ঘকালীন কুক্ষিগত করে রাখা ফ্যাসিশক্তির গ্রাস থেকে বাহ্যিকভাবে বীমাখাত সাময়ীক মুক্ত হতে দেখা গেলেও প্রকৃতভাবে বীমাখাত সেই পুরনো শকুনের প্রভাবিত দখলেই ঘুরেফিরে বন্দি হয়ে রয়েছে। এতে মনে মনে প্রশ্ন জাগে, বিআইএ’র এই ঘটা করা নির্বাচনের ফলাফল কি সেই “নতুন বোতলে পুরনো মদ?”
আসলে বিআইএ কি বীমা পরিচালকদের সংগঠন, না মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংগঠন নাকি মালিকানাসমৃদ্ধ মুখ্যনির্বাহিদের সংগঠন বুঝা মুশকিল। গঠিত ১০ জনের প্যানেল অনুযায়ী দেখা যায় দেখা যায়, ৬ জন মালিক পক্ষ, ৩ জন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পক্ষ ও ১ জন মালিকানা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পক্ষ, অর্থ্যাৎ, সবে মিলে তুমি, আমি ও আমরা আমরাই।

কর্তৃত্ত করতে সব সময় ভাল লাগে, কিন্তু সে কর্তৃত্ত যদি সমপোযোগী বা রাষ্ট্রীয় কল্যানে না এসে জনস্বার্থের বিরোধিতা সৃষ্টি করে একক ব্যক্তি, গোষ্টি, জাতির উপর প্রভাব সৃষ্টি করে একক ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য গনতান্ত্রিক পদ্বতির বাইরে গিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে সুযোগ না দিয়ে তাদের বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেইসাথে কোন জাতি বা দেশের উন্নয়নের অন্তরায় হয়, তখন সেই কর্তৃত্ত একসময় কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, এর জন্য দ্বায়ী কে বা কারা ?
দীর্ঘ চড়াই উৎরাই এবং ফ্যাসিবাদের করাল গ্রাস থেকে মুক্তির পর বীমা খাতের মুখ্য নির্বাহি কর্মকর্তা এবং বীমা কোম্পানীর পরিচালকদের মহা আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে প্রত্যয় ও মৌলিক উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা নিয়ে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) ২০২৫-২০২৬ সালের নির্বাচন।
প্রতিযোগি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির পরিচালকগন
নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের মধ্যে থেকে প্রতিযোগিতা করেছেন- সিটি ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হোসেইন আখতার, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান সাঈয়্যেদ আহমেদ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান কাজী শাখাওয়াত হোসেইন লিন্টু, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেইন, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান কে এম আলমগীর, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের ইনভেস্টমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন জামাল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক তায়েফ বিন ইউসুফ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক বেলাল আহমেদ এবং রূপালী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মোস্থফা কামরুস সোবহান।
প্রতিযোগি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা
নন লাইফ বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে প্রতিযোগিতা করেছেন- বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দীন চৌধুরী, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইমাম শাহীন, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ কে এম সরোয়ার জাহান জামিল, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান তারেক, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন সরকার, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এএনএম ফজলুল করিম মুন্সি, ইসলামি কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোকাররম দস্তগীর এবং সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী।
সূত্রের খবরে জানা যায়, বিআইএ’র ৮০ জন সদস্যের ৭৬ জন নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন, বাকি চারটি বীমা কোম্পানি কেউ ভোটার হন নি।
বর্তমানে ইন্স্যুরেন্সের মালিক পক্ষের বেশকিছু লোক এখনো ফ্যাসিবাদি কায়দায় নিজেদের ভিতরে কর্তৃত্ব খাটানোর জন্য দেশে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুলির থেকে চাঁদাবাজি এবং নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা করে যাচ্ছেন, যার কারনে জিডিপিতে অবদান রাখা বীমাখাত দেশের অর্থনীতিতে সুন্দর ভূমিকা রাখার পরিবর্তে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে যেটা বলতে হয় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিশেন (বিআইএ) হিসাবে বীমাখাতের উন্নয়নে কি কাজ করেন তা প্রশ্নবিদ্ধ? আর যদি বিআইএ’র কর্মকর্তাসকল এতই শক্তিশালি হয়ে থাকেন তাহলে প্রধানত কমিশনের ব্যপারসহ সবগুলো কোম্পানি কেন সকল বিষয়ে একক সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারে না।
কোম্পানিগুলোর একক অবস্থা এবং বাংলাদেশের ইন্স্যুরেন্স খাতকে বেহাল অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দেশের বীমাখাতকে একটা ফ্যাশিশক্তির নিকট পরাজয় স্বীকার করে কেন? যদি না হয় তাহলে একশ্রেণীর ক্ষমতার লোভী লোক বা তাদের নিজস্ব স্বার্থে কোম্পানিগুলিকে চাঁদা আদায়ের উৎস হিসাবে ব্যবহার করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের কাজ করতে না পারে, তার জন্য সঠিক এবং গনতান্ত্রিক পদ্বতিতে বিআইএ’র এ নির্বাচন বর্তমানে সেই ভুমিকা রাখতে পারে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ।
আমরা আশা করব, অ্যাসোসিশেন অনৈতিক বা অসমর্থিত কোন তাবেদার গোষ্টির প্রভাবের নিকট মাথানত না করে দেশের ইন্স্যুরেন্স খাতকে শক্তিশালী করার জন্য বিআইএ’র ২০২৫-২৬ এর নির্বাচিত কমিটি একটা ভাল এবং শক্ত ভূমিকা রাখবে, যেখানে বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা এবং অবৈধভাবে ব্যবসা করার দ্বায় কোন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যক্তিকে নিতে হবে না। যেকোন দুষ্ট চক্রের হাত থেকে জিডিপির অংশীদার দেশের বীমাখাত সফল ভূমিকা রাখবে।