আমরা কবে মানুষ হবো?

জুবায়ের জুবিলী
সেদিন নিকষ রাত ছিলো,
সঙ্গবদ্ধ দৈত্যের দল জোরপূর্বক
করেছিল গৃহে অনুপ্রবেশ,
স্বামী বেচারা ঠেকাতে পারেনি তাদের,
ওরা তাকে বেঁধে ফেলে-
জোড়ালো গিটে,
ঝাঁপিয়ে পড়ে তার উপর-
হায়নার মতো,
কতো করেছিলো আর্তচিৎকার,
বিদীর্ণ হয়েছিলো রাতের নিস্তব্ধতা-
কেউ….এগিয়ে আসেনি,
কতো আকুতি করেছিল ওদের,
“ওরে আল্লারে” “ওরে বাবারে”
তোর আল্লাহর দোহাই লাগে ছাড়িদে”
তবু হয়নি রহম তাদের বুকে,
তারা অমানুষ তারা কুত্তার দল।
বুঝতে পারছিলো সে-
কি হতে যাচ্ছে তখন,
শেষ চেষ্টা করছিলো প্রাণপণ মুক্তির,
অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিলো দুচোখ বেয়ে,
খুবলে খুবলে খায় তার সারাটা শরীর,
পড়ে থাকে অচেতন দীর্ঘ সময়,
জানোয়ারগুলো করলে প্রস্থান-
স্বামী তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে অবিরাম,
চোখের জল গড়িয়ে পড়ে বিধ্বস্থ মুখে,
জেগে উঠে জলের ফোঁটায়,
লাল রক্তচোখে তাকায়,
ভয়ার্ত স্বরে বলে-“হেতারা কি গেছে?”
বলে- “হ গেছে গুই”
স্বামী তার কাঁদে আর মাথা ঠুকরায়,
চিৎকার দিয়ে উঠে-“আমাগো সব শেষ”
“হেতাগরে আল্লায় বিচার কইরবো”
সীমাহীন ঘৃণা আর বেদনায়-
স্রষ্ঠার কাছে দেয় অভিশাপ।
বলি-আমরা কবে মানুষ হবো?