সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেল ১২ ব্যক্তি ও দুই প্রতিষ্ঠান

অর্থনীতির ৩০ দিন প্রতিবেদক :
বছরের সেরা সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বিভাগে বিজয়ী হয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রুহুল মতিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় -সমকাল
বিভিন্ন ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় ১২ উদ্যোক্তা ও দুই প্রতিষ্ঠান সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কারের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপারসন রোকেয়া আফজাল রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংক এনএ বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসার এন. রাজাশেকারান (শেখর), সাজেদা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদা ফিজ্জা কবির, ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরামের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুল আউয়ালসহ বিশিষ্টজনেরা।
সিটি ফাউন্ডেশন ১৩তম বারের মতো এ পুরস্কার প্রদান করে।
চারটি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের প্রত্যেককে ক্রেস্ট ও অর্থ মূল্য তুলে দেন অতিথিরা। উদ্যোক্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভাগে বিজয়ীকে পুরস্কার হিসাবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। বাকি তিন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীরা প্রত্যেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে পেয়েছেন। এছাড়া প্রত্যেক কাটাগরিতে প্রথম রানার-আপ দেড় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার-আপ পেয়েছেন এক লাখ টাকা করে।
বছরের সেরা সৃজনশীল ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বিভাগে বিজয়ী হয়েছে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ও বছরের সেরা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা হয়েছে মমতা। সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রুহুল মতিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এবার শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুরের মাসুমা খানম। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন পাবনার আটঘরিয়ার মো. সিরাজুল ইসলাম ও দ্বিতীয় রানার-আপ মো. সলিম উদ্দিন। শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন ফরিদপুরের টেপাখোলার খালেদা আক্তার, প্রথম রানার-আপ হয়েছেন বগুড়ার শিবগঞ্জের মিলি খাতুন ও দ্বিতীয় রানার-আপ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের জাকিয়া আফরিন মুক্তা। শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মো. শাহিনুর রহমান। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন মেহেরপুরের মুজিবনগরের সাহিদা খাতুন ও দ্বিতীয় রানার-আপ ঢাকার উম্মে শায়লা রুমকী।
শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্র কৃষি উদ্যোক্তা হয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার মো. সাইফুল্লাহ গাজী। প্রথম রানার-আপ হয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের বিউটি বেগম ও দ্বিতীয় রানার-আপ রাঙ্গামাটির তবলছড়ির শ্যামল বসু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সব চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র শ্রেণির ব্যক্তিরা। যদিও তারা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের মানবকল্যাণমুখী সংগঠন সিটি ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সিটি ব্যাংক এনএ ছাড়াও সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) উদ্যোগে সহায়তা করে। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে অবদান রাখছে তার স্বীকৃতি প্রদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা এ পুরস্কারের প্রধান লক্ষ্য।