মব জাস্টিস’ গ্রহণযোগ্য নহে

খোন্দকার জিল্লুর রহমান
আমরা এমন একটা দেশের একটা সমাজে বা একটা পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছি ও বসবাস করি এবং আমাদের অবকাঠামুগত বিল্ড আপটা এবং আমাদের জন্মগত বিল্ড আপটা বা তৈরি টা এমন একটু আক্রোশের, এটা আসলে গ্রহণযোগ্য নয়। পাবলিক সেন্টিমেন্ট থাকতেই পারে কিন্তু এটা ধৈর্যের সাথে গ্রহণ করা অবশ্যই দরকার এটা কখনোই সাধারণত স্থান কাল পাত্র ভেদে পাবলিক সেন্টিমেন্ট বা পাবলিক প্লেসে দেখানো উচিত নয়। সময়ের ব্যবধানে আমরা অনেকেই সেন্টিমেন্ট দেখিয়ে কারো সহানুভূতি অর্জন করতে চেষ্টা করি বা নিজের পথ পদবী ও অন্যান্য অনেক কিছুকেই অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যোগ্যতায় দেখাইতে চেষ্টা করি, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের এই লাম এক্টিভিটিসকে পদ পদবী ও ক্ষমতালিপ্সু লোকেদের নিকট একটু কার্যকরী হিসেবে কারো কারো সহানুভূতি অর্জন করা যায়। এসব কাজগুলি প্রত্যেকের জন্য এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নৈতিকতা বিরোধী। প্রকৃত মানুষ এসব স্বভাব কখনোই পছন্দ করেন না তারা হয়তো দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান। তখন মানুষ মানুষের ভিতরে একটা স্নায়ুবিক দূরত্ব বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সম্পর্কে দূরত্ব বেড়ে যায় এটা আসলে একটা সভ্য জাতিকে অসভ্য বানিয়ে দেয়।
তাৎপর্যের বিষয় হইল, গ্রেফতারকৃতদের প্রায় সকলেই রাজনীতিবিদ। ক্ষমতার পালাবদলে নানা অভিযোগের খড়গ মাথায় লইয়া তাহারা বিচারের সম্মুখীন হইতেছেন। অতিতেও এমন হয়েছে। এই সকল ঘটনার উপর দেশ ও বিদেশের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রহিয়াছে, তাহারা গভীরভাবে নজর রাখিতেছে। ফলে এই রকম একটি অবস্থায় আদালতের ন্যায় স্পর্শকাতর জায়গায় গ্রেফতারকৃতদের সহিত কোনোরূপ অন্যায়, অন্যায্য এবং আইনবহির্ভূত আচরণ করা দেশ ও সরকাররের সঠিক ভাবমূর্তির পরিপন্থি হিসাবে গণ্য হইতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সকল কর্মকান্ত দেশের মানুষ কীভাবে গ্রহণ করিতেছে, তাহার চাইতে বরং দৃষ্টি দিতে হইবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইহার কী প্রভাব পড়িতে পারে, কী ধরনের মেসেজ যাইতে পারে তাহার উপর।
ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে ‘মব জাস্টিস’ হিসাবে উল্লেখ করিয়া বলা হইয়াছে, আদালত প্রাঙ্গণে মব জাস্টিস কেন? নিরাপত্তা দিতে না পারিলে অন্য ব্যবস্থা লইয়া তাহাদেরকে আদালতে হাজির করা উচিত। দেশে-বিদেশে প্রথিতযশা কেহ কেহ এই ঘটনায় মন্তব্য করিয়াছেন যে আদালত প্রাঙ্গণে এবং আদালতে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলি উদ্বেগজনক। যে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যায়বিচার প্রাপ্তি যেমন অধিকার, তেমনি তাহার নিরাপত্তা বিধান সরকারের দায়িত্ব। তবে আশার কথা হইল, সরকার এই বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। খোদ অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের কথায় তাহা স্পষ্ট। তিনি বলিয়াছেন যে আদালত চত্বরে যেই হামলা হইতেছে, উহা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নহে। আদালতে যাওয়ার সময় বা নেওয়ার সময় আক্রমণ কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নহে।
সবাইকে এজন্য ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে এর কারণ এটা সারা বিশ্ব দেখে এবং দেখবে, আমাদের সংস্কৃতি আমাদের সভ্যতা আমাদের শিক্ষা আমাদের কালচার। এজন্য সবাইকে নিজের পরিচয় দিয়েই কাজ করে যেতে হবে এবং বিচারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।