বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে বললেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্দা আর্ডেন- হ্যাঁ, আমি নারীবাদি

অর্থনীতির ৩০ দিন ডেস্ক :
আর্ডেনকে বিবিসির সাক্ষাতকারগ্রহীতা প্রশ্ন করেন, আপনি কি কখনো আপনার সঙ্গী ক্লার্ককে বিয়ে করতে বলেছেন? কিংবা তার কাছ থেকে প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করেছেন? এতে কিছুটা অবাক হয়ে আর্ডেন খলখলিয়ে হেসে ওঠেন। পরক্ষণেই বলেন, ‘না, আমি এটি জিজ্ঞেস করি নি’। এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি নারীবাদি? আর্ডেন বলেন, অবশ্যই, অবশ্যই আমি নারীবাদী। তবে আমি তাকে ( ক্লার্ক গেফোর্ড) কখনোই এমন কিছু জিজ্ঞেস করি নি যা তাকে মানসিকভাবে পীড়া দেবে।
বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েই সন্তানের জন্ম দেন জ্যাসিন্দা, মাত্র ছয় সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে সমানতালে সামলেছেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, নিজের শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে গিয়েছেন জাতিসংঘের অধিবেশনে। সঙ্গী ক্লার্ক গেফোর্ডকে নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিপুণভাবে।
শুক্রবারের ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধরে রাখার জ্যাসিন্দার নেতৃত্বের কারিশমা বিশ্বের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরও ভ্রু কুঁচকে দিয়েছে।
এদিকে জানুয়ারির এই সাক্ষাতকারে জ্যাসিন্দাকে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করায় টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমালোচনার মুখে পড়ে বিবিসি। একজন বলেন, ‘তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, এটি কোন প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন না, একজন পুরুষ হলে তাকে কখনোই এ বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হতো না।
নিউজিল্যান্ডভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিয়ার্সি এডওয়ার্ড দ্য গার্ডয়ানকে বলেন, ‘এই প্রশ্নটি আসলেই বিস্ময়কর। প্রধানমন্ত্রীর ভঙ্গিতে বোঝা গিয়েছে, তিনি নিজেও অবাক হয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীকে তার সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করাটা অনুচিত।’