রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ও নতুন গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-কর বৈষম্মে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে

বারভিডার সংবাদ সম্মেলন বক্তারা
খোন্দকার জিল্লুর রহমান…
পরিবেশ বান্ধব রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতে সৃষ্ট সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জসমুহ, পরিবেশ বান্ধব রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতে সৃষ্ট সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জসমুহ নিয়ে গতকাল শনিবার (১৪-১২-২০১৯) বারভিডা (বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আবদুল হক সম্মেলনে তাঁর লিখিত বক্তব্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতের সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরেন। নতুন ও পুরনো গাড়ির শুল্ক কাঠামোয় বৈসম্যের ফলে গাড়ি আমদানি ক্রমাগত হ্রাস এবং সরকারের রাজস্ব আয় কমে যাওয়া ও ব্যবসায়িদের আর্থিক ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে বক্তব্য উপ¯’াপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপ¯’াপিত বারভিডার বক্তব্যের অংশ তুলে ধরা হল:
বাংলাদেশের মহান বিজয়ের এই গৌরবময় ডিসেম্বর মাসে আমরা শুরুতেই আমাদের স্বাধীনতার মহান ¯’পতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং সেইসাথে ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে ও ৩ লক্ষ নারী মুক্তিযোদ্ধাকে ; যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশে তাদেরকেও স্মরন করি।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভীইকেল্ধসঢ়;স ইম্পোর্টার্স এন্ড ডিলারস এসোসিয়েশন (বারভিডা) দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন খাতের একমাত্র জাতীয়ভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন।
১/ বারভিডার মোট ৮৫০ এরও বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
২/ এ খাতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।
৩/ বারভিডার সদস্যবৃন্দ দেশের বৃহৎ এক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছেন।
৪/ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে থাকে।
৫/ বারভিডা গত তিন দশকেরও বেশী সময় ধরে দেশের পরিবহন খাতে গাড়ি সরবরাহে প্রায় ৮৫ শতাংশ অবদান রেখে আসছে। প্রতিবছর দেশে বেসরকারি খাতের সিংহভাগ গাড়িই বারভিডা আমদানি ও সরবরাহ করে থাকে।
৬/ বারভিডা সদস্যবৃন্দ প্রত্যেকেই নির্ধারিত আয়কর এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ ভ্যাট প্রদানের মাধ্যমে জাতীয়
অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।

এছাড়াও এ খাতের ব্যবসায়ীগণ মোংলা বন্দর থেকে গাড়ি আমদানির সূচনা করে বন্দরটি প্রতিষ্ঠার প্রায় ৬০ বছর পর একে কার্যকর করে তোলে, এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন, যা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত। ৮০ এর দশক ছিল রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসার সূচনাকাল। ঐ সময় জাপান থেকে মোটরকার, জিপ, স্টেশনওয়াগন, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিক-আপ, কোস্টার, মিনিবাস, ট্রাক, লরিসহ বিভিন্ন প্রকার রিকন্ডিশ/পুরনো মোটরযান বাংলাদেশে আমদানি করা শুরু হয়। সাশ্রয়ী মূল্য, টেকসই প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশের জন্য উপযোগী হওয়াতে জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি গুলি দ্রুততার সাথে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর ফলে সারাদেশে গাড়ি পরিবহন খাতে লক্ষ্যনীয় পরিবর্তন আসে। বাংলাদেশের সড়কে বিভিন্ন ধরনের মোটরযান চলাচলের যে নান্দনিক দৃশ্য দেখা যায় তা এ উপমহাদেশের অন্য কোন দেশে চোখে পড়ে না। জাপানের মানসম্পন্ন রিকন্ডিশন্ড গাড়ির কারনেই
তা সম্ভব হয়েছে। ৮০র দশকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির পাশাপাশি পশ্চাদসংযোগ শিল্প হিসেবে গড়ে উঠে ওয়ার্কশপ ব্যবসা, বিক্রয়োত্তর সেবাকেন্দ্র ; তৈরি হয় দক্ষ প্রকৌশলী, কারিগর ও শ্রমিক। এ খাত ঘিরে হাজার হাজার মানুষের কর্মসং¯’ান হয়েছে। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান ব্যবসার পরিধি নতুন গাড়ির বাজারের তুলনায় বড় হওয়ায় মূল্য সংযোজন কর, রাজস্বে অবদান, কর্মসং¯’ান এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এর অবদান অনেক বেশী। আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত ব্যাপক কর ছাড়াও অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রয় সেবার উপর ভ্যাট, নিবন্ধন ফি ও রোড ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে একটি ব্যাপকভিত্তিক কর ব্যব¯’া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। এছাড়া গাড়ি ব্যবসাকে নির্ভর করে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, বীমা কোম্পানিও সম্প্রসারিত হয়েছে। এভাবে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান বাণিজ্য খাত জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দেশের রাজস্ব ও পরিবহন খাতে বিপুল অবদান রাখা সত্ত্বেও বর্তমানে নানাবিধ বৈষম্য/প্রতিবন্ধকতার কারণে রিকন্ডিশন্ড মোটরযান বাণিজ্য খাত এক নাজুক পরি¯ি’তির মুখোমুখি। যে বিষয়গুলোতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি, সে গুলোর মধ্যে –
ক. রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ক্রমাগতভাবে কমে আসার ফলে ব্যবসায়ীবৃন্দের আর্থিক ক্ষতি, সেই সাথে সরকারের রাজস্ব
আয়ও লক্ষ্যনীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
খ. রিকন্ডিশন্ড ও নতুন গাড়ির শুল্ক কাঠামো এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোন কোন ক্ষেত্রে দ্বিগুন পড়ে যা”েছ। ফলে চাহিদা ও ক্রেতা কমে যাওয়ায় আমদানিও হ্রাস পেয়েছে।
গ. নতুন গাড়ির কোন কোন উৎপাদক/ এসেম্বøার জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলোকে ‘পরিবেশ দূষণকারী’ বলে অভিহিত করছেন যা আসলে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশে বছরে নতুন গাড়ির চাহিদা কত সে বিষয়ে কোন সমীক্ষা না করেই নতুন গাড়ি উৎপাদন/ সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা দরকার। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান বাণিজ্য খাতে আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব হ্রাস ভেলুয়েশান সিষ্টেমএ বড় ধরনের শুল্ক বৈষম্যের কারণে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে সরকারের রাজস্ব হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
হিসাব মতে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে ২৩,০৭৫ টি, যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ১২,৫০২টি। অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি কমেছে মোট ১০৫৭৩ টি। গাড়ি আমদানি হ্রাস পাওয়ায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাজার কোটি টাকার উপরে রাজস্ব কমেছে। আমদানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় বর্তমান ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে আমদানি হয়েছে মাত্র ৩৪৩৮টি গাড়ি এবং রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৮৬.৭৭ কোটি টাকা শুল্কায়ন নিয়ে বৈষম্যমূলক বিধিবিধানের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ভোক্তারা সুলভমূল্যে মানসম্পন্ন গাড়ি কেনা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলেঅনিরাপদ যান নছিমন, করিমন ও ভটভটি খ্যাত গাড়িগুলো অবাধে চলছে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে যা প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার অন্যতম কারন। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ খাতের অনেক আমদানিকারক ও উদ্যোক্তা ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
রিকন্ডিশন্ড মোটরযান শুল্কায়নে স্থায়ী কোন নীতিমালা না থাকায় বছর বছর রিকন্ডিশন্ড মোটরযান শুল্কায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তন হয়ে আসছে। অবচয় হার পরিবর্তনশীল রাখার কারণে আমদানিকারকদেরকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মর্জির উপর নির্ভর করতে হয়। ব্রান্ডনিউ গাড়ি ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে মোট করাপতন (টি টি আই) আরোপে বৈষম্য রয়েছে। একটি জটিল প্রক্রিয়ায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন করা হচ্ছে। আমরা শিল্পের বিপক্ষে নই। আমরা চাই নতুন ও পুরনো গাড়ি নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণীত হোক ; সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হোক।
রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়নের জন্য মূল্য নির্ধারণের সমস্যা
রিকন্ডিশন্ড মোটরযান শুল্কায়নের জন্য মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে ( কাষ্টম ভেলুয়েশান সিষ্টেম ) বৈষম্য এ খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা। জাপান থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ইয়েলো বুক (জাপান সরকারের শিল্প এবং বানিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয় এর অধিভুক্ত এজেন্সি জাপান অটো এপ্রিসিয়েল ইনিষ্টিটিউট(জে এ এ আই) কর্তৃক প্রতিমাসে প্রকাশিত) (পুরাতন গাড়ির মূল্য/ ইউজ কার প্রাইস গাইড বুক) এর নিউ প্রাইস(এন পি) এর উপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য অবচয় বিয়োজনের পর শুল্কের জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অথচ ইয়েলো বুকে পুরনো গাড়ির মাসিক ভিত্তিক বাজার মূল্য বিদ্যমান রয়েছে, যা কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিচ্ছেন না। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান শুল্কায়নে স্থায়ী নীতিমালার অভাব ইয়েলো বুক যখন বাংলাদেশে প্রবর্তিত হয় তখন শুল্কমূল্য নির্ধারণের পূর্বে ট্রেড ডিস্কাউন্ট দেয়া হতো। ইয়েলো বুক ভ্যালু হতে সকল কোড মডেলের গড়মূল্য হতে ডিলার কমিশন ৩০ শতাংশ/ ২৫ শতাংশ/ ২০ শতাংশ/ ১০ শতাংশ (বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম) হারে বিয়োজনপূর্বক অবচয় প্রদান করা হতো। বর্তমানে ট্রেড ডিস্কাউন্ট বলবৎ নেই। শুধুমাত্র ইয়েলো বুকে প্রদত্ত নিউ প্রাইস থেকে ৩৫% অবচয় প্রদান করা হচ্ছে। দু’বছর আগেও অবচয় হার ৪৫% ছিল ; কিন্তুু ক্রমান্বয়ে তা ৩৫% এ এসে ঠেকেছে। বিগত পরপর দু’টি বছরে ৫ শতাংশ করে মোট ১০ শতাংশ অবচয় হ্রাস করা হয়েছে।ট্রেড ডিসকাউন্ট না দিয়ে কেবলমাত্র ৩৫ শতাংশ অবচয় প্রদান করে শুল্কায়ন করার কারণে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে অনুসৃত পদ্ধতিতে ৪/৫ বছরের পুরাতন গাড়ির ক্ষেত্রে অনেক বেশী শুল্ক মূল্য ধার্য্য করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত শুল্ক-কর আরোপিত হ”েছ। অপরদিকে নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের ঘোষিত মূল্য গ্রহন করা হচ্ছে।
ব্রান্ডনিউ গাড়ি ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণে দ্বৈত নীতির কারনে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে বিনিময় মুল্য কিংবা ইয়েলো বুকে উদ্ধৃত পুরনো গাড়ির বাজার মূল্য গ্রহন না করে সেস্থলে ইয়েলো বুকে উল্লেখিত নতুন মূল্য (এন পি) এর ভিত্তিতে শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারন করা হচ্ছে। অথচ, ইয়েলো বুক এর বছরওয়ারী পুরনো মূল্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কমূল্য নির্ধারিত হওয়াই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।নতুন গাড়ি নতুন মূল্যের ভিত্তিতে এবং পুরনো গাড়ি পুরনো মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন করলেই ইয়েলো বুক এর সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তুু শুল্ক কর্তৃপক্ষ নতুন গাড়ির মূল্যের ভিত্তিতেই পুরনো গাড়ির শুল্কায়ন সম্পন্ন করছেন। এর ফলে একই পণ্যের ক্ষেত্রে দ্বৈতনীতি অনুসৃত হচ্ছে, যা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতকে আক্রান্ত করছে। ব্রান্ডনিউ গাড়ি শুল্কায়ন- আগে ব্রান্ডনিউ গাড়ি শুল্কায়নের ক্ষেত্রে কাষ্টম ভেলুয়েসান কর্তৃপক্ষ স্লিপের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করত। ট্রানজাকসান ভেলু এর ভিত্তিতেও শুল্কায়ন করা হতো। বর্তমানে আমদানি কারকদের ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক ও কর আরোপিত হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে তৃতীয় পক্ষ/সরবরাহকারী(প্রস্তুতকারী নয়) কর্তৃক প্রদত্ত মূল্যে নতুন গাড়ির শুল্কায়ন হচ্ছে। এছাড়া ব্রান্ডনিউ গাড়ির ন্যুনতম মূল্য নির্ধারিত নেই, ফলে আমদানিকারক
সুবিধানুযায়ী ইনভয়েসের মাধ্যমে মূল্য ঘোষনার সুযোগ পাচ্ছে। ইয়েলো বুক এর বছরওয়ারী পুরনো মূল্যে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কমূল্য নির্ধারিত হওয়াই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। নতুন গাড়ি নতুন মূল্যের ভিত্তিতে এবং পুরনো গাড়ি পুরনো মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন করলেই ইয়েলো বুক এর সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তুু বাংলাদেশে নতুন গাড়ির মূল্যের ভিত্তিতেই পুরনো গাড়ির শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এ কারণেও রিকন্ডিশন্ড গাড়িরআমদানিকারককে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
ইয়েলো বুকে উদ্ধৃত পুরনো গাড়ির বাজার মূল্যের পরিবর্তে নতুন মূল্য (এন পি) এর ভিত্তিতে শুল্ক মূল্য নির্ধারণের ফলে সৃষ্ট বৈষম্য গাড়ির বিবরণ নতুন মূল্যএর ভিত্তিতে শুল্ক ও কর (বর্তমানে অনুসৃত) পুরনো গাড়ি বাজার মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক ও কর বেশী পরিশোধ করতে হচ্ছে।
গাড়ির বিবরন অনুসারে টয়েটা প্রোভক্স ১৫০০ সিসি,২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ৯.০৫ লাখ টাকা, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৪.২২ লাখ টাকা, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৪.৮৩ লাখ টাকা , ঠিক একই নিয়মে টয়েটা এক্সো এক্স ১৫০০ সিসি, ২০১৪, বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ১১.১২ লাখ টাকা, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৬.৮৮ লাখ টাকা ৪.২৪ লাখ টাকা এক্সো ফিল্ডার১৫০০ সিসি, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ১১.৪৮ লাখ পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৭.৯২ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৩.৫৬ লাখ, টয়েটা প্রিমিও ১৫০০ সিসি, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ১৩.২০ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ১০.৫২ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ২.৬৮ লাখ,টয়েটা এলিয়ন ১৫০০ ঈঈ, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ১৩.১০ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ১০.৪৩ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ২.৬৭ লাখ,টয়েটা নোয়া ২০০০ সিসি, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ২০.০৫ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ১৬.৫৬ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৩.৪৯ লাখ,নিশান এক্স-ট্রায়াল ২০০০ ঈঈ, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ২৮.১৪ লাখ পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ২৬.৭৮ লাখ পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ১.৩৬ লাখ, টয়েটা হারিয়র ২০০০ সিসি, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ৩৭.৬৫ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ টাঃ ৩৩.৭৪ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৩.৮৭ লাখ,টয়েটা হায়েস ২০০০ সিসি, ২০১৪ বর্তমান মুল্যে শুল্ক ও করসহ ১৩.০৮ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৮.৮৩ লাখ, পুরুনো মুল্যে শুল্ক ও কর সহ ৪.২৫ লাখ,ইয়েলো বুকে উদ্ধৃত নতুন মূল্য এর ভিত্তিতে পুরনো গাড়ির শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ এবং ব্রান্ডনিউ গাড়ির মূল্য আমদানি কারকের ঘোষিতমূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ার ফলে সৃষ্ট বৈষম্যের শৃষ্টি হয়।
যেহেতু, ইয়েলো বুক হচ্ছে পুরনো গাড়ির মূল্যের ভিত্তিতেই পুরাতন/রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক ও কর নির্ধারিত হয়, সেহেতু ইয়েলো বুকে প্রদর্শিত (বছরভিত্তিক) বাজার মূল্য (পুরনো গাড়ির গড় খুচড়া মূল্য) থেকে সরবরাহকারী দেশে আরোপিত ১০% বিয়োজনের পর প্রাপ্ত মূল্যের ভিত্তিতে শুল্কায়ন। ইয়েলো বুক হতে সকল কোড মডেলের গড়মূল্য হতে ডিলার কমিশন ৩০ শতাংশ হারে বিয়োজনপূর্বক ৪৫% হারে অবচয় প্রদান পূর্বক শুল্কায়ন।
ব্রান্ডনিউ গাড়ি ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে ভরীবফ শুল্ক ও কর হার নির্ধারন।
ব্রান্ডনিউ গাড়ির ক্ষেত্রে ন্যুনতম মূল্য নির্ধারন। দেশে নতুন গাড়ির শিল্প স্থাপন এবং ৪ দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত রিকন্ডশন্ড
মোটরযান খাতের প্রেক্ষাপট : রিকন্ডিশন্ড মোটরযান ব্যবসার এ নাজুক পরিস্থিঞতিতে এ খাতটি নতুন আর এক চ্যালেঞ্জের মুখোমূখি হচ্ছে। দেশে নতুন গাড়ি কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাক্সারিং পলিসিও প্রনয়নের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক মারফত জানা যায় কয়েকটি নতুন গাড়ি প্র¯‘তকারী বাংলাদেশ গাড়ি এসেম্বিøং করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, বারভিডা এর বিপক্ষে নয় তবে নতুন গাড়ি এবং রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক করের ব্যবধান যুক্তিসংগত ও ন্যায়সংগত করা জরুরি।
সম্প্রতি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়েছে ‘পরিবেশ ধ্বংসকারী ’ হিসেবে। আর এ বক্তব্য কোন পরিবেশবাদী সংগঠন কিংবা সরকারের কোন এজেন্সির পক্ষ থেকে নয়, বরং দেয়া হয়েছে নতুন গাড়ি প্রস্তুুতকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। তারা শুধু রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিরুদ্ধে নয়। সরাসরি গাড়ি প্রস্তুুতকারী দেশ জাপানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। জাপানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণের জন্য। মালয়েশিয়া ভিত্তিক একটি গাড়ি প্রস্তুুতকারী প্রতিষ্ঠান এ ধরণের আত্মঘাতীমূলক অভিমত ব্যক্ত করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। তাদের এ ধরণের বক্তব্য মূলত পরিবেশের জন্য নয় বরং কথিত নতুন গাড়ির প্রতিক্রেতাদের আকৃষ্ট না হওয়ায় হতাশা থেকে বলে বক্তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন আপনারা জানেন, সরকারি-বেসরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা,শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী নির্বিশেষে সকলে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবহার করে থাকে। এমনকি যারা নতুন গাড়ির ব্যবসা করেন তারাও স্বছচ্ছন্দে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবহার করেন। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি দ্বারা পরিবেশ দূষণের বিষয়টি অনেক আগেই নিস্পত্তি হয়েছে। বাংলাদেশে আমদানিকৃত সকল রিকন্ডিশন্ড গাড়ি জাপানের ঐড়সব গড়ফবষ এর মোটরযান।স্বাস্থ্য, পরিবেশ দূষণ রোধ এ সব বিষয়ে জাপান আমাদের চেয়ে বেশি অগ্রসর। সুতরাং রিকন্ডিশন্ড গাড়ি পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে বলে যা বলা হচ্ছে তা অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাপান থেকে যেসব রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হচ্ছে তাতে দূষণ প্রতিরোধকারী
ডিভাইস‘ ক্যাটালাইটিক কনভার্টার’ সংযোজিত থাকে যা ইঞ্জিন থেকে নির্গত দূষিত গ্যাস ফিল্টার করে থাকে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশ দূষণের জন্য শুধুমাত্র রিকন্ডিশন্ড গাড়িকে দায়ী করছে। অথচ রাজধানীর বাতাসে উপস্থিত মাত্রাতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সীসা, নাইট্রোজেন, হাইড্রোকার্বন, সালফার ইত্যাদি জীবজগতের জন্য বশেষভাবে দায়ী। কলকারখানার কালো ধোঁয়া, চামড়া শিল্প, রং কারখানা, রাসায়নিক গবেষণাগার বা পয়ঃশোধনাগার থেকে উৎপন্ন দূষণ সম্পর্কে তারা কিছুই বলছেন না। তাছাড়া বাংলাদেশে নতুন গাড়ি উৎপাদন/ সংযোজনের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। অন্তত বিগত দিনের অভিজ্ঞতা তাই বলে। অপরদিকে দেশের সড়ক পরিবহন খাতে সিংহভাগ অবদান রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খাতের। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের বয়স ৬০ বছর অতিক্রম করেছে, অথচ প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনে যেতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরে থেকে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানি করে এখানে শুধু সংযোজন করে। মালয়েশিয়ার ব্রান্ড প্রোটনের গাড়ি পিএইচপি অটোমোবাইলস এদেশে এসেম্বল শুরু করেছে। দেশে গাড়ি উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণের আগে তাই প্রগতি ও পিএইচপির অবস্থা পর্যলোচনা আবশ্যক। চীন এবং ভারতের মতো সুবিশাল বাজারের পাশে আমাদের মতো ছোট বাজারে গাড়ি উৎপাদন লাভজনক হবে কিনা তা যথযথ সমীক্ষা মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। চীন সারা বিশে^র মোট গাড়ি উৎপদানের প্রায় এক তৃতীয়াংশ তৈরি করে। ভারতের গাড়ি শিল্প বিশাল।
স্বাভাবিকভাবে সেখানে বিদেশী গাড়ি নির্মাতা প্রাতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপনও বাড়ছে। চীনের জনসংখ্যা ১.৩৮৬ বিলিয়ন এবং আয়তন প্রায় ৯৬,০০,০০০বর্গ কিমিঃ এবংভারতের জনসংখ্যা ১,৩৫২,৬৪২,২৮০ এবং আয়তন ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিঃমিঃ। এরপরও ভারতে গাড়ির বাজারে ব্যাপক ধ্বস নেমেছে। অপরদিকে বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিঃ মিঃ এবং জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। বাংলাদেশে বছরে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার গাড়ির বাজার রয়েছে। বিশ^বাজারে রপ্তানির সুযোগ থাকলেও একটা যুক্তি থাকতো। এক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠিত খাতকে বন্ধ করে একটিমাত্র কোম্পানিকে সুযোগ করে দেয়া রাজস্ব প্রাপ্তির বিবেচনায়ও ঝুঁিকপূর্ণ। জাপান থেকে এখন নানা ধরনের প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস, ভ্যান, পিক-আপ, স্পেশাল পারপাস ভীইকেল, ইক্যুইপমেন্ট আমদানি হয়ে থাকে। সাপ্লাই চেইন না থাকায় একক কোন কোম্পানির পক্ষে একসাথে সকল প্রকার গাড়ি ও যানবাহন উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। যে কোন একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিপুল অংকের রাজস্ব প্রদানও সম্ভব হবে না।
রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড ও ইলেক্ট্রিক গাড়ি : বিশ^ব্যাপী পরিবহন জগতে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ঘটছে। জ¦ালানি তেল নির্ভর গাড়ির পর হাইব্রিড গাড়ির আবির্ভাব ঘটে। এ গাড়ি বৈদ্যুতিক ও জ¦ালানি তেলের সমন্বয়ে চালিত যানবাহন। এগুলো পরিবেশবান্ধব ও জ¦ালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর পরপরই বাজারে আগমন ঘটেছে ইলেক্ট্রিক
গাড়ি। ইলেক্ট্রিক গাড়ি সিসিভিত্তিক নয় বরং কিলোওয়াটভিত্তিক, ফলে কিলোওয়াটভিত্তিক নতুন প্রযুক্তির এ গাড়ি শুল্কায়নে বিড়ম্বনার শিকারহতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এ অব¯’ায় জ¦ালানি নির্ভর গাড়ি, হাইব্রিড এবং ইলেক্ট্রিক এ সকল ধরনের মোটরযানের ইঞ্জিন ক্ষমতা একক হিসেবে কিলোওয়াট পড়সসড়হ। সুতরাং কিলোওয়াটকে ইঞ্জিনের ক্ষমতা একক ধরে সকল প্রকার যানবাহন করা হলে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিতর্কের অবকাশ ঘটবে। এমতাব¯’ায় প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে চলার উপযোগী নীতিমালা উদ্ভাবন আবশ্যক। সেজন্য সনাতন পদ্ধতির স্থলে টেকসই ও লাগসই নীতিমালা উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। রিকন্ডিশন্ড মোটরযানের ক্ষেত্রে ভ্যাট আরোপের ক্ষেত্রে কাষ্টোমাইজড্ পদ্ধতি উদ্ভাবন : আমদানি পর্যায়ে বেশী শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারিত হওয়ায় অনেক বেশী ভ্যাট আরোপিত হচ্ছে। মোটরযানের ক্ষেত্রে শুল্কায়ন পর্যায়ে বর্তমানে এ টি ভি এর পরিবর্তে এ টি প্রদান করতে হয়। ভ্যাট আরোপ ও আদায়ের ক্ষেত্রে কাষ্টোমাইজড পদ্ধতি উদ্ভাবন প্রয়োজন।
বারভিডা জাতীয়ভিত্তিক সংগঠন হিসেবে ভ্যাট আদায়ে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। ভ্যাট, ট্যাক্স প্রদায়ী নিবন্ধিত আমদানি কারক কর্তৃক ইস্যুকৃত বিক্রয় রসিদের ভিত্তিতে সরাসরি ক্রেতার নামে গাড়ি নিবন্ধিত হবে। নতুন গাড়ির ন্যায় রিকন্ডিশন্ড গাড়িও বিক্রেতার বিক্রয় রসিদের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন করা হলে গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বৈত নীতির অবসান হবে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি সেক্টর একটি বিশেষায়ীত বাণিজ্য খাত হিসেবে এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ এসআরও জারি করা যেতে পারে। সম্পুরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে জনপরিবহন হিসেবে জনপ্রিয় মাইক্রোবাসকে অনুৎসাহিত করা কেন ? দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে দ্রুত চলাচলে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন ‘মাইক্রোবাস’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্ব¡পূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্পুরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে এর মূল্য বৃদ্ধি ঘটায় মাইক্রোবাস উঠতি মধ্যবিত্ত ও বিনিয়োগ কারীদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। ফলে বিনিয়োগটি লাভজনক হ”েছ না, এবং অনেকে পুরনো গাড়ি যেমন তেমনভাবে মেরামত করে চালাতে বাধ্য হচ্ছে। শুল্ক সুবিধা প্রাপ্ত হিউম্যান হলার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুল্ক কর অব্যাহতি প্রাপ্ত সেচপাম্পের ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা নির্মিত নসিমন/করিমন নামে অভিহিত বিপদজনক যানবাহন চলার পথ সুগম হয়েছে। এধরণের যান সড়ক দূর্ঘটনার অন্যতম কারন। মাইক্রোবাসকে স্বাশ্রয়ী করা হলে নিরাপদ/ টেকসই যান প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।আমদানিকৃত গাড়ির মান নির্ধারণের স্টান্ডারাইজেশনঃ দেশে গাড়ি আমদানির বিষয় তদারকি বিষয়ক কোন এজেন্সি নেই। ফলে মানহীন গাড়ির অবাধ আমদানি ঘটছে যা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করছে। যাতে নি¤œমানের অথবা মানহীন গাড়ি আমদানি হতে না পারে সে লক্ষ্যে স্টান্ডারাইজেশন এজেন্সি ¯’াপনে সরকারের নিকট প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। সিকেডি আমদানি : মোটরযান বিদেশ থেকে খোলা অবস্থায় (সিকেডি) আমদানি করার পর সংযোজনের ক্ষেত্রে শুল্ক রেয়াতের বিধান রয়েছে।কন্তুু এতে লোকাল সাপ্লাই চেইনের ভূমিকা নেই, এ ক্ষেত্রে ভ্যালু এডিশন হয় না।
চার দশক ধরে গড়ে ওঠা সুপ্রতিষ্ঠিত এ খাতটি নানা প্রতিকুলতার মুখোমুখি। শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ ও শুল্ক-কর আরোপে নানাবিধ বৈষম্যর কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় কমেছে। ভ্যাট ও ট্যাক্স আরোপে যৌক্তিক পদ্ধতি অনুসৃত না হওয়ায় এ ব্যবসায় জটিল পরিস্থিতি বিরাজমান। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান সংশ্লিষ্ট নীতিসমূহ বহুলাংশে ব্যবসাবান্ধব না হওয়ায় খাতটি ক্রমশ রুগ্ন হয়ে পড়ছে। আমরা নতুন গাড়ির শিল্প ¯’াপনের বিপক্ষে নই। তবে মনে রাখতে হবে উন্নত বিশ্বে, এমনকি নতুন গাড়ি উৎপাদক জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অন্যান্য দেশেও নতুন গাড়ির চেয়ে পুরনো গাড়ির বাজার অনেক বড়।
সবশেষে বিনিয়োগ, বিপুল কর্মসং¯’ান, সরকারের রাজস্ব তথা দেশের অর্থনীতি জড়িত সেখানে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক বিধানগুলো দূর করে দেশের বিপুল সংখ্যক ক্রেতার স্বার্থ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি ও বিপণন বাণিজ্য শক্তিশালী করার জন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহব্বান জানিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বক্তব্যশেষ করেন বারভিডার প্রেসিডেন্ট আবদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বারভিডার কার্যনির্বাহী সদস্য এস.এম. আনোয়ার সাদাত ভাইস প্রেসিডেন্ট ১, মোহাঃ সাইফুল ইসলাম (স¤্রাট) ভাইস প্রেসিডেন্ট ২, মোঃ জসিম উদ্দিন মিন্টু ভাইস প্রেসিডেন্ট ৩, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম সেক্রেটারি জেনারেল এম. এ. হাসিব (হাসনু) জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, ট্রেজারার মোঃ সাইফুল আলম, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. হাবিবুর রহমান খান, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি, বেনজির আহমেদ, কালচারাল সেক্রেটারি আবু হোসেন ভূইয়া (রানু), কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য সৈয়দ জগলুল হোসেন, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য মোঃ জিয়াউল ইসলাম, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য কাউছার হামিদ, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য মোঃ আসলাম সেরনিয়াবাত, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুল আওয়াল, কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন মোঃ বাবর চৌধুরী প্রমুখ।