শেষ আশ্রয় কি বৃদ্ধাশ্রম

খোন্দকার জিল্লুর রহমান :
সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলে তুমি
তোমার জন্মে প্রাণ পেয়েছি, বাবা-মা আর আমি।
তোমার মায়ের ছিলনা জ্ঞান প্রসব ব্যাথায় জানি
জ্ঞান ফেরাতে হহ্নে হয়ে ডাক্তার ডেকে আনি।
পরিবারের সবাই খুশি তোমার জন্মের পরে
মিষ্টি খাওয়ার ধুম পড়ে যায় আমাদেরই ঘরে।
উৎসবেতে মেতে উঠে তোমায় বরন করে
হেফাজতে রাখবেন আল্লাহ যেন সবাই দোয়া করে।
তোমার মায়ের দীর্ঘ কষ্ট ভুলেই গেল তখন
চোখ মেলে আর জ্ঞান ফিরিয়ে তোমায় পেল যখন।
কষ্ট যে সব ভুলেই গেল তোমায় কোলে নিয়ে
সৃষ্টিতে সে স্বার্থক হল বুকের দুধ পিয়ে।
নারী হয়ে জন্ম নিয়ে স্বার্থক হলাম আমি
সন্তানকে যেন সুখি করে রাখেন অন্তর্জামি।
দু-হাত তুলে খোদার কাছে করছে অঙ্গিকার
সন্তান যেণ সুস্থভাবে পাবে বাঁচার অধীকার।
দীর্ঘ সাধনায় ছেলেকে যখন করল সফল মানুষ
ছেলে তখন অন্যের প্রেমে হয় যে পুরো বেহুস।
বাদানুবাধ যাই থাকুক আর সব উপেক্ষা করে
যুদ্ধকরে হলেও তাকে আনল নিয়ে ঘরে।
সুখের ঘরে লাগল আগুন মনের মাঝে কষ্ট
আল্ট্রা মডার্ণ মেয়ের জন্যে সুখের সংসার নষ্ট।
বাবা-মায়ের দিকেই মেয়ের নেইকো কোন দৃষ্টি
সংসারেতে এসেই করল এ কি অনা সৃষ্টি।
ছেলেকে তার একাই চাই মা-বাবাকে নয়
করবে পৃথক একটা ই পন যেমন করেই হয়।
অবশেষে বাধ্য ছেলের পাল্টে গেল সুর
বউয়ের স্বার্থে মা-বাবাকে রাখল বহুদুর।
ছেলের সুখে সুখি হয়ে সবকিছু ত্যাগ করে
স্ব-ই”ছাতেই চলে গেলেন বেশকিছু দিন ধরে।
হটাৎ করে খবর আসে বাবা যে আর নাই
নিরব মনে করিয়ে নিলেন পরপারের ঠাই।
সঙ্গীহারা বৃদ্ধা তখন থাকেন একা একা
মনে মনে ই”ছা হলেও পায়না ছেলের দেখা।
ছেলে তখন এতই ব্যাস্থ’ ছেলের বউকে নিয়ে
মা তনই সুখি হলেন বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে।
দু-মাস পরে ছেলে যখন দেখতে আসে মায়ের কাছে
তবুও মা জিজ্ঞেস করেন বাবা বউমা কেমন আছে।
কষ্ট মানিয়ে যদিও মায়ের বৃদ্ধাশ্রমেই বাস
সন্তান যেন সুখে থাকেন দোয়া দিবেন বার মাস।
বিদায় নিয়ে মায়ের থেকে ছেলে যখন যায়
ছেলের পথে মা যে থাকেন দাড়িয়ে জানালায়।
ছেলের বিদায় কালে বৃদ্ধ মায়ের মন করে আস পাস
তবুও পেছন থেকে ডেকে বলেন বাবা,দেখে শুনে যাস।
এমনি করে কদিন পরে মাও গেলেন পরপারে
বউমার তখন একলা ঘরে হয় সুখের বসবাস।
তাই বৃদ্ধরা সব দোয়া করে থাকেন যেন অকাতরে
সব পরিবার হয় যে ন গো সুখের স্বর্গে বাস।